সন্দীপন দত্ত, কোচবিহার: থিমের প্রতিমায় ‘নিষেধাজ্ঞা’! পুজোর বাজেটে তাই কাটছাঁট করছেন উদ্যোক্তারা। আড়ম্বরপূর্ণ পুজো এ বছর নেই বললেই চলে। বরং সাবেকিয়ানা এবং নিষ্ঠাতেই জোর দিচ্ছে বারোয়ারি পুজো কমিটিগুলি। যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে কোচবিহারের কুমোরটুলিতে। গত বছরের তুলনায় বায়না কমেছে। প্রতিমা তৈরির সামগ্রীর আকাশ ছোঁয়া বাজারে এ বছর হাসি নেই মৃৎশিল্পীদের মুখে।
টানা বৃষ্টির পর শরতের নীল আকাশ চিড়ে প্রখর রোদ নেমে আসছে। যেন স্বয়ং মা দুর্গার আশীর্বাদ। কোচবিহার শহরের কুমোরটুলিতে সকাল থেকে রাস্তার দু’ধারে লক্ষ্মী, গণেশ, কার্তিক, সরস্বতীর প্রতিমা শুকাতে দিচ্ছেন মৃৎশিল্পীরা। দুর্গার প্রতিমা অবশ্য কারখানার ভিতরেই শুকাচ্ছে। মৃৎশিল্পীদের যুক্তি, হঠাৎ বৃষ্টি নামলে দুর্গা প্রতিমা সরিয়ে নিয়ে যেতে সময় লাগবে। ততক্ষণে প্রতিমার ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।
বুধবার নিজের কারখানায় বসে একমনে দুর্গা প্রতিমার মুখে তুলির টান দিচ্ছিলেন মৃৎশিল্পী সুজিত পাল। একটু কথা বলা যাবে? মুখ না তুলেই সুজিতবাবুর উত্তর, এখন সময়ই সময়। বিগত বছরের মতো ব্যস্ততা আর কোথায়! বায়না কম কাজও কম। কিন্তু, বায়না কম কেন। উত্তরে মৃৎশিল্পী সুজিত পালের মন্তব্য, রাজ্যে পালাবদল ঘটেছে। তাই পুজোর নিয়মেও পরিবর্তন এসেছে। দুর্গা প্রতিমায় থিমের ছোঁয়া রাখা যাবে না। তাই সবাই সাবেকি প্রতিমা বায়না করেছেন।
এর সঙ্গে বায়না কমার কি সম্পর্ক, প্রশ্নের উত্তরে বলেন, আগের প্রতি দশজনে ন’জনই দুটো করে প্রতিমার বায়না দিতেন। একটা থিমের প্রতিমা, আরএকটা পুজোর প্রতিমা। এবছর সবাই একটা করেই প্রতিমার বায়না দিয়েছেন। অনেকে আবার নিয়মটুকু মেনে কোনোরকমে পুজো করবেন স্থির করেছেন।
এই মৃৎশিল্পী কথায়, গতবছর পুজোর অনেক আগে ৪২টা প্রতিমার বায়না পেয়েছিলেন। এবছর এক ধাক্কায় সেটা ৩০-এ নেমে দাঁড়িয়েছে। বিগ বাজেটের পুজো কম হচ্ছে। তাছাড়া খড়, বাঁশ, পাটের দাম বেড়েছে। প্রতিমা সাজানোর প্রতিটি জিনিসের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।