রাজদীপ গোস্বামী, আনন্দপুর: এক সময় বামেদের শক্ত ঘাঁটি ছিল কেশপুর ব্লকের আনন্দপুর এলাকা। রাজনৈতিক হানাহানির জেরে বহু মানুষ ঘরছাড়া ছিল। এখন আর সেই হানাহানি নেই। উল্টে গ্রাম পঞ্চায়েতের উদ্যোগে একাধিক প্রকল্পের রূপায়ণ হয়েছে। তাতে গ্রামের বাসিন্দারা উপকৃত হয়েছেন। পঞ্চায়েতের জন প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দরা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, খাদ্যসাথী সহ বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তো পাচ্ছেনই। তাছাড়া গ্রাম পঞ্চায়েত বিভিন্ন তহবিল থেকে ১৪টি রাস্তার সংস্কার করা হয়েছে। তাতে খরচ হয়েছে প্রায় ৪৩ লক্ষ টাকা। একইসঙ্গে গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় বাংলার বাড়ি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৫০ পরিবার উপকৃত হয়েছে।
জেলা পরিষদের দলনেতা মহম্মদ রফিক বলেন, বাম আমলে সিপিএমের অত্যাচারের কথা এই এলাকার মানুষ কোনওদিন ভুলতে পারবে না। সেই সময় বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের কথা বলার অধিকার ছিল না। অনেকবার অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছি। কেশপুরের বহু সাধারণ মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। রাস্তা কেটে দিত হার্মাদ বাহিনী। এরফলে সমস্যায় পড়তেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও। এখন সেখানে আর আগের মতো বোমা, গুলির আওয়াজে মানুষের ঘুম ভাঙে না। তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি শেখ হাবিবুল রহমান বলেন, আগে সাধারণ মানুষ সামান্য সরকারি সুবিধাটুকু পেতেন না। বর্তমানে এই এলাকার প্রতিটা বাড়ির সদস্য কোনও না কোনও সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন। এলাকার অর্থনীতিও বদলেছে।
প্রসঙ্গত, একসময় এই এলাকা সিপিএমের শক্ত ঘাঁটি হলেও গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে এলাকার ২০টি আসনের মধ্যে সবকটি গিয়েছে তৃণমূলের দখলে। এমনকী পঞ্চায়েত সমিতির তিনটি আসন এবং জেলা পরিষদের একটি আসনে জয়লাভ করেছে ঘাসফুল শিবির। জানা গিয়েছে, এই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় রাস্তা ছাড়াও পাঁচটি জলের প্রকল্প, ছ’টি নিকাশি নালা, ১৫টি আলোর প্রকল্প রূপায়িত হয়েছে। এছাড়া প্রায় ২০০টি পরিবারে শৌচালয় তৈরি করেছে প্রশাসন। পাশাপাশি ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের সুবিধা দু’হাজারের বেশি মানুষ পাচ্ছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই এলাকায় বেশকিছু সমস্যাও রয়েছে। তমাল নদীর ভাঙনের জন্য প্রতি বছর গ্রামের বহু মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। তাছাড়া এলাকায় শিশুদের জন্য কোনও চিল্ডেন পার্ক নেই। একইসঙ্গে অডিটোরিয়াম না থাকায় সাধারণ মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়। আনন্দপুর হাসপাতালের মানোন্নয়নের প্রয়োজন। এই হাসপাতালে আরও বেশি চিকিৎসক থাকলে মানুষজন উপকৃত হবেন।
পঞ্চায়েতের প্রধান তাপসী খান ও উপপ্রধান বিদ্যুৎ মিদ্যা বলেন, মানুষের পাশে থাকাই আমাদের কর্তব্য। চলতি বছরে কাজের গতি আরও বাড়বে। এলাকায় বেশকিছু সমস্যা এখনও রয়েছে। সেগুলির সমাধানের চেষ্টা চলছে।