সংবাদদাতা, কান্দি: কেন্দ্র সরকার টাকা বরাদ্দ করলেও হয়নি ব্রিজ। বিধায়ক তহবিলের টাকায় তৈরি হাইমাস্ট আলোও একবছর ধরে বিকল। ফলে সন্ধ্যা নামলেই ফেরিঘাট অন্ধকারে ডুবে যায়। কেবল মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে নৌকায় ঝুঁকির নদী পারাপার করছেন বাসিন্দারা। খড়গ্রাম ব্লকের দ্বারকা নদের পোড়াডাঙা ফেরিঘাটের এই বেহাল অবস্থায় বাসিন্দারা ক্ষুব্ধ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার ১২ নম্বর রাজ্য সড়কের পলসন্ডা থেকে নবগ্রাম হয়ে ওই ফেরিঘাট পেরিয়ে সহজেই বীরভূমের রামপুরহাটে পৌঁছানো যায়। এছাড়াও স্থানীয় ঝিল্লি পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দারা ওই ফেরিঘাট পেরিয়ে সহজে জেলার বিভিন্ন এলাকায় যেতে পারেন। সেকারণেই কয়েক দশক ধরে দ্বারকা নদের পোড়াডাঙা ফেরিঘাট এলাকায় একটি ব্রিজের দাবি করছেন সবাই।
খড়গ্রাম ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় জঙ্গিপুরের সাংসদ থাকাকালীন ওই ব্রিজ ও নতুন একটি রাস্তার জন্য টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। তৎকালীন কেন্দ্রীয় সরকার প্রায় ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দও করেছিল ব্রিজের জন্য। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি অধিগ্রহণের কাজ শুরু হয়। কিন্তু তারপরেও কোনও অজ্ঞাত কারণে থমকে যায় প্রকল্পের কাজ। তাই ব্রিজ ও রাস্তার দাবিপূরণ আজও হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা বাবলু শেখ, সুমন কবীর, অনাথ মার্জিতরা জানান, এই ব্রিজ হলে দু’টি জেলার যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হতো। টাকা বরাদ্দের পরেও কেন কাজ বন্ধ হয়ে গেল, বুঝতে পারছি না।
এদিকে পোড়াডাঙা ফেরিঘাটে প্রশাসনের থেকে একটি কজওয়ে নির্মাণ করা হলেও বর্ষার শুরুতেই সেটি ডুবে যায়। এবছরও যা হয়েছে। ফলে একমাত্র নৌকার ভরসাতেই বীরভূম ও ঝিল্লি পঞ্চায়েত এলাকার ১৭টি গ্রামের মানুষ নদী পারাপার করছেন। কিন্তু তাতেও মেটেনি সমস্যা। হাইমাস্ট বিকল থাকায় অন্ধকারে মোবাইল জ্বেলে নৌকায় ঝুঁকির পারপার করতে হয়।
নৌকাযাত্রী শ্যামল মণ্ডল বলেন, একে নৌকায় পারাপারের ঝুঁকি। তারপর সন্ধ্যে নামলেই অন্ধকারের মধ্যে ভয়ানক অবস্থা তৈরি হয়। ভয় কাটাতে মোবাইল জ্বেলে নৌকা পার হতে হয়।
নৌকার মাঝি সমীর শেখের কথায়, ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ঘাটে নৌকা চলে। তবে আলোর কথা বলতে পারব না।
খড়গ্রামের বিধায়ক আশিস মার্জিত বলেন, দ্রুত হাইমাস্ট আলো মেরামত করা হবে। ফেরিঘাটে ব্রিজ তৈরির জন্য নবান্নে আবেদন করা হয়েছে। একবার ইঞ্জিনিয়াররা এলাকা পরিদর্শনও করে গিয়েছেন।
যদিও স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য শাশ্বত মুখোপাধ্যায় বলেন, আপাতত ব্রিজ তৈরির কোনও সম্ভাবনা দেখছি না। অন্ধকারে মোবাইল জ্বেলে নদী পারাপারের ঘটনাও মিথ্যা নয়।