নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: চলতি বছর পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অনেক কমে গিয়েছে। ২০২৩সালে জেলায় ২৮০০জন ডেঙ্গু আক্রান্ত ছিলেন। গতবছর সেই সংখ্যা ১৪০০-তে নেমে আসে। আর এবছর এখনও অবধি ৩৫১জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। এতে স্বাস্থ্যদপ্তর স্বস্তিতে রয়েছে। তবে কালীপুজোর সময়ও স্বাস্থ্যকর্মীরা সচেতনতা প্রচার করবেন।
স্বাস্থ্যদপ্তরের আধিকারিকরা জানান, গতবছর ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি ছিল। তাই এবার বছরের শুরু থেকেই স্বাস্থ্যকর্মীরা ময়দানে নামেন। পুর এলাকার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও ডেঙ্গু মোকাবিলায় মানুষকে সচেতন করা হয়। এতেই সাফল্য মেলে।সিএমওএইচ সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীরা লাগাতার পরিশ্রম করছেন। তার ফলে এই জেলায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এমনকী, জেলায় বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছিল না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ অনুসারে আমরা নিরন্তর কাজ করে চলেছি। রাজ্য সরকারের তরফে পতঙ্গবাহিত রোগ নির্মূল করতে পদক্ষেপ করা হয়েছে। বিভিন্ন পুরসভা, পঞ্চায়েত এলাকায় স্বাস্থ্যকর্মীরা কাজ করছেন। সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে জেলায় ‘ভেক্টর ডিজিজ কন্ট্রোল’ প্রকল্প চলছে। এসবের জেরে জেলা তথা মেদিনীপুর পুর এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপের ছবিটা বদলে গিয়েছে। গতবছরের তুলনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকটাই কমেছে। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা চন্দন দাস বলেন, এবছর পতঙ্গবাহিত রোগ মোকাবিলায় স্প্রে করা হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা খোঁজখবর নিয়েছেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, গতবছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা হুহু করে বেড়ে গিয়েছিল। ডেঙ্গুতে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। এবার কোনও মৃত্যুর ঘটনা নেই। মেদিনীপুর পুর এলাকায় এখনও অবধি আটজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন। পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, গতবছরের তুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা খুবই কম। মানুষ সচেতন হচ্ছেন।
মেদিনীপুরে ডেঙ্গু দমন অভিযান।-নিজস্ব চিত্র