সংবাদদাতা, কাঁথি: সৈকতশহর দীঘার হোটেলগুলিতে ট্যুরিস্ট সিভিক অ্যামিনিটিজ চার্জ(টিসিএসি) বা পর্যটন কর আদায়ের ক্ষেত্রে এবার আরও কড়া পদক্ষেপ করছে জেলা প্রশাসন। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ট্যাক্স না নিলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শনিবার বিকেলে দীঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন সংস্থার সভাকক্ষে(জাহাজবাড়ি) হোটেল মালিকদের নিয়ে এক বৈঠকের পর এই বার্তা দেন জেলাশাসক পূর্ণেন্দু মাজী। কয়েকদিন আগে ট্যাক্স না দেওয়ায় তিনটি হোটেলে পর্যটকদের বের করে তালা লাগিয়ে দিয়েছিল উন্নয়ন সংস্থা। এনিয়ে যথেষ্ট শোরগোল হয়। তারপর এদিনের এই বৈঠক।
জানা গিয়েছে, ওল্ড ও নিউ দীঘা মিলিয়ে প্রায় দু’হাজারেরও বেশি হোটেল-লজ রয়েছে। যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত বেশকিছু হোটেলে-লজের টিসিএসি বাকি রয়েছে। বারবার নির্দেশিকা পাঠানোর পর ওই হোটেলগুলির কর্তৃপক্ষ টিসিএসির টাকা মেটায়নি। গত বুধবার রাতে ওল্ড দীঘার তিনটি হোটেলে উন্নয়ন সংস্থা তরফে তালা লাগানো হয়। এনিয়ে উন্নয়ন সংস্থার কর্তাদের হোটেলমালিকদের ক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পরে জেলাশাসকের নির্দেশ মেনে ওই তিনটি হোটেলের তালা খুলে দেয় উন্নয়ন সংস্থা। এদিনের বৈঠকে ট্যাক্স আদায় নিয়ে কড়া মনোভাবের কথা জানান জেলাশাসক। শেষমেশ হোটেলমালিক সংগঠনকে সমস্ত হোটেল থেকে এই ট্যাক্স আদায়ের দায়িত্ব অর্পণ দেন তিনি। পাল্টা হোটেলমালিক সংগঠনের তরফেও সংস্থার কাছে দীঘার বেশকিছু এলাকার রাস্তাঘাট সংস্কার ও নিকাশি ব্যবস্থার সমাধানের দাবি তুলে ধরে হোটেলমালিক সংগঠন। দীঘা-শঙ্করপুর হোটেলিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সম্পাদক বিপ্রদাস চক্রবর্তী বলেন, আমরা এক সপ্তাহের মধ্যে নিজেরাই সমস্ত ট্যাক্স সংগ্রহ করে উন্নয়ন সংস্থার কাছে জমা দেব। রাস্তাঘাট ও নিকাশি সংস্কার নিয়ে উন্নয়ন সংস্থার তরফে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি হোটেলে তালা লাগানোর ঘটনা নিয়েও এদিন সংস্থার আধিকারিকদের কড়া বার্তা দেন জেলাশাসক। সেদিনের ঘটনা নিয়ে জেলাশাসকের কাছে ভুল স্বীকারও করেছেন আধিকারিকরা।
জেলাশাসক বলেন, ওইদিনের ঘটনা আমার নজর এড়িয়ে হয়েছে। অনুমতি না নিয়ে এই ধরনের ঘটনা আগামী দিনে যাতে না ঘটে তারজন্য নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়াও হোটেলগুলি এক সপ্তাহের মধ্যে ট্যাক্স জমা না করলে আইনানুগ পদক্ষেপ করা হবে।