সৌম্যজিৎ সাহা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: রাজ্যের প্রথম মহিলা বিশ্ববিদ্যালয় ‘অভিভাবকহীন’। মাসখানেক আগে অস্থায়ী উপাচার্য পদত্যাগ করেছেন। কিন্তু তারপর ডায়মন্ডহারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য হিসেবে কাউকে দায়িত্ব দেয়নি উচ্চ শিক্ষাদপ্তর। যার ফলে নানা ধরনের কাজ আটকে রয়েছে। দৈনন্দিন কাজ ছাড়া অন্য বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ। এছাড়াও, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে গত ছ’বছর ধরে সমাবর্তন হয়নি। ফলে প্রতিবছরই জমছে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণদের সার্টিফিকেট। স্থায়ী উপাচার্য না পেলে সমাবর্তন করা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এতে আখেরে সমস্যায় পড়ছেন সাধারণ ছাত্রীরা।
জানা গিয়েছে, রেজিস্ট্রার যেটুকু সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকারী সেটুকু নিয়েই চলছে বিশ্ববিদ্যালয়। মূলত এখন উপাচার্য না থাকার ফলে অধ্যাপক ও শিক্ষাকর্মীদের পদোন্নতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত বকেয়া হয়ে রয়েছে। পিএইচডির যাবতীয় ইন্টারভিউ আটকে। কোনও কাজ করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগজিকিউটিভ কাউন্সিলের (ইসি) মিটিং ডাকতে হয়। কিন্তু উপাচার্য নেই বলে সেটা হচ্ছে না। এছাড়াও নানা আর্থিক বিষয়ের সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিগত কয়েক বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনও স্থায়ী উপাচার্য ছিল না। অস্থায়ীভাবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপককে এই পদে বসানো হয়েছিল। তার জন্যই বিগত ছ’বছর এই অনুষ্ঠান করা যায়নি। সূত্রের খবর, স্নাতক ও স্নাতকোত্তর মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় তিন হাজারের মতো সার্টিফিকেট বণ্টন করা বাকি রয়েছে। অধ্যাপকদের মতে, চাকরি বা উচ্চ শিক্ষার জন্য আবেদন করতে গেলে এই সার্টিফিকেট প্রয়োজন। মাঝেমধ্যেই ছাত্রীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সার্টিফিকেট চেয়ে দরবার করছেন, কিন্তু কর্তৃপক্ষ একপ্রকার নিরুপায়। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে রাজ্যের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ করা হয়েছে। এই মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে কবে শিকে ছিড়বে সে দিকেই তাকিয়ে অধ্যাপক থেকে ছাত্রীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সৈয়দুর রহমান বলেন, আমরা উচ্চ শিক্ষাদপ্তরের কাছে চিঠি দিয়ে ইসি বৈঠক ও সমাবর্তন করার অনুমতি চাইব।