সংবাদদাতা, মানকর: আসানসোল ডিভিশনের পারাজ, গলসি ও রাজবাঁধের যাত্রীদের একাংশ লোকাল ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে সরব হয়েছে। তাদের অভিযোগ, বর্ধমান থেকে ৬৩৫২৩ লোকাল ট্রেনটি বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে ছেড়ে বেরিয়ে আসে। পরের ট্রেনটিই লাস্ট লোকাল। কিন্তু, সেই ট্রেনের জন্য প্রায় তিন ঘণ্টা বসে থাকতে হচ্ছে। বর্ধমান স্টেশন থেকে ৬৩৫২৫ লাস্ট লোকালের সময় রাত ৮টা বেজে ০৫ মিনিট। কোনও কারণে বিকেলের ট্রেন না পেলে দীর্ঘক্ষণ স্টেশনে বসেই সময় কাটাতে হচ্ছে। তাঁদের বক্তব্য, প্রতি বছর যাত্রী বাড়লেও ট্রেনের সংখ্যা বাড়েনি। তাছাড়া, যে লোকাল ট্রেনগুলি বর্তমানে চলছে, সেগুলিও প্রায়ই নির্দিষ্ট সময়ে আসছে না। সমস্যায় পড়ছেন অফিস যাত্রী থেকে পড়ুয়া সকলেই।
পারাজ, গলসি, রাজবাঁধ থেকে বহু মানুষ প্রতিদিন জীবিকার তাগিদে বর্ধমান ও দুর্গাপুরে যান। এইসব এলাকা থেকে বাসে করে গন্তব্যে যেতে গেলে বহু সময় ও টাকা খরচ হয়। তাই এলাকাগুলির বাসিন্দাদের ভরসা লোকাল ট্রেন। পাশাপাশি, প্রতিদিন বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য বর্ধমান হাসপাতালে যান। গলসির বাসিন্দা অনুপম সরকার বলেন, হাওড়া, কাটোয়া থেকে ট্রেনে এসে অনেক সময় ৫টা ২০ মিনিটের লোকাল পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে লাস্ট লোকালের জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ফলে, প্রায় তিন ঘণ্টা স্টেশনে বসেই কেটে যায়। তিনি জানান, ওই সময় একাধিক এক্সপ্রেস ট্রেন থাকলেও তার স্টপেজ গলসিতে নেই।
পারাজের বাসিন্দা বাপন হাজরা বলেন, কোলকোল, পারাজ, গলসি সহ সংলগ্ন এলাকার বহু মানুষ নিত্যদিন বিভিন্ন প্রয়োজনে বর্ধমানে যান। কিন্তু, লাস্ট লোকাল ধরার তাগিদে দ্রুত কাজ শেষ করতে হয়। যাত্রীদের দাবি, এই দু’টি লোকালের মাঝে একটি নতুন ট্রেন দেওয়া হোক। পাশাপাশি, লাস্ট লোকালের সময় পিছিয়ে দেওয়া হোক। এক যাত্রী বলেন, বেশ কিছুদিন লাস্ট লোকালের সময় প্রায় আধ ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছিল। পরে ফের এগিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। নিত্যযাত্রীদের একাংশের অভিযোগ, লোকাল ট্রেনগুলি প্রায় সময় চলে না। ফলে অসুবিধা হয়।
মানকরের বাসিন্দা নিত্যযাত্রী সুরজিৎ গুপ্ত বলেন, অনেক সময় আসানসোলগামী লাস্ট লোকাল সময়ে আসে না। ফলে, অফিসের ‘নাইট শিফট’ ধরতে দেরি হয়ে যায়। কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে হয়। তাই অফিসে যাতে দেরি না হয়, সেই জন্য অনেকেই লাস্ট লোকালের বদলে তার আগের ট্রেনটি ধরেন। ফলে অনেক আগে গিয়ে বসে থাকতে হয়। বর্ধমানগামী লাস্ট লোকালের সময়ের দিকেও রেল কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া দরকার। ট্রেনটি প্রায়ই দেরি করে।
নতুন ট্রেনের বিষয়টি নিয়ে রেলের এক আধিকারিক বলেন, যাত্রীদের তরফে আবেদন করলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।