ওয়াশিংটন: ফৌজে সদস্য সংখ্যা সাকুল্যে ৮৩ হাজার। তাই দিয়েই ‘সুপারপাওয়ার’ আমেরিকাকে চ্যালেঞ্জ ডেনমার্কের। ড্যানিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের হুমকি, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা ভূখণ্ড গ্রিনল্যান্ডকে কেউ দখলের চেষ্টা করলে ফল ভালো হবে না। নির্দেশের অপেক্ষা না করে আগে গুলি চালাবে আমাদের সেনা। কথা পরে হবে। গ্রিনল্যান্ড দখলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেনা অভিযানের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। সেই আবহেই পালটা সুর চড়াল ডেনমার্ক। ফলে ‘গ্রিনল্যান্ড’ নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটির সংঘাতের শঙ্কায় হিমশীতল উত্তরমেরু অঞ্চল উত্তপ্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা। সংঘাতের এই আবহেই আবার সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের একটি রিপোর্টে চাঞ্চল্যকর দাবি করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে তাদের দাবি, গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দাদের মন জয়ে কাড়ি কাড়ি ডলার খরচের পরিকল্পনা করেছে আমেরিকা। ড্যানিশ নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে আমেরিকার পক্ষে গ্রিনল্যান্ডবাসীর সায় নিশ্চিত করতে মাথাপিছু ১০ হাজার থেকে ১ লক্ষ ডলার আর্থিক অনুদান পাঠানোর পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলে খবর।
গ্রিনল্যান্ডে আমেরিকার সেনা অভিযানের হুমকি জোরালো হতেই পালটা সুর চড়িয়েছে ডেনমার্কও। স্থানীয় সংবাদপত্র বার্লিংস্কের প্রশ্নের জবাবে ড্যানিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রক জানিয়েছে, ঠান্ডা যুদ্ধের সময়কালে ১৯৫২ সালে জারি হওয়া নির্দেশিকা এখনও সমান সক্রিয় রয়েছে। কী বলা হয়েছিল সেই নির্দেশিকায়? ড্যানিশ ভূখণ্ড কোনও বিদেশি শক্তির হুমকির মুখে পড়লে কমান্ডারদের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকবে না সেনা। তারা আগে গুলি চালাবে। প্রশ্ন, আলাপ-আলোচনা— এসব পরে হবে। ১৯৪০ সালে এপ্রিলে নাৎসি জার্মানির হামলার মুখে পড়েছিল ডেনমার্ক। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই পরবর্তীকালে আত্মরক্ষার স্বার্থে সেনাবাহিনীতে ওই বিশেষ নির্দেশিকা জারি করা হয়েছিল। সেটি এখনও চালু রয়েছে বলেই সাফ জানিয়ে দিল ডেনমার্ক। উল্লেখ্য, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ডেনমার্ক সেনার জয়েন্ট আর্কটিক কমান্ড। এই দ্বীপভূমিতে কোন ধরনের হুমকিকে বিদেশি হামলা বলে বিবেচনা করা হবে, তা নির্ধারণের দায়িত্বে রয়েছে এই বাহিনীটিই।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের সঙ্গে আমেরিকার এই সংঘাতের নেপথ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুমকি। স্বশাসিত গ্রিনল্যান্ডকে প্রয়োজনে জোর করে দখলের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, চীন ও রাশিয়ার জাহাজ যেভাবে ঢুকে পড়ছে তাতে আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই আর্কটিক অঞ্চলের এই ভূখণ্ডকে আমাদের নিয়ন্ত্রণে আনা দরকার হয়ে পড়েছে। একটি সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছেন, কোনও চুক্তি নয়, বরং গোটা গ্রিল্যান্ডের ‘মালিকানা’ চাইছেন তিনি। উল্লেখ্য, ১৯৫১ সালের চুক্তি মোতাবেক, গ্রিনল্যান্ডে সেনা ঘাঁটি তৈরির অধিকারী আমেরিকাও। তবে এজন্য আগে গ্রিনল্যান্ডের বাসিন্দা ও নিয়ন্ত্রক ডেনমার্কের সম্মতি প্রয়োজন। এই অবস্থায় বেপরোয়া ট্রাম্পের হুমকির জেরে চলতি সপ্তাহে সুর চড়ান ড্যানিশ প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেনও। তাঁর বক্তব্য ছিল, আমেরিকা যদি ন্যাটোরই অন্য একটি সদস্য দেশে হামলার পথে হাঁটে, তাহলে এই সামরিক জোটের মৃত্যুঘণ্টা বেজে যাবে। উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠার মধ্যেই ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের দূতেরা ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের আধিকারিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে খবর। আগামী সপ্তাহে মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গেও তাঁদের সক্ষাৎ করার কথা।