Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দীপান্বিতা অমাবস্যায় সতীপীঠ কিরীটেশ্বরী মন্দিরের শ্যামা মায়ের আরাধনা ভক্তদের

সোমবার দীপান্বিতা অমাবস্যায় সতীপীঠ কিরীটেশ্বরী মন্দিরের শ্যামা মায়ের আরাধনা ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়।

দীপান্বিতা অমাবস্যায় সতীপীঠ কিরীটেশ্বরী মন্দিরের শ্যামা মায়ের আরাধনা ভক্তদের
  • ২১ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, লালবাগ ও কান্দি: সোমবার দীপান্বিতা অমাবস্যায় সতীপীঠ কিরীটেশ্বরী মন্দিরের শ্যামা মায়ের আরাধনা ঘিরে ব্যাপক উন্মাদনা লক্ষ্য করা যায়। এদিন সকাল থেকে ভক্তরা দলে দলে আসতে শুরু করেন। দুপুরের পর থেকে শুরু হয় মায়ের পুজো। সারাদিনের পুজো পাঠের পর নিশিপুজোর অপেক্ষায় প্রহর গুনতে দেখা যায় অগুনিত ভক্তকে। মায়ের আরাধনার পাশাপাশি মানত ও মনষ্কামনা পূরণের পুজো দেওয়ার জন্য বহু মানুষের সমাগম হয় এই কিরীটেশ্বরী মন্দিরে।

Advertisement

নবগ্রাম থানার কিরীটেশ্বরী মৌজায় অবস্থিত এই মন্দির। ৫১ পীঠের এক পীঠ এই কিরীটেশ্বরী। মনে করা হয় সতীর কিরীট কণা এখানে পড়েছিল বলে এই মন্দিরের দেবীকে কিরীটেশ্বরী বলা হয়। এক সময় ওই  এলাকায় বৌদ্ধদের জনপদ থাকায় ওই মন্দিরে বৌদ্ধ নিদর্শন মেলে। গবেষকরা মনে করেন,  বাংলা ১১০৪ সনে এই মন্দির নির্মাণ করেন নাটোরের রানি ভবানী। মন্দিরের নির্মাণ শৈলীতেও বৌদ্ধ, ইসলাম ও হিন্দু সংস্কৃতির মিশেল থাকায় অচিরেই কিরীটেশ্বরী মন্দির ঘিরে সম্প্রীতির মেলবন্ধন তৈরি হয়েছে। দীপান্বিতা অমাবস্যার পাশাপাশি কৌশিকী অমাবস্যা ও দুর্গাষ্টমীতে মহা ধুমধামে পুজো হয়। এই মন্দিরের সেবাইত এবং প্রধান পুরোহিত দিলীপ ভট্টাচার্য বলেন, এখানে মায়ের নিত্যপুজো হয়। তবে কালীপুজোয় ভক্তদের ভিড় থাকে নজরকাড়া। প্রাচীন রীতি মেনে সন্ধ্যা আরতির পর মূল পুজো হয়। রাত সাড়ে ১২টায় নিশিপুজোর পর বলি ও ভোগ নিবেদন করা হয় মাকে। ভোগে থাকে ডাল, ভাত, পোলাও, পায়েস ও মাছ। 
গত রবিবার ভূত চতুর্দশীর সন্ধ্যায় নদীয়ার কৃষ্ণনগর থেকে কিরীটেশ্বরী মন্দিরে আসেন অসিত মিত্র, রেজিনগর  থেকে এসেছিলেন নবারুণ ভট্টাচার্য, অজয় মিশ্ররা। তাঁদের  দাবি, বছরের অন্য সময় তাঁরা কিরীটেশ্বরী মন্দিরে আসেন।  তবে কালীপুজো উপলক্ষ্যে এবারই তাঁরা প্রথম এসেছিলেন। ২০২৩ সালে দেশের সেরা পর্যটন গ্রাম হিসেবে কেন্দ্রের পর্যটন মন্ত্রক কিরীটেশ্বরী গ্রামকে শিরোপা প্রদান করে। এই সম্মানপ্রাপ্তির পর ভক্ত সমাগম কয়েক গুন বেড়েছে বলে মানছে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে মন্দির কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, সোমবার কান্দির দোহালিয়া গ্রামের দক্ষিণাকালী দেবীকে গ্রাম্যদেবী হিসেবেই পুজো করলেন ১ হাজার ৭০০টি পরিবার। দেবীকে পরানো হল সাড়ে তিন কিলোগ্রাম ওজনের সোনা ও চাঁদির গয়না। দক্ষিণা কালী দেবী সম্পর্কে জনশ্রতি, বহু বছর আগে এই এলাকা ঘন জঙ্গলে পূর্ণ ছিল। ময়ূরাক্ষী তীরবর্তি দোহালিয়া গ্রামে ছিল ডাকাতদের দাপট। গ্রামের নামটিও দহ থেকে দোহালিয়া হয়েছে বলে বাসিন্দারা জানান। এমনকী, দক্ষিণা কালী মন্দিরের সঙ্গে নাম জুড়েছে বাংলার রাজা লক্ষ্মণ সেন ও বল্লাল সেনের। 
মন্দিরের পুরোহিতদের সূত্রে জানা গিয়েছে, কোনও এক সময় এখানে কোনও সাধক তপস্যা করছিলেন। তাঁর তপস্যা ভঙ্গ করতে দেবী মা ব্যঘ্ররূপে দেখা দিয়েছিলেন। এরপর থেকে ব্যঘ্ররূপী দেবী দক্ষিণা কালী এখানে পুজিত হয়ে আসছেন। তবে দোহালিয়া গ্রামে এখন লক্ষ্মী, সরস্বতী এমনকী দেবী দুর্গার একাধিক পুজো হয়। কিন্তু রীতি অনুযায়ী এই গ্রামে দীপান্বিতা কালী প্রতিমার পুজো হয় না। মন্দিরের পুরোহিত প্রকাশ চট্টোপাধ্যায় বলেন, দক্ষিণা কালীকে সম্মান জানানোর জন্যই গ্রামে কোনও কালী প্রতিমার পুজো হয় না। তবে এদিন গ্রামের প্রতিটি পরিবার দক্ষিণা কালীকেই গ্রাম্যদেবী হিসেবে পুজো করেছেন। সন্ধ্যা সাতটার পর প্রতি বাড়িতে মন্দিরের দিকে মুখ করে ১৪ প্রদীপ জ্বালান হয়েছে। মোমবাতিও জ্বলেছে সন্ধ্যা সাতটার পর। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ