সুখেন্দু পাল, বর্ধমান:
সুখেন্দু পাল, বর্ধমান:
বাঙালির উৎসবের তালিকায় অনেক আগেই ঠাঁই করে নিয়েছে ধনতেরস। এই দিনে দামি ধাতু কেনাও রেওয়াজ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের কাছে। দাম যতই ঊর্ধ্বমুখী হোক না কেন, সোনার অলংকার কেনার জন্য আগে থেকেই টাকা জমিয়ে রেখেছিলেন অনেকেই। ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের চাহিদা বোঝেন। তাঁরাও বিভিন্ন ধরনের সোনার গয়না তৈরি করে রেখেছিলেন। অল্প ধাতু দিয়ে তৈরি গয়না নাগালের মধ্যে রাখা হয়। যাঁদের সামর্থ্য নেই, তাঁরা রুপোর গয়না কেনার দিকে ঝুঁকছেন। কেউ কেউ আবার কাঁসার থালা-বাসন কেনাও শুভ বলে মনে করেন। অনেকেই বিশ্বাস করেন, এদিন স্বয়ং লক্ষ্মীদেবী ভক্তদের ঘরে প্রবেশ করেন। সম্পদের দেবতা কুবেরও এদিন পূজিত হন। এদিন কোনও কিছু কেনা হলে লক্ষ্মীদেবী প্রসন্ন হন। সেই বিশ্বাসে ভর করেই এদিন কেনাকাটা করা হয়।
সর্বমঙ্গলা মন্দিরের প্রধান পুরোহিত অরুণ ভট্টাচার্য বলেন, ত্রয়োদশী তিথি খুব শুভ দিন। এদিন সম্পদের জন্য প্রার্থনা করা হয়। সোনা, রুপো বা অন্য কোনও ধাতু কেনার চল বহুদিনের। তবে এই প্রথা আগে অন্য রাজ্যগুলিতে বেশি ছিল। এখন আমাদের রাজ্যেও তা ধুমধাম করে পালিত হয়। যে যার সাধ্যমতো কেনাকাটা করেন। ধনতেরসের আরেক নাম ধনাত্রয়োদশী। ব্যবসায়ীদের কাছে এই দিনটির তাৎপর্য অনেক বেশি। ব্যবসায়ীরা বলেন, ধনদেবী প্রসন্ন হয়েছেন বলেই সোনা কিনে অনেকে লাভবান হয়েছেন। আগে যাঁরা সোনা কিনে রেখেছিলেন, তাঁরা অনেক লাভবান হয়েছেন। ধনতেরসের দিন ধাতু কিনে কেউ লোকসানের মুখে পড়েন না। তবে অনেকে ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্রও কেনেন। মিষ্টি ব্যবসায়ী নভোনীল কোনার বলেন, ধনতেরসের গুরুত্ব অন্য রকম। অনেকদিন ধরেই কেনাকাটা করি। ধাতুর দাম বাড়লেও অল্প পরিমাণ কিনতেই হবে। আরেক ব্যবসায়ী বলেন, ১০ বছরের বেশি সময় ধরে সোনা, রুপোর অলংকার কিনে আসছি। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।
ব্যবসায়ীরা বলেন, সোনার দাম লাফিয়ে বেড়েছে। তবে ধনতেরাসের দিন অনেকেই সোনা কেনেন। সেইমতো পসরা সাজানো হয়েছে। এছাড়া, অন্য ধাতুর তৈরি বিভিন্ন ডিজাইনের গয়নাও ক্রেতাদের জন্য তৈরি করে রাখা হয়েছে। অনেকেই বলছেন, আগে বাঙালিরা লক্ষ্মীপুজোর পর দীপাবলির জন্য দিন গুনত। এখন তারমাঝে এসেছে ধনতেরস। বর্ধমান শহরে বহু প্রাচীন সোনার দোকান রয়েছে। এখানকার ‘সোনাপট্টি’ অন্যতম জনপ্রিয় এলাকা। এখন বিভন্ন সংস্থা শোরুম খুলে বসেছে। প্রতিযোগিতার দৌড়ে তারা অনেক এগিয়ে রয়েছে। কিন্তু শহরের বাসিন্দাদের কাছে ওই সোনাপট্টির দোকানগুলির গুরুত্ব কমেনি। ধনতেরসের দিন এই দোকানগুলিতেও ক্রেতারা ভিড় করেন। তবে নামী সংস্থার বিপণীগুলি সবচেয়ে বেশি জমজমাট। জেলার বাসিন্দারা বলেন, অনেকে ধাতু বা ইলকট্রনিক্স সামগ্রী ছাড়াও অন্যান্য সামগ্রী কেনেন। শুধু শহর নয়, গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যেও এই প্রবণতা বেড়ে গিয়েছে। বর্ধমান শহরের ব্যবসায়ী রাজীব ভৌমিক বলেন, ভালো কিছু হওয়ার আশাতেই এদিন কিছু না কিছু কিনে বাড়ি ফিরি। অল্প সোনা দিয়ে তৈরি অলংকার কিনেছি। ধনদেবীর প্রতি বিশ্বাস, ভরসা রয়েছে। এদিন লক্ষ্মীদেবীর আরাধনাও করি।