নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সুদৃশ্য স্টল, বাতিস্তম্ভ, খাওয়া-দাওয়া বা একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য সাজানো গোছানো বসার জায়গা। পাটুলি ঝিলপাড়ের একাংশে সরকারি অর্থে তৈরি হয়েছে শহরের দ্বিতীয় ফুড স্ট্রিট বা ফুড জোন। যার উদ্বোধন হতে চলেছে আজ, বৃহস্পতিবার। কিন্তু কলকাতা পুরসভা সূত্রে খবর, যে দোকান বা স্টলগুলি উদ্বোধন করা হচ্ছে, তা কারা চালাবেন, সেটাই এখনও ঠিক হয়নি। ফলে উদ্বোধন হলেও এদিন থেকেই স্টলগুলি চালু হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কেন এই ব্যবস্থা না করে তড়িঘড়ি মন্ত্রী-বিধায়কদের দিয়ে ঘটনা করে দোকানগুলি উদ্বোধন করানো হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে পুরসভার অন্দরেই।
উল্লেখ্য, খাদ্য সুরক্ষার ক্ষেত্রে ভালো কাজ করার জন্য বছর দুয়েক আগে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে পুরসভার স্বাস্থ্যবিভাগ তিন কোটি টাকা পায়। সেই টাকায় পুরসভার বস্তি উন্নয়ন বিভাগ তিনটি ফুড স্ট্রিট গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেয়। রাসেল স্ট্রিট, টালা ঝিল পার্ক ও টালা জিমখানা গ্রাউন্ডের মধ্যবর্তী রাস্তা এবং পাটুলি ঝিলপাড়। রাসেল স্ট্রিটের ফুড স্ট্রিট চালু হয়েছে অনেক আগেই। সেখানে মোট ৩২টি দোকান তৈরি করে হকারদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। সেদিনই সেখানকার হকারদের নতুন ভেন্ডিং সার্টিফিকেটও দেওয়া হয়। সার্টিফিকেট পিছু ৮০০ টাকা করে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বার্ষিক এই ৮০০ টাকার বিনিময়ে সার্টিফিকেট রিনিউ বা পুনর্নবীকরণ করতে পারবেন হকাররা। কিন্তু, টালা ও পাটুলির ফুড জোন নানা জটিলতায় উদ্বোধন করা যায়নি। লটারির মাধ্যমে কারা দোকান পাবে, কী পদ্ধতি—এসব নিয়ে জটিলতা ছিল। পালাবদলের পরেও সেই জটিলতা কাটেনি। কিন্তু সেই সমস্যা না মিটিয়েই আজ পাটুলির ফুড স্ট্রিট উদ্বোধন হতে চলেছে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, যাদবপুরের বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় ও পুরসভার প্রশাসক স্মিতা পান্ডে পাটুলি ঝিলপাড়ে আজ ১৬টি ফুড স্টল উদ্বোধন করবেন বলে খবর।
হকার বা বিক্রেতা না ঠিক করে ফুড স্টলের উদ্বোধনের এই সিদ্ধান্ত হঠকারি বলে মনে করছেন কেউ কেউ। পুরসভার আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, লটারি করে স্টলগুলি বণ্টনের কথা। সেসব কিছুই হয়নি এখনও। কিন্তু, পুরভোটের মুখে তড়িঘড়ি উদ্বোধন করা হচ্ছে। উদ্বোধনের আগে স্টলগুলি খুলে পরিষ্কার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকঢোল পিটিয়ে উদ্বোধনের পর ফের সেগুলির ঝাঁপ বন্ধ হয়ে যাবে বলেই খবর। এই ফুড স্ট্রিট চালু হতে আরও সময় লাগবে বলেই জানাচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ।
পুরসভার এক কর্তা বলেন, ‘এই তিনটি ফুড স্ট্রিটই শহরের মডেল হিসাবে তুলে ধরার পরিকল্পনা ছিল। সেখানে অগ্নিনির্বাপণ বিধি কড়াভাবে মেনে কাজ চলার কথা। অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি এড়াতে স্টলগুলিতে স্টোভ বা গ্যাসের উনুনে রান্না হবে না। ইন্ডাকশন ওভেন ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। পাশাপাশি প্লাস্টিক বা থার্মোকল, যেগুলি পরিবেশ দূষণ ঘটায়, তেমন জিনিসও ব্যবহার করা যাবে না। সেই শর্তেই স্টলগুলি ভাড়া দেওয়ার কথা। শুধুমাত্র রাসেল স্ট্রিটের দোকানগুলি এভাবে ভাড়া দেওয়া হয়নি। পুরানো ব্যবসায়ীদেরই সেখানে পুনর্বাসন দেওয়া হয়েছে।’



