Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

লাভ সত্ত্বেও তেলের অভাব! গড়াল না দীঘা ডিপোর বাস, ভোগান্তি যাত্রীদের, এসবিএসটিসি’র ভূমিকায় ক্ষোভ

বেলঘরিয়া থেকে জ্বালানি তেল না আসায় গত ২৮জুলাই সোমবার দীঘা ডিপো থেকে কোনও সরকারি বাস ছাড়েনি।

লাভ সত্ত্বেও তেলের অভাব! গড়াল না দীঘা ডিপোর বাস, ভোগান্তি যাত্রীদের, এসবিএসটিসি’র ভূমিকায় ক্ষোভ
  • ৪ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: বেলঘরিয়া থেকে জ্বালানি তেল না আসায় গত ২৮জুলাই সোমবার দীঘা ডিপো থেকে কোনও সরকারি বাস ছাড়েনি। হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। অন্য ডিপোর সরকারি বাসে মারাত্মক ভিড় হয়। চূড়ান্ত নাকাল হন যাত্রীরা। এটা কোনও বিক্ষিপ্ত ঘটনা নয়। মাঝেমধ্যেই দীঘা ডিপোয় এমনটা হচ্ছে। ঘটনায় নিগমের অন্দরে বিস্তর চর্চা চলছে। শুধু তেল নয়, বাসের যন্ত্রাংশ সাপ্লাইও সেভাবে নেই। বডি রিপেয়ারিং আগের মতো হয় না বলে অভিযোগ। নিগমের নিজস্ব ড্রাইভার, কন্ডাক্টররা অবসর নেওয়ার পর এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ চলছে। এই মুহূর্তে এসবিএসটিসির প্রায় ৭০শতাংশ কর্মীই এজেন্সি নিযুক্ত। অথচ, আগের তুলনায় লাভ বেড়েছে। আগে প্রতি কিলোমিটার বাস গড়ালে ২৮থেকে ২৯টাকা আয় ছিল। এখন সেটা বেড়ে ৩২-৩৩টাকা হয়েছে। এতে খরচ ধরা হয় ২০-২২টাকা। তারপরও এসবিএসটিসি নিয়ে সরকারের ভূমিকা দুয়োরানি সুলভ বলে কর্মীদের বক্তব্য।

Advertisement

এসবিএসটিসির চেয়াপার্সন সুভাষ মণ্ডল বলেন, কোনও কারণে বেলঘরিয়া থেকে সময়মতো জ্বালানি তেল না যাওয়ায় গত সোমবার দীঘা ডিপোর বাস চলেনি। তবে অন্য অনেক ডিপোর বাস দীঘা আসাযাওয়া করে। সেইসব বাস স্বাভাবিকভাবে চলাচল করেছে। নিয়োগের বিষয়টি সরকারি নীতির সঙ্গে জড়িত। এটা নিয়ে কিছু বলব না। তবে, ঝাড়গ্রাম, দুর্গাপুর ও বেলঘরিয়া তিনটি সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপ থেকে আমাদের যাবতীয় কাজকর্ম হয়। বাস রিপেয়ারিংয়ের কাজ শালিমারে হয়।
প্রতিদিন এসবিএসবিটির দীঘা ডিপো থেকে ৪০টি বাস চলাচল করে। এছাড়াও অন্যান্য ডিপোর আরও অন্তত ৪০টি বাস চলে। দীঘা ডিপোর জ্বালানি তেল বেলঘরিয়া থেকে আসে। সময়মতো রিক্যুইজিশন পাঠানো সত্ত্বেও তেল সরবরাহ না হওয়ায় সোমবার দীঘা ডিপোর কোনও বাস চলেনি। নিগমের কর্মীরাই বলছেন, পুরনো লঝ্‌ঝ঩ড়ে বাস সময়মতো রিপেয়ারিং হচ্ছে না। বছরের পর বছর চালানো হচ্ছে। আসলে বাসের যন্ত্রাংশের সাপ্লাই সেভাবে নেই। সেন্ট্রাল ওয়ার্কশপে অফিসাররা অবসর নেওয়ার পর শূন্যপদ পূরণ হচ্ছে না। বাম জমানায় নব্বইয়ের দশকে একচেটিয়া সরকারি বাসের চালক ও কন্ডাক্টর নিয়োগ করা হয়েছিল। এখন তাঁদের একচেটিয়া অবসর নিচ্ছেন। সেই জায়গায় এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ হচ্ছে।
দীঘায় জগন্নাথ মন্দির উদ্বোধনের পর থেকে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক প্রতিদিন আসছেন। সড়কপথে আসা পর্যটকদের অনেকেই সরকারি বাস পরিষেবার উপর ভরসা করেন। এরকম একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইনের ডিপোয় তেলের অভাবে সারাদিন একটিও বাস না চলার ঘটনা আশ্চর্যজনক। এরআগেও একাধিক এমন ঘটনা ঘটেছে। তারপরও কর্তৃপক্ষের হুঁশ ফেরেনি।
শনিবার চাউলখোলা থেকে ধর্মতলাগামী বাসে উঠেছিল এক পরিবার। তাঁরা জানান, বাসের সিট ছেঁড়া। সিটে বসার ও ঠেস দেওয়ার জায়গায় শুধু প্লাই বেরিয়ে রয়েছে। দীর্ঘদিন কোনও কাজ না হওয়ায় প্রচুর আওয়াজে টেকা যাচ্ছে না। সরকারি বাসের পরিষেবার এমন হাল গত কয়েক বছরে দেখা যায়নি।  প্রতীকী ছবি

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ