Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

তারাপীঠে ভক্তের ঢল, যানজট নেটওয়ার্ক সমস্যায় ভোগান্তি

বছরের প্রথম দিনে ব্যাপক ভক্ত সমাগম ঘটল তারাপীঠে।

তারাপীঠে ভক্তের ঢল, যানজট নেটওয়ার্ক সমস্যায় ভোগান্তি
  • ২ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, রামপুরহাট: বছরের প্রথম দিনে ব্যাপক ভক্ত সমাগম ঘটল তারাপীঠে। সকালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে তারা মায়ের কাছে পুজো দিলেন দলের জেলা চেয়ারপার্সন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন ভিড়ে মোবাইল পরিষেবা চূড়ান্তভাবে ব্যাহত হয়। সেই সঙ্গে তীব্র যানজটে ভোগান্তি পোহাতে হয় হাজার হাজার পর্যটককে। 

Advertisement

বৃহস্পতিবার নতুন বছরের প্রথম দিনে মা তারার কাছে পুজো দিতে কনকনে শীত উপেক্ষা করে মানুষের ভিড় জমেছিল মন্দিরে। বেলা যত বেড়েছে সেই ভিড় ততই বেড়েছে। পুজো দেওয়ার লাইন মূল রাস্তায় চলে এসেছিল। মন্দিরে এত ভিড় হয়েছিল যে, দাঁড়ানোর জায়গা ছিল না। ভিড়ের মধ্যেই মন্দিরে পুজো দিতে আসেন টিআরডিএর চেয়ারম্যান আশিস ব঩ন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের সুস্থতা কামনা করে পুজো দেওয়া হয়েছে। 
এদিকে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের এদিন ‘কল ড্রপ’ ও ব্যাপক যানজটের কবলে পড়তে হয়। যা নিয়ে অনেকেই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন। অসম থেকে পরিবার নিয়ে আসা সমীর দাস বলেন, বাড়িতে বৃদ্ধ বাবা ও মা রয়েছেন। বয়সের কারণে তাঁদের নিয়ে আসা যায়নি। ভিডিও কলের মাধ্যমে মা তারার মন্দির দেখাব বলেছিলাম। কিন্তু নেটওয়ার্কের যা অবস্থা, তা সম্ভব হল না। ফোন করলেও বার বার কেটে যাচ্ছে। অন্য প্রান্তে কথা শোনা যাচ্ছে না।  আরেক পর্যটক দিবাকর জানা বলেন, কল ড্রপ তো হচ্ছেই। নেটও স্লো হয়ে গিয়েছে। কোনও জিনিস কিনে অনলাইনে টাকা মেটাব তার উপায় নেই। যোগাযোগের ক্ষেত্রে চুড়ান্ত অব্যবস্থার মধ্যে পড়তে হল। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, একটু বেশি ভিড় হলেই তারাপীঠে মোবাইল পরিষেবা কার্যত বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কল ড্রপের সমস্যা তীব্রতর হচ্ছে। বাইরে থেকে আসা পর্যটকরা যদি কোনও অসুবিধেয় পড়েন তাহলে তাঁরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন না। মোবাইল নিরাপত্তার অন্যতম অংশ। বিভিন্ন কোম্পানি ব্যবসা করছে, অথচ কলড্রপ বা নেট সমস্যার সমাধান করছেন না। মানুষকে মাসিক রিচার্জ করে যেতে হচ্ছে। দ্রুত যাতে উন্নত পরিষেবা মেলে, সে ব্যাপারে প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করছি।
তবে শুধু মোবাইল পরিষেবা নয়, ব্যাপক যানজট পর্যটকদের ভোগান্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে তুলেছিল। আটলা মোড় থেকে দ্বারকা নদের ব্রিজ হয়ে মন্দির যাওয়ার রাস্তার ধারে অসংখ্য লজ। কিন্তু অধিকাংশ লজের নিজস্ব কোনও পার্কিং নেই। ফলে সেই সমস্ত লজের যাত্রীদের গাড়ি রাখা হয় রাস্তার দু’ ধারে। তার উপরে ঠেলাগাড়ি লাগিয়ে ব্যবসা। ফলে রাস্তা সংকীর্ণ হয়ে পড়ে। তার উপরে অসংখ্য মানুষের ভিড়। এরই মধ্যে অটো, টোটো, চারচাকা গাড়ি, পিকআপ ভ্যান, বাস চলাচলের ফলে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। আটলা মোড় থেকে পূর্বসাগর মোড় পর্যন্ত যেতে অন্যান্য সময় মেরেকেটে পাঁচ মিনিট লাগে। এদিন এতটাই যানজট হয় যে, আধঘণ্টার উপর সময় লেগে যায়। কখনও আবার যানজটে থমকে যায় যানবাহন। মানুষ যে হেঁটে রাস্তা পার হবে তারও উপায় ছিল না। যানজটের কবলে পড়া এক পর্যটক র্নিমাল্য দে বলেন, এত বড় একটা পর্যটন কেন্দ্রে কোনও সিস্টেম নেই। যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে সেভাবে রাস্তায় দেখা যাচ্ছে না। যে কোনও মুহূর্তে বড় দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। 
তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভাইস চেয়ারম্যান সুকুমার মুখোপাধ্যায় বলেন, যাজনট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক— জ্বলন্ত এই দুই সমস্যা নিয়ে খুব শীঘ্রই বৈঠকে বসা হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ