সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: শিবরাত্রি উপলক্ষে সোমবার ভোর থেকে বৈষ্ণবতীর্থ নবদ্বীপের বিভিন্ন শিবমন্দিরে ভক্তদের ঢল নামে। শুধু নবদ্বীপ বা কৃষ্ণনগর নয়, পার্শ্ববর্তী পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাট, বিদ্যানগর, শ্রীরামপুর, পূর্বস্থলী সহ দূর-দূরান্ত থেকে বহু ভক্ত এদিন শহরের প্রাচীন শিবমন্দিরগুলিতে পুজো দিতে এবং শিবলিঙ্গে জল ঢালতে আসেন। এদিন প্রতিটি শিবমন্দিরে বিশেষ ভোগের আয়োজন করেছিল মন্দির কমিটিগুলি।
রবিবার রাত থেকে শিবচতুর্দশী ব্রত শুরু হয়েছে। শিবমন্দিরগুলিতে চার প্রহর ধরে পুজো হচ্ছে। এই রাতে অনেকেই শিবপুজো ও শিবলিঙ্গের মাথায় জল ঢেলেছেন। মূলত বৈষ্ণবতীর্থ হিসাবে পরিচিত হলেও নবদ্বীপে রয়েছেন বিখ্যাত সাত শিব। এদিন নবদ্বীপের প্রাচীন বুড়োশিব, যোগনাথ শিব, অলোকনাথ শিব, দণ্ডপাণি শিব, চারিচারা বাজারের বালকনাথ, বৌবাজারের বাণেশ্বর শিব, পলকেশ্বর শিবমন্দিরে পুজো দিতে ভক্তরা ভিড় করেছিলেন। পাশাপাশি, নবদ্বীপ ধাম স্টেশন সংলগ্ন প্রাচীন ভূতনাথ শিবমন্দিরেও পুরুষ ও মহিলা ভক্তদের ভিড় ছিল। সারাদিন উপবাস থেকে গঙ্গায় স্নান সেরে রীতিমতো লাইন দিয়ে শিবের মাথায় জল ঢালতে এবং পুজো দিতে দেখা গেল ভক্তদের। বিশেষ করে বুড়োশিব, যোগনাথ ও বালকনাথ শিবমন্দিরে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। বাইরে থেকে অনেকেই গাড়ি নিয়ে পুজো দিতে এসেছিলেন নবদ্বীপের ঐতিহ্যবাহী শিবমন্দিরগুলিতে। এদিন শহরের বেশকিছু পাড়ায় শিবপুজোর আয়োজন করেছিল স্থানীয় ক্লাবগুলি। শিবচতুর্দশী ব্রত উপলক্ষে বুড়োশিবতলায় সোমবার সকাল থেকে মেলা বসেছিল। কোনোরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে শহরের শিবমন্দিরগুলির সামনে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল।
এদিন বুড়োশিব মন্দিরে জল ঢালতে এসেছিলেন তেঘরিপাড়ার বাসিন্দা, ছাত্রী কঙ্কনা গুঁই। তিনি বলেন, বুড়োশিব নবদ্বীপের অন্যতম প্রাচীন। গত তিন-চার বছর ধরে এই মন্দিরে আসছি। এবছরও উপবাস করে এসেছি। জল ঢেলে পুজো দিয়ে বাড়ি ফিরব।
যোগনাথ শিবমন্দিরের মূল সন্ন্যাসী বাবুলাল গোস্বামী বলেন, শিবচতুর্দশী ব্রত উপলক্ষে রবিবার সারারাত শিবপুজো চলে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার ভোর ৬টা পর্যন্ত চার প্রহর ধরে দেবাদিদেবের পুজো চলে। দুধ, দই, ঘি, মধু দিয়ে বাবাকে স্নান করানো হয়। সারারাত ধরে বহু ভক্ত বাবার মাথায় জল ঢেলে অভিষেক করেন। সোমবার সকাল থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যতক্ষণ শিবচতুর্দশী ছিল, ততক্ষণ ভক্তরা শিবপুজো করে শিবলিঙ্গে জল ঢালেন।