সংবাদদাতা, মানকর: বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। ভেঙে পড়েছে বাড়ি, হোম-স্টে, ব্রিজ। ধস নেমে বন্ধ হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। প্রাণ গিয়েছে বহু মানুষের। এই পরিস্থিতিতে পর্যটকরা পাহাড় বেড়ানোর পরিকল্পনা বাতিল করছেন। উত্তরবঙ্গের বিপর্যয়ের প্রভাব পড়েছে পর্যটন ব্যবসায়। বাতিল হয়েছে হোটেল, গাড়ি বুকিং। ক্ষতির মুখে পড়েছেন ট্যুর অপারেটররা। কিন্তু টানা ছুটিতে বেড়ানোর সুযোগে হাতছাড়া করতে চাইছে না ভ্রমণপ্রিয়রা। অনেকেই বিকল্প হিসেবে বৃন্দাবন, কাশী, দিল্লি অথবা রাজ্যের মধ্যে পুরুলিয়া, সুন্দরবন, দীঘা বেছে নিচ্ছেন। অনেকেই খোঁজ করছেন রাজ্যের অফবিট জায়গাগুলি।
কাঁকসা এলাকা থেকে একটি দলের লক্ষ্মীপুজোর পরের দিন উত্তরবঙ্গ যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তাঁরা যাবেন না বলে ভ্রমণ সংস্থাকে ফোনে জানিয়ে দিয়েছেন। ওই দলের এক সদস্য বলেন, সামনে থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এবার সেই আশা পূর্ণ হল না। একই কথা বলছেন গলসির মহম্মদ শাবের। বেসরকারি সংস্থার কর্মী শাবের বলেন, ছোট ছেলে ও বয়স্ক মানুষ নিয়ে একসঙ্গে ওখানে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি ভয়াবহ। কবে স্বাভাবিক হবে তাও বুঝতে পারছি না। তাই যাওয়া বাতিল করেছি।
মানকর, গলসি, পানাগড় এলাকার বিভিন্ন ট্যুর অপারেটরের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল এই পরিস্থিতিতে তাঁদেরও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বসুধার ট্যুর অপারেটর সুপ্রিয়া ভাণ্ডারী বলেন, প্রচুর মানুষ বুকিং বাতিল করছেন। অনেকেই পরিকল্পনা বাতিল না করে বেড়াতে যাওয়ার দিন পিছিয়ে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছেন। বাতিল হওয়ার জন্য পর্যটকদের টাকা ফেরত দিতে হচ্ছে। তবে, যাঁরা গিয়েছিলেন, তাঁরা নিরাপদে সমতলে নেমে এসেছেন।
অন্য, এক ট্যুর অপারেটর বলেন, অনেকেই উত্তরবঙ্গের বদলে রাজ্য বা ভিনরাজ্যের মধ্যে ঘুরতে যেতে চাইছেন। ট্রেনে তৎকাল রিসার্ভেশন করছেন। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবস্থা করছেন। তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গ যাওয়ার জন্য একটি পনের জনের দল আগে থেকেই বুকিং ছিল। কিন্তু এখন সেই ট্যুর বাতিল হওয়ায় তাঁরা ভাইজ্যাগ যাচ্ছেন। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার অফবিট জায়গার খোঁজ করছেন পর্যটকরা।
পর্যটকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল, অনেকেই ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা একেবারে বাতিল না করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার কথা ভেবেছেন। গলসির সঞ্জয় লাহা বলেন, বুধবার পুরুলিয়া রওনা দিচ্ছি। সেখানে গড়পঞ্চকোট, জয়চণ্ডী পাহাড়, অযোধ্যা পাহাড় দেখে ঝালদা যাব। ওখানে জাজাহাতু, তুলিন গ্রাম, কীর্তনিয়া পাহাড় দেখব। কাঞ্চনজঙ্ঘার বদলে জয়চণ্ডী দেখতে হবে এবার। অনেকে আবার দীঘা, সুন্দরবনের দিকে রওনা দিচ্ছেন। মানকরের বাসিন্দা অমিয় রুদ্র বলেন, দুর্গাপুজোর ছুটিতে সুন্দরবন ঘুরে এলাম। অনেককেই এই পরিস্থিতিতে সুন্দরবন যাওয়ার কথা ভাবছেন। সুন্দরবনে অপরূপ প্রাকৃতিক দৃশ্য, গড়ান গেঁওয়া গাছ আর জলের মধ্যে দিয়ে অনেকটা দূরে চলে যাওয়া পর্যটকদের ভালো লাগবে। তাছাড়া খরচও সাধ্যের মধ্যে। কবে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে পর্যটকরা।