নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট ও কল্যাণী: চলতি বছর প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। বাৎসরিক গড় ছাপিয়ে গিয়েছে।কিন্তু স্বাস্থ্যদপ্তরের তৎপরতায় রানাঘাট ও কল্যাণী মহকুমায় ডেঙ্গু আক্রান্তের গ্রাফ বাড়েনি মোটেই। একমাত্র হরিণঘাটা ব্লক বাদ দিলে, দুই মহকুমার ব্লকগুলিতে জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দশও ছাড়ায়নি। তবে এখনই স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে রাজি নন স্বাস্থ্যকর্তারা।
এবার বৃষ্টিস্নাত গ্রীষ্ম দেখেছে নদীয়াবাসী। বর্ষায়ওবৃষ্টি হয়েছে গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। স্বাভাবিকভাবেই জল জমেছে বিভিন্ন জায়গায়। কিন্তু তা সত্ত্বেও ডেঙ্গু সেভাবে থাবা বসাতে পারেনি। জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের তৎপরতায় এখনও পর্যন্ত নদীয়া দক্ষিণের রানাঘাট ও কল্যাণী, এই জোড়া মহকুমায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা যথেষ্ট স্বস্তিদায়ক। রানাঘাট মহকুমার চারটি ব্লক মিলিয়ে রয়েছে মোট ৪৭টি গ্রাম পঞ্চায়েত এবং কল্যাণী মহকুমার তিনটি ব্লক মিলিয়ে মোট ২৭টিগ্রাম পঞ্চায়েত। এছাড়া রানাঘাট মহকুমা এলাকায় দু’টি নোটিফায়েড এরিয়া মিলিয়ে পুরসভার সংখ্যা পাঁচটি এবং কল্যাণী মহকুমা এলাকায় চারটি। ঘন জনবসতির কারণে প্রতিবছর ডেঙ্গুর মারাত্মক প্রকোপ দেখা যায় এই দুই মহকুমায়। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত নদীয়া জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে চার হাজারের কাছাকাছি। ২০২৪ সালে অনেকটাই কমে আসে সেই সংখ্যা। কেবলমাত্র রানাঘাট মহাকুমার শান্তিপুর পুরসভায় একটিও কেস হয়নি। চলতি বছর গ্রীষ্ম থেকে বর্ষা, কখনও মাঝারি এবং কখনও ভারী বৃষ্টিপাত হয়েই চলেছে। বিরামহীন বৃষ্টিতে এলাকায় এলাকায় জমা জলও রয়েছে। ফলে আশঙ্কা ছিল জমা জল থেকে মাথাচাড়া দিতে পারে ডেঙ্গু। তাই নির্ধারিত সময়ের অনেকটা আগে থেকেই কাজ শুরু করে পুরসভাগুলি। গ্রামীণ এলাকাগুলিতেও ভেক্টর কন্ট্রোল টিম নামিয়ে জমা জল এবং আবর্জনার স্তূপে ডেঙ্গুর আঁতুড়ঘর ভাঙার কাজ করে স্বাস্থ্যদপ্তর। তাতে হাতেনাতে ফলমিলেছে। ২০ আগস্ট পর্যন্ত দক্ষিণ নদীয়ার রানাঘাট এবং কল্যাণী, জোড়া মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার একমাত্র হরিণঘাটা ব্লকে এই আক্রান্তের সংখ্যা ২০ ছাড়িয়েছে। মূলত ওই ব্লকের ফতেপুর অঞ্চলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বাধিক। স্বাস্থ্যদপ্তরের পর্যালোচনা বলছে, উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় সেখানে গ্রাফ কিছুটা উপরের দিকে। কিন্তু বাকি এলাকায় আক্রান্তের সংখ্যা ১০ ছাড়ায়নি। তবে লাগাতার যে ডেঙ্গু বিরোধী অভিযান চলছে তার গতি হ্রাস করতে এখনই রাজি নয় স্বাস্থ্যদপ্তর। কারণ বর্ষার এখনও বেশ কিছুটা সময় বাকি। রানাঘাট এবং কল্যাণী মহাকুমার দায়িত্বে থাকা সহকারী মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক পুষ্পেন্দু ভট্টাচার্য বলেন, আমরা ভেক্টর বোর্ন ডিজিজভলান্টিয়ার বা ভিভিডি টিমকে পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে বহু আগে থেকেই নামিয়ে দিয়েছি। তারা পাড়ায় পাড়ায় জমা জল রয়েছে কিনা, সে তথ্য সংগ্রহ করছে। এছাড়াও ভেক্টর কন্ট্রোল টিমও কাজ করছে। ফলে ডেঙ্গু এই বছর সেভাবে আশঙ্কা তৈরি করতে পারেনি। একমাত্র হরিণঘাটা ব্লক নিয়ে কিছুটা চিন্তা রয়েছে ঠিকই। তবে তা আমরা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি। ফতেপুর এলাকার মানুষ কলকাতায় যাতায়াত করেন কর্মসূত্রে। সেই কারণে রোগের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। তবে শান্তিপুর থেকে হাঁসখালি, কল্যাণী থেকে চাকদহ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত সংখ্যা নিয়ে চিন্তার কিছুই নেই।