নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: আশঙ্কাই সত্যি হল! পুজোর দোরগড়ায় রাজ্য প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়াল মশাবাহিত অন্যতম প্রধান রোগ ডেঙ্গু। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, গত কয়েকদিনের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে শুরু করেছে ডেঙ্গু। আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৯ হাজার পার করেছে। তবে উদ্বেগ-উৎকন্ঠার মধ্যে সামান্য স্বস্তির বিষয় হল, গত বছর এই সময় রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল প্রায় সাড়ে ১২ হাজার!
দপ্তর থেকে জানা গিয়েছে, শুধু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে না, হাওড়ার ডোমজুড় এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত এক মহিলার মৃত্যুও হয়েছে। বিধবা ওই মহিলা বাড়িতে একাই থাকতেন। সম্প্রতি হালকা জ্বর হয়েছিল। তারপর দ্রুত পরিস্থিতির অবনতি হয়। দপ্তরের এক পদস্থ সূত্রের অবশ্য দাবি, শুধুমাত্র ডেঙ্গুর কারণে ওই মহিলার মৃত্যু হয়নি। ৫৬ বছর বয়সি ওই মহিলা ক্রনিক কিডনির অসুখ বা সিকেডি-তে ভুগছিলেন। তবে সামগ্রিকভাবে হাওড়া জেলা স্বাস্থ্যদপ্তরের কাজকর্ম নিয়ে অসন্তোষের মেঘ ঘনিয়েছে।
পদস্থ কর্তাদের একাংশের অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও হাওড়ায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় জোর দিচ্ছে না জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন। অথচ সাফাই ও পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গী জড়িয়ে ডেঙ্গুর বাড়া-কমা। হাওড়ার ক্ষেত্রে চিন্তার একটি বড়ো কারণ হল জেলায় ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া দু’টিই ক্রমবর্ধমান।
ডেঙ্গুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে রাজ্যে ম্যালেরিয়া সংক্রমণের গ্রাফও ঊর্ধ্বমুখী। ভাইভক্স ও ফ্যালসিফেরাম মিলিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১০ হাজার পার করেছে। যেসব জেলার পরিস্থিতি দপ্তরকে মাথাব্যথার কারণ, সেগুলি হল কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, মুর্শিদাবাদ ও পুরুলিয়া। ডেঙ্গু সংক্রমণে শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে কলকাতা। পরপর রয়েছে যথাক্রমে উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া ও হুগলি।