নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: এ-যেন প্রদীপের নীচেই অন্ধকার! সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবার সবচেয়ে বড় ভরসা আসানসোল জেলা হাসপাতাল। করোনা হোক বা ডেঙ্গু, এখানে পৃথক ওয়ার্ড খুলে রোগীদের চিকিৎসা করা হয়। সেই হাসপাতাল চত্বরেই এবার বাসা বাঁধল ডেঙ্গু। আক্রান্ত ওই হাসপাতালের নার্সের এক বছর তিন মাসের শিশুকন্যা। উদ্বেগজনক অবস্থায় তাকে শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিন্তার বিষয় হল, ওই নার্স থাকতেন হাসপাতালের আবাসনে। জেলা হাসপাতালের আবাসনে কীভাবে ডেঙ্গু ছড়াল, তা নিয়ে শোরগোল পড়েছে। তাহলে কি হাসপাতাল চত্বরেই বংশবিস্তার করছে এডিস মশা? প্রশ্ন উঠছে হাসপাতাল চত্বরের পরিচ্ছন্নতা নিয়েও।
জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক শেখ মহম্মদ ইউনুস বলেন, আমরা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলিকে ধারাবাহিকভাবে পরিষ্কার করি। তারপরও কীভাবে জেলা হাসপাতাল চত্বরে থাকা আবাসনে ডেঙ্গু হল, তা নিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিচ্ছন্নতার উপর আরও জোর দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবারই জেলাশাসক ডেঙ্গু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছিলেন। সেখানে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সেই বৈঠক থেকে ডিএসপি, রেল, ইস্কোর মতো কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাগুলির শীর্ষ আধিকারিকদের সতর্ক করা হয়। স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছিল, তাঁদের টাউনশিপ এলাকার অফিস, আবাসন চত্বরে কোনওভাবেই জল জমতে দেওয়া যাবে না। এমনকী, স্বাস্থ্যদপ্তর সেইসব এলাকায় জল জমার ছবিও বৈঠকে প্রকাশ করে। সেগুলি সংগ্রহ করে এনেছিলেন স্বাস্থ্যদপ্তরের পতঙ্গ বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলিকে সতর্ক করতে গিয়ে কি স্বাস্থ্যদপ্তর নিজের এলাকাই পরিচ্ছন্ন করেনি? জেলা হাসপাতালের চিকিৎসক-নার্সদের আবাসনেই ডেঙ্গু আক্রান্তের সন্ধান মেলায় এই প্রশ্নই এখন জোরালো হচ্ছে।
পুরসভার স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, যে বাড়িতে ডেঙ্গু রোগী ধরা পড়ে, সেই এলাকার পাশ্ববর্তী ৫০টি বাড়িতে বিশেষ অভিযান চালাতে হয়। এটাই আমাদের নিয়ম। উদ্দেশ্য, সেইসব বাড়িতে জমা জল রয়েছে কি না, তা দেখা। মঙ্গলবার হাসপাতাল চত্বরের আবাসনে তা করতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হয়। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আড়াল করার চেষ্টা করে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, আমাদের জেলায় এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। আসন্ন দেড় মাস সকলকেই সতর্ক থাকতে হবে। এবার বেশকিছু ব্লকে ডেঙ্গু সংক্রমণের পরিমাণ বেড়েছে।