Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

গরমে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট জেলায়, প্রতিটি সাবস্টেশনের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে দপ্তর

গরমে তীব্র বিদ্যুৎ বিভ্রাট জেলায়, প্রতিটি সাবস্টেশনের ক্ষমতা বাড়াচ্ছে দপ্তর
  • ২১ মে, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: একদিকে তীব্র গরম, তারমধ্যেই চূড়ান্ত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নাজেহাল নদীয়া জেলার বাসিন্দারা। জেলার বিভিন্ন অংশে শহর থেকে গ্রামীণ জনপদ—প্রতিটি এলাকাতেই বিদ্যুৎ সমস্যা চরম আকার নিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ফেরে না। কখনও দিনে, তো কখনও রাতে— লোডশেডিং এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। কোথাও কোথাও আবার একটানা সারা রাত বিদ্যুৎ না থাকায় মারাত্মক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। লাগাতার এই বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে লোড না বাড়িয়েই এয়ার কন্ডিশনার (এসি) বসানোর প্রবণতা। বাসাবাড়ি হোক বা দোকান, অনুমতি ছাড়াই লাগানো হয়েছে এসি। যার জেরে সাবস্টেশনগুলোর উপর চাপ বেড়েছে। যার ফোল লোড নিতে না পেরে বোস যাচ্ছে ট্রান্সফর্মারগুলি। জেলার বিভিন্ন প্রান্তে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

Advertisement

এই পরিস্থিতির মোকাবিলায় বড় পদক্ষেপ করেছে বিদ্যুৎ দপ্তর। নদীয়া জেলার প্রতিটি সাবস্টেশনের বিদ্যুৎ সরবরাহ ক্ষমতা বাড়ানোর কাজ শুরু হয়েছে। দপ্তরের সূত্রে জানা গিয়েছে, আগে যেখানে সাবস্টেশনগুলোর ক্ষমতা ৫ থেকে ৭ এমভিএ (মেগাভোল্ট অ্যাম্পিয়ার) ছিল, বর্তমানে তা বাড়িয়ে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ১০ এমভিএ পর্যন্ত করা হয়েছে। রানাঘাট ও কল্যাণী সাব ডিভিশনের অধীনস্থ একাধিক সাবস্টেশনে ইতিমধ্যেই এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি, রানাঘাট ডিভিশনে নতুন একটি সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহের আর কোনও সমস্যা না হয়।
বিদ্যুৎ দপ্তরের শীর্ষ আধিকারিক রথীন বিশ্বাস জানান, চলতি গরমে বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়বে। তাই আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাবস্টেশনগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ পরিষেবার মানোন্নয়নের দিকেও নজর দেওয়া হচ্ছে। আমরা সূত্রাগড়ে নতুন সাব স্টেশন চালু করেছি‌  প্রসঙ্গত, গত বছর প্রবল গরমে জেলার বিভিন্ন অংশে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা দেখা দিয়েছিল। তাপমাত্রা প্রায় ৫০ ডিগ্রি ছুঁয়েছিল। তখন বিদ্যুতের চাহিদা পূরণে হিমশিম খেয়েছিল বিদ্যুৎ দপ্তর। এর জেরে দীর্ঘ লোডশেডিং, লো ভোল্টেজ, এমনকী কিছু এলাকায় সারারাত বিদ্যুৎ না থাকার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে বিদ্যুৎ দপ্তর। তবে বাস্তব পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। গ্রামীণ এলাকাগুলিতে প্রতিদিন ঘণ্টাখানেক লোডশেডিং লেগেই আছে। কৃষ্ণনগর-১ ব্লকের কুলগাছি এলাকার বাসিন্দা বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, প্রতিদিনই বিদ্যুৎ যাচ্ছে। কখনও দেড় ঘণ্টা, কখনও আবার আড়াই ঘণ্টার জন্য লোডশেডিং থাকে। খুবই অসুবিধে হচ্ছে। কালীগঞ্জের পলাশীর বাসিন্দা দেবাশিস আচার্য বলেন, আমাদের এখানে লোডশেডিং নিয়মিত হচ্ছে। বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হলেই কারেন্ট চলে যায়। এই নিয়ে আমরা স্থানীয় সাবস্টেশনে একাধিকবার ডেপুটিশন দিয়েছি। পলাশী এলাকায় আলাদা সাবস্টেশন দরকার। আর এলাকার প্রচুর এসি বিক্রি হচ্ছে। বিদ্যুৎ দপ্তরের আধিকারিকরা আশ্বাস দিচ্ছেন, সাবস্টেশনগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নের কাজ শেষ হলে আগামী দিনে এই সমস্যার অনেকটাই সমাধান হবে। জনসাধারণের একাংশের দাবি, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়নের পাশাপাশি অবৈধভাবে বসানো এসিগুলোর উপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে, না হলে সমস্যা ভবিষ্যতে আরও তীব্র হতে পারে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ