নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আদিবাসীদের হাতে মিষ্টিমুখ করেই পুজো হল দেবী চৌধুরাণীর কালীর! জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ের কাছে কয়েকশো বছরের প্রাচীন এই পুজো। দেবী চৌধুরাণীর হাতে প্রতিষ্ঠা করা এই পুজো একসময় জঙ্গলে ঘেরা বটগাছের নীচে হতো। দেবী চৌধুরাণী এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর রুকরুকা নদীর পাড়ে এই কালীপুজোর দায়িত্ব নেন স্থানীয় আদিবাসীরা। তাঁরা চিঁড়ে-দই ও জিলিপি দিয়ে পুজো দিতেন মাকে। মানত পূরণ হলে মন্দিরে এনে উড়িয়ে দিতেন সাদা পায়রা। আজও সেই রীতি বহমান।
ফি বছরের মতো এবারও সোমবার সন্ধ্যায় ডেঙ্গুয়াঝাড় চা বাগানের আদিবাসী শ্রমিকরা দেবী চৌধুরাণীর কালীমায়ের জন্য চিঁড়ে-দই ও জিলিপি নিয়ে মন্দিরে আসেন। সন্ধ্যায় সেসবই ভোগ দেওয়া হয়। আদিবাসীদের নিয়ে আসা জিলিপিতে মিষ্টিমুখ করেন মা। তারপর শুরু হয় মূল পুজো। এমনটাই জানিয়েছেন মন্দির কমিটির সম্পাদক দেবাশিস সরকার।
এদিন সকাল থেকেই দেবী চৌধুরাণীর শ্মশানকালী মন্দিরে শুরু হয়ে যায় পুজোর প্রস্তুতি। নানা অলঙ্কারে সাজানো হয় মাকে। বেলা বাড়তেই জমতে থাকে ভক্ত-দর্শনার্থীদের ভিড়। উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন এলাকা তো বটেই, অসম থেকেও অনেকে এই পুজো দেখতে এসেছিলেন। সকালে নিরামিষ ভোগ দেওয়া হয় মাকে। সন্ধ্যায় চিঁড়ে-দই ও জিলিপি ভোগের পর রাতে দেওয়া হয় আমিষ ভোগ। শোল ও বোয়াল মাছ ছাড়া এখানকার মা কালীর ভোগ হয় না। এখানে মায়ের হাতে কোনও অস্ত্র নেই। তাঁর এক হাতে নরমুণ্ড, অন্য হাতে সুরাপাত্র। পুজোয় ওই পাত্রে দেওয়া হয় সুরা অর্থাৎ মদ। বলা হয়, এই পুজোর প্রথম পুরোহিত ছিলেন ভবানী পাঠক।
মন্দির কমিটির সম্পাদকের দাবি, দেবী চৌধুরাণী এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর এলাকার আদিবাসীরা পুজো বন্ধ হতে দেননি। তাঁরা বিশালাক্ষী রূপে মায়ের পুজো করতেন। পরে কিছুদিন জলপাইগুড়ি রাজ পরিবার এই পুজোর দায়িত্ব নিয়েছিল। কিন্তু খুব বেশিদিন তারা চালাতে পারেনি। ফলে রাজ পরিবার হাতগুটিয়ে নিলে স্থানীয়রা ফের এই পুজোর দায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেন।
মন্দিরের পুরোহিত সুভাষ চৌধুরী বলেন, বেশিরভাগ জায়গাতেই দক্ষিণাকালীর পুজো হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের এখানে মা শ্মশানকালী। প্রতিবারের মতো এবারও পুজোয় পাঁঠাবলি হয়েছে। আগে মাটির মূর্তিতে পুজো হতো। ১৯৯৭ সালে রাজস্থানের জয়পুর থেকে নিয়ে আসা কষ্টিপাথরের মূর্তিতে এখন পুজো চলছে। নিজস্ব চিত্র।