উদয়পুর: রাজস্থানের উদয়পুরে এক বেসরকারি ডেন্টাল কলেজে ছাত্রীর আত্মহত্যা। সুইসাইড নোটে ওই পড়ুয়া লিখে গিয়েছেন, কলেজের বেশ কয়েকজন অধ্যাপকের লাগাতার হেনস্তা সহ্য করতে না পেরেই এই চরম পরিণতি তিনি বেছে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, একইসঙ্গে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ করেছেন ওই ছাত্রী। এই খবর চাউর হতেই শনিবার গোটা কলেজজুড়ে ধুন্ধুমার শুরু হয়। পড়ুয়া থেকে শুরু করে চিকিৎসক মহলের অনেকেই এদিন বিক্ষোভে শামিল হন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার দাবি তুলেছেন তাঁরা।
জানা গিয়েছে, আদতে জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা শ্বেতা সিং নামে ওই ছাত্রী বিডিএসের চূড়ান্ত বর্ষের পড়ুয়া। বৃহস্পতিবার তাঁকে হস্টেলের ঘরে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন তাঁর রুমমেট। তিনিই কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে পুলিস এসে শ্বেতার দেহ উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হয় সুইসাইড নোটও। তাতে কলেজের অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে গিয়েছেন শ্বেতা। এদিন বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের সকলেই অভিযুক্ত অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে যথাযথ পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন। কলেজ ক্যাম্পাসের পাশাপাশি তাঁরা সংলগ্ন রাস্তাও অবরোধ করেন। ভাইরাল ভিডিওয় দেখা গিয়েছে, হাতে প্ল্যাকার্ড নিয়ে নির্যাতিতার সুবিচারের দাবিতে ডাক্তারি অ্যাপ্রনেই পড়ুয়ারা রাস্তায় নেমেছেন।
সুখের থানার পুলিস ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে পড়ুয়ারা নিজেদের অবস্থানে অনড় ছিলেন। তাঁরা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, যতক্ষণ না অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে ততক্ষণ আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। ইতিমধ্যে কলেজের ডিরেক্টর বিক্ষুব্ধদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। অভিযুক্ত অধ্যাপকদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে সুখের থানার এসএইচও রবীন্দ্র চরণ জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টা নাগাদ হস্টেলের ঘরে শ্বেতার দেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মৃতা ছাত্রী বিস্তর অভিযোগ করে গিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, পরীক্ষায় বিভিন্ন দুর্নীতির পাশাপাশি পড়ুয়াদের থেকে লাগাতার নানা কারণে টাকা নেওয়া হতো। সেই টাকা না দিতে পারলে পড়ুয়াদের সঙ্গে কলেজের বেশ কয়েকজন অধ্যাপক দুর্ব্যবহার করতেন। সব মিলিয়ে টানা এই হেনস্তা সহ্য করতে না পেরেই ওই ছাত্রী আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন।