নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: সে-ই খুন করেছে ঈশিতা মল্লিককে (১৯)। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি মূল অভিযুক্ত দেশরাজ সিংয়ের। সোমবার তার বাবা রাঘবেন্দ্রপ্রতাপ সিংকে গ্রেপ্তার করে কৃষ্ণনগর নিয়ে আসা হয়। রাজস্থানের জয়সলমীরে ওয়ারেন্ট জারি হওয়ার পরেও আইনি জটিলতার কারণে দীর্ঘ এক সপ্তাহে সেখানে নজরবন্দি করে রাখা হয়েছিল তাকে। অবশেষে বিএসএফের থেকে সবুজ সংকেত মেলায় তাকে নিজেদের জিম্মায় নেয় কৃষ্ণনগর কোতোয়ালি থানার পুলিশ। কারণ খুনের পর পুলিশের নজর এড়িয়ে কীভাবে পালাতে হবে, তার সবটাই ছিল তার বাবা রাঘবেন্দ্রপ্রতাপ সিংয়েরও মস্তিষ্কপ্রসূত। পাশাপাশি এদিন দুপুর দুটো নাগাদ কাঁচরাপাড়ার ধরমপুরে দেশরাজকে তার নিজের বাড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ। তাকে দিয়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণ করানো হয়। যে ভাড়া বাড়িতে সে থাকত, সেই বাড়ি খুলে ঘরে তল্লাশি চালানো হয়। তার ল্যাপটপ বাজেয়াপ্ত করে পুলিশ। এছাড়াও আরও কিছু প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
দেশরাজকে প্রাথমিক জেরায়, খুনের ঘটনার স্বীকারোক্তি পাশাপাশি আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সে পুলিশকে জানিয়েছে। জুলাই মাসে সে কাঁচরাপাড়া থেকে দেউড়িয়া গিয়েছিল। সেখান থেকেই আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কাঁচরাপাড়ায় ফিরে আসে। তারপরেই কোমরে আগ্নেয়াস্ত্র খুঁজে ইনস্টাগ্রামে ছবি শেয়ার করে এবং সেই ছবিতে ‘ডেড বডি সুন’ বলেও লেখে। আর সেই সোশ্যাল মিডিয়ার স্টোরি নিজেদের বন্ধুদের শেয়ার করে বলে যে, সেটা ঈশিতাকে দেখাতে। কারণ ততদিনে ঈশিতা সম্পর্ক ভাঙার জন্য, সোশ্যাল মিডিয়ার সমস্ত সাইট থেকে ব্লক করে দিয়েছিল দেশরাজকে।
জিজ্ঞাসাবাদে দেশরাজ জানায়, ঘটনার দিন সে বাড়ির বাইরেই অপেক্ষা করছিল। বাড়ির বাইরের দোকানে দাঁড়িয়ে সিগারেট খায়। ঈশিতার মা কখন বাড়ি থেকে বেরোয় তা বন্ধুদের থেকেই জেনেছিল দেশরাজ। কুসুম দেবী ছেলেকে আনতে বাড়ি থেকে বেরতেই সে ঘরে ঢুকে ঈশিতার উপর চড়াও হয়। তারপর ঈশিতাকে মেঝেতে বসিয়ে তার মাথায় তিন রাউন্ড গুলি চালায়। তারপর কুসুমদেবীকে খুন করার জন্য ঘরের মধ্যেই অপেক্ষা করেছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় সে পালিয়ে যায়। খুনের পর মা-বাবার সঙ্গে কথা বলে দেশরাজ। তার বাবাই পালানোর ছক কষে দিয়েছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। হাওড়া থেকে দুন এক্সপ্রেস ধরে সে সরাসরি অযোধ্যায় পৌঁছয়। বাবার পরামর্শে বরাকর স্টেশন মোবাইল ফোনটি ফেলে রেখে চলে যায়। অযোধ্যা পৌঁছে সুমিত তিওয়ারি নামে একজনের হোটেলে ওঠে সে। বাবার নামেই হোটেল বুক করে। হোটেল মালিকের অ্যাকাউন্টেই রাজস্থান থেকে ২০ হাজার টাকা পাঠায় রাঘবেন্দ্রপ্রতাপ সিং। সেই টাকা দিয়ে মোবাইল কিনেছিল দেশরাজ। হোটেলের ওয়াইফাই ব্যবহার করে নিয়মিত বাবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে সে। পুলিস সেটা জানতে পারায় তার বাবার নামে ওয়ারেন্ট জারি করে। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, ঈশিতার আগেও তার গার্লফ্রেন্ড ছিল। একটি ছেলের সঙ্গে তার পূর্ববর্তী গার্লফ্রেন্ডের সম্পর্ক রয়েছে, এই সন্দেহে ওই ছেলেটাকে বেধড়ক মারধর করে। যার জন্য দেশরাজকে কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল।