Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বৃষ্টির দাপট কমলেও উত্তরবঙ্গে তিস্তা, জলঢাকায় এখনও জারি হলুদ সঙ্কেত

বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও এখনও ফুঁসছে তিস্তা ও জলঢাকা নদী।

বৃষ্টির দাপট কমলেও উত্তরবঙ্গে তিস্তা, জলঢাকায় এখনও জারি হলুদ সঙ্কেত
  • ৩ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমলেও এখনও ফুঁসছে তিস্তা ও জলঢাকা নদী। সোমবারও মেখলিগঞ্জে তিস্তার এবং নাগরাকাটায় জলঢাকার অসংরক্ষিত এলাকায় জারি করা ছিল হলুদ সঙ্কেত। শুধু তাই নয়, শিলিগুড়িতে মহানন্দা ও কোচবিহারে তোর্সা নদীর অবস্থা স্থিতিশীল। এই অবস্থায় আজ, মঙ্গলবার পাহাড় ও সমতলে বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি এবং বজ্র-বিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে। এর জেরে পাহাড়ে ধস এবং সমতলের কিছু এলাকায় জল জমার, নদী বাঁধ, পাড়, রাস্তা, বিদ্যুতের ক্ষতির আশঙ্কা করছে বিভিন্ন মহল। এর মোকাবিলায় প্রতিটি জেলায় প্রস্তুত রয়েছে কিউআরটি। গত দু’দিনের তুলনায় সিকিম পাহাড়ে এবং উত্তরবঙ্গের সমতলভাগে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমেছে। এদিন সকাল থেকেই শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে আকাশ ছিল মেঘমুক্ত। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, গত ২৪ ঘণ্টায় শিলিগুড়িতে ৯.৪০, আলিপুরদুয়ারে ১৫.২০, জলপাইগুড়িতে ২.৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। শুধুমাত্র কোচবিহার জেলায় বৃষ্টির দাপট ছিল কিছুটা বেশি। কোচবিহারে ৫০, মাথাভাঙায় ৩০ ও তুফানগঞ্জে ৩৯.২০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে। মেখলিগঞ্জ থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত পর্যন্ত অসংরক্ষিত এলাকায় তিস্তা নদীর জল বিপদ সীমার উপরে রয়েছে। জলপাইগুড়ি জেলার নাগরাকাটায় জলঢাকা নদীর অবস্থাও একই। মাথাভাঙায় জলঢাকা নদীর জল ঊর্ধ্বমুখী। 

Advertisement

সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা জানান, হলুদ সঙ্কেত জারি থাকলেও মেখলিগঞ্জে তিস্তা ও নগরাকাটায় জলঢাকা নদীর জলস্তর কমছে। এটা স্বস্তির। তা হলেও যেকোনও পরিস্থিতির মোকাবিলায় দপ্তর প্রস্তুত রয়েছে। 
এদিকে, আজ দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ার জেলায় বিক্ষিপ্তভাবে ভারী বৃষ্টি, বজ্র-বিদ্যুৎ সহ ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সিকিম কেন্দ্রীয় আবহাওয়া দপ্তরের কাছ থেকে এমন পূর্বভাস পেয়ে প্রতিটি জেলা প্রশাসন প্রস্তুতি নিয়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে জলপাইগুড়ির লালটং,  চমকডাঙি গ্রাম দু’টির অবশিষ্ট অংশ তিস্তার গর্ভে চাপা পড়েছে। কালিম্পংয়ের তিস্তা বাজারের একাংশ এখন তিস্তা নদীর গ্রাসের মুখে। এই অবস্থায় ভারী বৃষ্টি হলে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হয়ে উঠতে পারে। ইতিমধ্যে ধূপগুড়িতে ডামবাড়ি বাঁধ, বক্সিডাঙা বাঁধ, সুটাং বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ধূপগুড়ির দক্ষিণ আলতাগ্রাম, বেতগাড়া-খড়িবাড়ি প্রভৃতি এলাকায় নদীর জল উঠতে পারে। শিলিগুড়ি শহরের জোড়াপানি ও ফুলেশ্বরী এবং মহানন্দা নদীর কিছু এলাকায় উঠতে পারে জল। দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়ে নামতে পারে ধস। ইতিমধ্যে বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরের উত্তরকন্যার কন্ট্রোল রুম থেকে এব্যাপারে প্রতিটি জেলাকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেইমতো প্রতিটি জেলা কিউআরটি, ভলান্টিয়ার, মাঝি, দেশি নৌকা ও স্পিডবোট প্রস্তুত রেখেছে। দার্জিলিং পাহাড়ে মোতায়েন করা হয়েছে এনডিআরএফের একটি কোম্পানি। এদিন শিলিগুড়ি পুরসভাও পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে। মেয়র গৌতম দেব বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় ১২টি ফ্লাড শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ