Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাসপুর ১ ব্লকে আজ শুরু হচ্ছে ধর্মরাজের মেলা, চলবে চারদিন

আজ বুধবার ভোর থেকে দাসপুর-১ ব্লকের বলিহারপুরে শুরু হচ্ছে ধর্মরাজের মেলা। মেলাটি চার দিন ধরে চলবে।

দাসপুর ১ ব্লকে আজ শুরু হচ্ছে ধর্মরাজের মেলা, চলবে চারদিন
  • ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: আজ বুধবার ভোর থেকে দাসপুর-১ ব্লকের বলিহারপুরে শুরু হচ্ছে ধর্মরাজের মেলা। মেলাটি চার দিন ধরে চলবে।   মেলাটি ৩০০ বছরেরও বেশি পুরানো। দাসপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকুমার পাত্র বলেন, এটি পশ্চিম মেদিনীপুরের অন্যতম বৃহত্তম কৃষি মেলাও বলা যেতে পারে। প্রত্যেক বছর ওই মেলার প্রথম দিনে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হয়। চার দিনের হিসেব ধরলে সেই সংখ্যা বেশ কয়েক লক্ষ ছাড়িয়ে যাবে।

Advertisement

দাসপুর গঞ্জ থেকে সাগরপুর-দাসপুর সড়কের দু’দিকে মেলাটি বসে। মেলাটি মূলত কৃষি কাজ ও মাছ ধরার জন্য ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি বেশি বিক্রি হয়। সেই সঙ্গে প্রচুর পরিমাণ চা গাছ বিক্রির স্টল আসে। পাশাপাশি খাবারের দোকান এবং স্টেশনারি জিনিসপত্রের স্টলও প্রচুর থাকে বলে জানা গিয়েছে। কমিটির কর্মকর্তাদের মধ্যে ইন্দ্রজিৎ সামন্ত,   তপন মান্না প্রমুখ বলেন, বেচাকেনা ভাল জমে বলে বহু দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতা বিক্রেতারাও আসেন। 
খাতা কলমে ধর্মরাজের মেলা হলেও মেলায় আগত দর্শনার্থী ও ক্রেতারা এই মেলাটিতে গেঁড়িবুড়ির মেলা হিসেবেই জানেন। এই মেলার একটি প্রাচীন ইতিহাস রয়েছে। মেলাটি পরিচালনা করে ওই গ্রামের পণ্ডিত পরিবারের তিন সদস্য জয়দেব পণ্ডিত, বাসুদেব পণ্ডিত এবং শুকদেব পণ্ডিত পর্যায় ক্রমে ওই মেলাটি পরিচালনা করেন। ওই পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা যায়, বেশ কয়েক পুরুষ আগে ওই পরিবারের কোনও সদস্যের স্বপ্নাদেশ হয়। সেই স্বপ্নাদেশে এক দেবী জানান, তিনি পাশের গ্রাম শিমুলিয়ার মজুমদার দীঘির জলের মধ্যে রয়েছেন। প্রায় সাড়ে ৩০০ বছর আগে স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরই শিমুলিয়ার দীঘি থেকে তুলে আনেন ১৮টি ঠাকুরের মূর্তি।  তার মধ্যে দেবীদুর্গার মূর্তিটি কালো-কালো গেঁড়ি তথা গুগলি দ্বারা আবৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তাই সেই থেকে গেঁড়িবুড়ি নামটাই রয়েছে। সেই সঙ্গে একটি প্রদীপও পাওয়া যায়। ওই সময় থেকেই গেঁড়িবুড়ির আরাধনা শুরু হয়। গেঁড়িবুড়ির পাশাপাশি ওই  মন্দিরে রয়েছে ধর্মরাজ, কালী, বিশালাক্ষী, শীতলা, মনসা, পঞ্চানন্দ, মঙ্গলচণ্ডী-সহ অন্যান্য দেবদেবী।  তাদেরও নিয়মিত পুজো হয়।
গেঁড়িবুড়িকে পুকুর থেকে উদ্ধার করার পর যে পুজোর সূচনা হয়েছিল সেই সময় থেকে কিন্তু ওখানে কোনও মেলা হত না। ‘ওলে ফুটে বোল’, এলাকার মানুষের দাবি, ওল দিয়ে মানত করলে কথা না বলা বাচ্চার মুখে বোল ফোটে, ভালো হয় চামড়ার নানান রোগ। এই ভাবে মানতকারীরা সুফল পাওয়ার ফলে দেবমাহাত্ম্যা ছড়িয়ে পড়ে মুখে মুখে। বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে থাকা মানুষ দূরদূরান্ত থেকে  আসতে শুরু করেন। অনুমান, তারপর হয়তো পুজো দিতে আসা মানুষদের জনসমাগমেই প্রায় গেঁড়িবুড়িকে পুকুর থেকে তুলে আনার ৫০-৬০ বছর পর থেকে মেলার সূচনা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ