Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে বহরমপুরের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তের ঢল, রকমারি ভোগের আয়োজন

বাসন্তী পোলাও, ফ্রায়েড রাইস, শাক, পাঁচ রকমের ভাজা, পরমান্নের ভোগ নিবেদন করা হল জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার দিন

স্নানযাত্রা উপলক্ষ্যে বহরমপুরের বিভিন্ন জগন্নাথ মন্দিরে ভক্তের ঢল, রকমারি ভোগের আয়োজন
  • ১২ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বহরমপুর: বাসন্তী পোলাও, ফ্রায়েড রাইস, শাক, পাঁচ রকমের ভাজা, পরমান্নের ভোগ নিবেদন করা হল জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রার দিন। কোনও মন্দিরে ভোগে দেওয়া হল জগন্নাথদেবের প্রিয় মালপোয়া, গজা। কোথাও জগন্নাথ দেবের ভোগে দেওয়া হল সুগন্ধী আতপ অন্ন, পঞ্চ ব্যাঞ্জন, পাঁচ রকমের ভাজা, পরমান্ন। স্নান যাত্রার দিন সন্ধ্যায় লুচি, ছানার সঙ্গে দুধের তৈরি নানা উপকরণ, মিষ্টি সহযোগে ভোগ নিবেদন করা হয়। 

Advertisement

বুধবার সকাল ছটা থেকে বহরমপুরে মন্দিরে মন্দিরে ভক্তের ঢল নামতে শুরু করে। ভোর থেকেই জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রার স্নানের তোড়জোড় শুরু হয়ে যায়। ১০৮ কলসি জল ঢেলে জগন্নাথদেবকে স্নান করানো হয়। স্নানের জলে মেশানো হয় কাঁচা দুধ, অগুরু চন্দন, তুলসি। স্নানের পর তিন ভাই বোনকে রত্নবেদী থেকে নামিয়ে অন্যত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। পুরাণ মতে স্নান যাত্রার পর জগন্নাথদেবের জ্বর আসে। পনেরো দিন অনসর পর্ব পালন করা হয়। এই সময়ে জগন্নাথদেবকে বিশ্রামে রাখা হয়। আর্যুবেদিক পাঁচনে সুস্থ করে তোলা হয় প্রভু জগন্নাথকে। রথযাত্রার দিন ফের রত্নবেদীতে অধিষ্ঠিত জগন্নাথদেব সবার সামনে আসেন।
জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা উৎসব পালিত হয়। স্নানযাত্রার পনেরো দিন পর জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রার রথের রশিতে টান পড়ে। এক সপ্তাহকাল মাসির বাড়িতে থেকে ফের উল্টোরথে ঘরে ফেরা। 
বহরমপুর খাগড়া এলাকার প্রাচীন জগন্নাথ মন্দিরের সেবাইত সজল মুখোপাধ্যায় বলেন, পুরীর মন্দিরের পান্ডাদের নির্দেশ মেনেই এখানে স্নানযাত্রা উৎসব পালন করা হয়েছে। স্নানযাত্রার পর পুজোপাঠ হয়েছে।
গোরাবাজারে ভাগীরথীর তীরে পাশাপাশি দুই গ্রহরাজ মন্দিরেই জগন্নাথ, বলভদ্র, সুভদ্রার প্রতিষ্ঠিত বেদী রয়েছে। এই দুই মন্দিরে সকাল থেকে ভক্তরা লাইন দিয়ে পুজো দিয়েছেন। গ্রহরাজ মন্দিরের পুরোহিত রবীন্দ্রনাথ ত্রিপাঠী বলেন, আমরা রীতি মেনেই বুধবার স্নানযাত্রার পর বিশেষ পুজোর আয়োজন করেছিলাম। এই মন্দিরে জগন্নাথদেবকে পঞ্চ ব্যাঞ্জন, রকমারি ভাজা, ডাল,  পরমান্ন ও সুগন্ধী আতপ অন্নের ভোগে নিবেদন করা হয়। প্রাচীন মন্দিরগুলি সহ বহরমপুরে জগন্নাথ ঘাট সহ একাধিক মন্দিরেও স্নানযাত্রা যথারীতি শাস্ত্রমতেই পালন করা হয়েছে। বহরমপুর খাগড়া এলাকার বাসিন্দা দেবপ্রিয়া সিনহা পুরাতন হাসপাতাল সংলগ্ন জগন্নাথ মন্দিরে পুজো দিতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, প্রতিবছর স্নানযাত্রা এবং দুই রথযাত্রায় আমি মন্দিরে আসি। সারাদিন মন্দিরে পুজোপাঠে অংশ নিয়েছিলাম। সন্ধ্যায় ভোগ নিবেদন সম্পন্ন করেই বাড়ি ফিরব। অপর্ণা শাস্ত্রী বলেন, এবার স্নানযাত্রায় দীঘার নবনির্মিত জগন্নাথ মন্দির দর্শনের ইচ্ছা ছিল। পারিবারিক সমস্যার কারণে যাওয়া হয়ে ওঠেনি। বহরমপুরের এই প্রাচীন মন্দিরেই পুজো দিলাম।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ