নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বিজেপি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি। সেকারণে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃত গড়বেতার প্রসূতি মামনি রুইদাসের পরিবারের সদস্যরা মুখ্যমন্ত্রী ও জেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জেলা সফরে আসার আগেই মামনির পরিবারকে পাঁচ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায্য করল রাজ্য সরকার। ইতিমধ্যেই ব্লক প্রশাসনের মাধ্যমে মামনির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা জানাচ্ছেন, মামনির মৃত্যুর পর থেকে গেরুয়া শিবিরের তরফে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা তো দূরের কথা, কেউ যোগাযোগই রাখেনি। তবে জেলা প্রশাসন পাশে থেকেছে। শিশুর জন্য খাবার, জামা-কাপড় ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। জেলাশাসক খুরশিদ আলি কাদরি বলেন, ঘটনার পর থেকে ওই পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে প্রশাসন। ব্লকস্তরের আধিকারিকরা নিয়মিত খোঁজখবর নিয়েছেন। পরিবারের তরফে আর্থিক সহায়তা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের তরফে পরিবারের হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়া হয়েছে। মামনির স্বামী দেবাশিস রুইদাস বলেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অনেকেই এসেছিলেন। তাঁরা পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনার কিছুদিন কেটে যাওয়ার পর আর যোগাযোগ করেনি কেউ। দুই সন্তানকে নিয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছিল। রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন পাশে থেকেছে। পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান পেয়েছি। তবে একটি চাকরির দাবি জানানো হয়েছে। চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজের ‘মাতৃমা’ বিভাগে প্রসূতি মৃত্যুর জেরে গত জানুয়ারি রাজ্যজুড়ে আলোড়ন পড়েছিল। ওই বিভাগে ভর্তি হয়েছিলেন গড়বেতা থানার বড়সারেঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা মামনি। সিজারের পরই মামনি সহ পাঁচ প্রসূতি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। তড়িঘড়ি তাঁদের চিকিৎসা শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। গত ১০জানুয়ারি ভোরে মৃত্যু হয় মামনির। বাকি চার প্রসূতির মধ্যে তুলনামূলকভাবে কম সঙ্কটজনক রেখা সাউয়ের চিকিৎসা চলে মেদিনীপুর মেডিক্যালেই। বাকি তিন প্রসূতিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১২জানুয়ারি সন্ধ্যায় বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স করে গ্রিন করিডরের মাধ্যমে কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রসূতি মৃত্যুর জেরে আলোড়ন পড়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ঘটনায় সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি মৃত প্রসূতির পরিবারের সদস্যদের আর্থিক সাহায্যের কথা জানান। কিন্তু, সেইসময় রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে বিজেপি নেতারা মামনির বাড়িতে পৌঁছে যান। সবরকমভাবে সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়। স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন মামনির পরিবারের সদস্যরা। জানা গিয়েছে, প্রথম দিকে মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা করা সাহায্যের জন্য আবেদন করেননি তাঁরা। তবে ঘটনার পর বিজেপিকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। এর ফলে সমস্যায় পড়ে পরিবার। জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক মহম্মদ রফিক বলেন, তৃণমূল সরকার কথা দিয়ে রাখতে জানে। বিজেপি শুধু প্রতিশ্রুতি দেয়। জেলা বিজেপির মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে টাকা দেওয়া হচ্ছে।-নিজস্ব চিত্র