Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

আজ সংসদে বিরোধী-ইস্যু ইন্টেনসিভ রিভিশন, সুপ্রিম কোর্ট বলা সত্ত্বেও নেওয়া হচ্ছে না আধার বা ভোটার কার্ড

বিহারের পর বাংলা। তারপর একে একে গোটা দেশ। ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণ বা ইন্টেনসিভ রিভিশন এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় ইস্যু। আর তার থেকেও বড় চর্চার বিষয়, নির্বাচন কমিশনের এই ‘কর্মসূচি’তে বাদ যাওয়া লক্ষ লক্ষ নাম এবং তার পদ্ধতি।

আজ সংসদে বিরোধী-ইস্যু ইন্টেনসিভ রিভিশন, সুপ্রিম কোর্ট বলা সত্ত্বেও নেওয়া হচ্ছে না আধার বা ভোটার কার্ড
  • ২১ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বিহারের পর বাংলা। তারপর একে একে গোটা দেশ। ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণ বা ইন্টেনসিভ রিভিশন এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে বড় ইস্যু। আর তার থেকেও বড় চর্চার বিষয়, নির্বাচন কমিশনের এই ‘কর্মসূচি’তে বাদ যাওয়া লক্ষ লক্ষ নাম এবং তার পদ্ধতি। সুপ্রিম কোর্ট প্রশ্ন তুলেছে, গোটা দেশে একসঙ্গে এখনই বাংলাদেশি খোঁজার প্রক্রিয়া কেন? আধার-ভোটার-রেশন কার্ড কেন মান্যতা পাবে না? তারপরও এই ‘প্রাইমারি’ পরিচয়পত্র গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। এমনকী নথি ছাড়াই জমা নেওয়া হচ্ছে ফর্ম। আর অভিযোগ, বুথ লেভেল অফিসার ইচ্ছেমতো ভোটার তালিকার ‘ঝাড়াই বাছাই’ করছেন। এই গোটা প্রক্রিয়াই ক্ষোভের বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছে বিরোধীদের মধ্যে। আজ, সোমবার শুরু হচ্ছে সংসদের বাদল অধিবেশন। কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, আপ... প্রত্যেকেই সর্বদল বৈঠকে বুঝিয়ে দিয়েছে, এই একটা ইস্যুতে আজ থেকে লাগাতার উত্তাল হবে সংসদ। প্রথম দিন তৃণমূলের শহিদ স্মরণ কর্মসূচি। তাই সর্বদল বৈঠকে উপস্থিত থাকতে পারেননি পশ্চিমবঙ্গের শাসক দলের প্রতিনিধিরা। তবে বাংলা থেকে বার্তা পৌঁছে গিয়েছে দিল্লির দরবারে—ইন্টেনসিভ রিভিউয়ের নামে প্রকৃত ভোটার বাদ যাওয়া চলবে না। এর বিরুদ্ধে সংসদে বিক্ষোভের মাত্রা তারা বাড়াবে পরদিন থেকে। 

Advertisement

ফলে চাপ বাড়ছে। আধার-ভোটার নিয়ে উদ্যোগ না নিলেও কিছুটা ব্যাকফুটে গিয়েছে কমিশন। কারণ কয়েকদিন আগে কমিশন জানিয়েছিল, বিহারে ভোটার তালিকা শুদ্ধকরণে নেমে দেখা গিয়েছে, অনেকেই প্রয়াত। কেউ কেউ পাকাপাকিভাবে অন্য রাজ্যে চলে গিয়েছেন। নির্দিষ্ট ঠিকানায় অনেকেরই খোঁজ মেলেনি। এমনকী, বহু নাম রয়েছে একাধিক ঠিকানায়। আর তাই, এদের সবার নাম বাদ যাবে। সংখ্যার হিসেবে যা এখনও পর্যন্ত ৪১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৮১৩। কিন্তু লাগাতার চাপের মুখে পড়ে কমিশন জানিয়েছে, বহু ভোটার প্রয়াত নন। ‘সম্ভবত প্রয়াত’ বা ‘সম্ভবত স্থানান্তরিত’। অর্থাৎ, নথি দেখিয়ে চ্যালেঞ্জের সুযোগ রয়েছে। বিরোধীদের প্রশ্ন, এক বছর আগেও লোকসভা নির্বাচনে যাঁরা অবাধে ভোট দিলেন, এমন লক্ষ লক্ষ নাগরিক হঠাৎ কীভাবে উধাও হয়ে যাবেন? এর নেপথ্যে গেরুয়া ষড়যন্ত্র নেই তো? এর জবাব অবশ্য শাসক পক্ষের থেকে পাওয়া যাচ্ছে না। উপরন্তু কমিশনের নিজের দেওয়া ভোটার পরিচয়পত্রকেও মান্যতা দেওয়া হচ্ছে না। সুপ্রিম কোর্ট হস্তক্ষেপ করার পর শুধু প্রক্রিয়া খানিক শিথিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, নির্ধারিত ১১টি নথির মধ্যে যাঁরা একটিও জমা করতে পারছেন না, তাঁদের ইনিউমারেশন ফর্ম জমা নেওয়া হচ্ছে। পরে নথি জমা দেওয়ার শর্তে। আগামী ১ আগস্ট খসড়া তালিকা প্রকাশ হবে। তার আগে ২৮ জুলাই সুপ্রিম কোর্টে যেমন পরবর্তী শুনানি, একইভাবে আজ ২১ জুলাই কমিশন শীর্ষ আদালতে এসআইআর সম্পর্কে রিপোর্ট জমা দেবে। আর সবটাই হবে সংসদের অধিবেশন চলাকালীন। ফলে এই ইস্যুতে যে সংসদ উত্তাল হবে, বলাই বাহল্য। রবিবারই কংগ্রেস মুখপাত্র জয়রাম রমেশ বলেছেন, ‘বিহার, পশ্চিমবঙ্গ, অসম সহ অন্যত্রও বিপুল অংশের ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন না। কমিশনের এই কাজ গণতন্ত্রের উপর আঘাত। এসআইআর আসলে ভোটবন্দি। নোটবন্দির মতোই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ