Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / বিনোদন

কমফর্ট জোন থেকে বেরতে হবে, শিখিয়েছে দেব

মুক্তির অপেক্ষায় অর্ণব মিদ্যা পরিচালিত ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’। সে ছবির আড্ডায় অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র।

কমফর্ট জোন থেকে বেরতে হবে, শিখিয়েছে দেব
  • ২৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

 মুক্তির অপেক্ষায় অর্ণব মিদ্যা পরিচালিত ‘হাঁটি হাঁটি পা পা’। সে ছবির আড্ডায় অভিনেত্রী রুক্মিণী মৈত্র।

Advertisement

‘হাঁটি হাঁটি পা পা’ করে এটা কত নম্বর ছবি?
এই রে! এটা তো ভাবিনি। ১২-১৩ হবে। গুনিনি, সঠিক বলতে পারব না।
আপনাকে নাকি চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তী ‘গর্জিয়াস’ বলে ডাকেন?
(হাসি) যেদিন আমার প্রথম ছবি ‘চ্যাম্প’-এ উনি আমাকে দেখেন, সেদিনই বলেছিলেন, ‘আরে গর্জিয়াস! আমি তোমাকে রুক্মিণী নয়, গর্জিয়াস বলে ডাকব।’ আজ ৭-৮ বছর ধরে সেই নামেই ডাকেন। ওঁকে আমার আসলে ‘স্যর’ বলা উচিত। কিন্তু উনি এতটাই তরুণ যে, আমি দাদা বলতে পারি। শ্যুটিংয়ের পুরো সময়টা ওঁর সঙ্গে একটা দারুণ স্কুলে ছিলাম। চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীর সঙ্গে আমি একটা ছবি করতে পারলাম এটার আর্কাইভাল ভ্যালুই আলাদা।
শুনলাম, ছবিতে আপনি খুব চিৎকার করেছেন বাবার উপর?
নিজের বাবার সঙ্গে আমার সম্পর্কটা অন্যরকম ছিল। বাবাকে চিৎকার করতে শুনিনি কখনও। বাবার সঙ্গে ঝগড়াও হয়নি। জীবনে হয়তো সেই সময়টাতেই পৌঁছইনি, যেখানে বাবাকে শাসন করতে পারব। ফলে চিরঞ্জিৎদার সঙ্গে যখন দৃশ্যগুলো হচ্ছিল, আমি পরিচালক অর্ণবকে বলছিলাম, এভাবে বাবার উপর চিৎকার করা যায় না। ও আমাকে বলেছিল, এর থেকে বেশিও হয়। ট্রেলার রিলিজ হওয়ার পর কত মেয়ে আমাকে বলেছেন, বাবার সঙ্গে তাঁদের মান-অভিমান, চিৎকার চলতেই থাকে। আমি বেশ ভয়েই ছিলাম। লেজেন্ড চিরঞ্জিৎ চক্রবর্তীর উপর চিৎকার করতে হবে তো শেষ পর্যন্ত। উনি এই প্রসেসটা অনেক ভালো বোঝেন। ফলে উনি আমার কাজটা অনেক সহজ করে দিয়েছিলেন।
আপনার চরিত্র মধুরা তো ডমিনেট করে। ব্যক্তি জীবনে রুক্মিণীও কি তেমন?
‘ডমিনেট’ শব্দটা বলব না। ভালোবাসা থেকেই তো আগলে রাখার কথা মনে হয়। এখন আমি মাকে শাসন করি। কারণ মা রাত জেগে সিরিজ দেখে। আর ভোরে উঠে পড়ে। ঘুম না হলে শরীর খারাপ হবে। বাবা মারা যাওয়ার পর খুব ভয়ে থাকি। কারণ বাবার সঙ্গে দুপুরে ফোনে কথা বলেছি। দু’ঘণ্টা পরে যখন ফোন করেছি আর বাবা নেই। কাউকে যে এভাবে হারানো যায়, সে অভিজ্ঞতা আমার ছিল না। আজ কথাগুলো বলা সহজ। এটা আমি আর চাই না। ফলে একটা কন্ট্রোল হয়তো আছে। কিন্তু আমার মা তো বাঘিনী... (হাসি)। তিনি মনে করেন, তুমি আমার মেয়ে, ফলে শাসন চলবে না।
আপনি কি রাগী?
শর্ট টেম্পার্ড। কিন্তু সেটা দেখাই কাছের লোকের কাছে।
কে বেশি সামলান, দেব নাকি মা?
(হা হা হা) আমার দাদা। 
আপনি স্বীকার করেন দেব আপনার মেন্টর, ওঁর কোন পরামর্শ আপনার এগিয়ে যাওয়াতে সাহায্য করেছে?
দেব আমাকে শিখিয়েছে, কমফর্ট জোন থেকে নিজেকে ঠেলে বের করার চেষ্টা করো। এটা ওকে দেখে শিখেছি। আর একটা জিনিস। আমি একটা সাদা-কালো মানুষ। আমার জীবনে মাঝামাঝি কিছু নেই। ওকে দেখে জীবনের ধূসর জায়গাটা বোঝার চেষ্টা করি। এটা পড়ে কেউ খারাপ ভাবতে পারেন। কিন্তু আসলে সাদা, কালো দুটোকে গ্রহণ করে অনেক সময় অনেক কাজ করতে হয়। আমার জীবনে আমি যদি বিনোদিনী হই, দেব আমার গিরিশ ঘোষ (হাসি)। 
‘বিনোদিনী’র কথাই যখন এল, তাহলে ‘প্রজাপতি’তে যাই?
(হা হা হা...) হ্যাঁ, ডিসেম্বরে রিলিজ করছে দেবের ছবি।
আসল প্রজাপতি গায়ে তাহলে বসছে কবে? আপনাদের বিয়েটা কবে?
‘প্রজাপতি ৩’ যেদিন রিলিজ করবে, সেদিন এই প্রশ্নের উত্তর দেব (হাসি)। আমি বিশ্বাস করি, সঠিক সময়ে সব কিছু হবে। যখন আমার ইচ্ছে করবে তখন বিয়ে করব। যদি না ইচ্ছে করে, করব না। 
স্বরলিপি ভট্টাচার্য

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ