সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট স্বাস্থ্য জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। সোমবার পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছে। এই স্বাস্থ্যজেলার হাসপাতালগুলিতে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে রোগীদের ভিড় বাড়ছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জল জমার বিরুদ্ধে লাগাতার প্রচার চালাচ্ছে প্রশাসন। বিভিন্ন জায়গায় অভিযানও করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে খোদ মেডিক্যাল কলেজের মধ্যেই জমে রয়েছে প্যাকেট বন্দি আবর্জনা। হাসপাতালেই জমা জলে জন্ম নিচ্ছে অসংখ্য মশার লার্ভা। স্বভাবতই ডেঙ্গু আতঙ্ক গ্রাস করেছে চিকিৎসক, মেডিক্যাল পডুয়া, নার্সিং কলেজের ছাত্রী থেকে রোগীর আত্মীয় পরিজনদের।
রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ চত্বরে বেহাল অবস্থা নিকাশি ব্যবস্থার। যার জেরে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলমগ্ন হয়ে পড়ে এই চত্বরে থাকা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল। বন্ধ হয়ে পড়ে রয়েছে পিপিপি মডেলের সিটিস্ক্যান ও ডিজিট্যাল এক্স-রে বিভাগ। সমস্যায় পড়েন রোগীরা। এরই মধ্যে জমা জলে নোংরা আবর্জনা মিশে এক ভয়ঙ্কর অবস্থা হয়েছে মেডিক্যাল চত্বরে। নার্সিং কলেজের সামনেই স্তূপাকারে জমে কালো ক্যারিব্যাগ বন্দি নোংরা আবর্জনা, রোগীর ছেড়ে যাওয়া কাপড় সহ অন্যান্য বর্জ্য। ক্যারিব্যাগ ফেটে সেই আবর্জনা গড়াগড়ি খাচ্ছে রাস্তায়। কোথাও আবার সেই প্যাকেট নিকাশি নালায় ভাসছে। ফলে নিকাশি নালা কার্যত বুজে গিয়েছে। জমা জলে মশার লার্ভা কিলবিল করছে। তেমনি দুর্গন্ধে ওই রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাওয়া দায় হয়ে পড়েছে চিকিৎসক, নার্স থেকে মেডিক্যাল পড়ুয়াদের। এক নার্সিং ছাত্রী বলেন, কলেজের সিঁড়ি থেকে হেঁটে বেরিয়ে আসার উপায় নেই। কাদার সঙ্গে নোংরা মিলেমিশে একাকার। দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাকে রুমাল দিয়ে থাকতে হয়। কর্তৃপক্ষ সব জেনেও কিছু করছে না। এই জমা জলে মশার বংশবৃদ্ধি হবে। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ছড়াবে। আক্রান্ত হবেন স্বাস্থ্যকর্মী, রোগী ও চিকিৎসকরাও। এক রোগীর পরিজন বলেন, এখানে নাইট শেল্টার নেই। ফলে হাসপাতাল চত্বরেই রাত কাটাতে হয়। দিনে কোনওরকমে থাকা গেলেও, সন্ধ্যা নামলেই মশার দখলে চলে যাচ্ছে হাসপাতাল চত্বর। খোদ স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ হয়ে রয়েছে।
মেডিক্যাল কলেজের এমএসভিপি পলাশ দাস বলেন, রামপুরহাট পুরসভা নিয়মিত নোংরা, আবর্জনা তুলে নিয়ে যাওয়ার কথা। জানি না কেন ওরা অনিয়মিত হয়ে পড়েছে। এই নিয়ে চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা হয়েছে। আমরা আবার কথা বলব।
পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন ভকত বলেন, মেডিক্যালের আবর্জনা পুরসভাকে তুলতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই। মেডিক্যাল কলেজ পঞ্চায়েতের মধ্যে পড়ছে। তাছাড়া আবর্জনা তোলার জন্য সরকার বা মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষ পুরসভাকে কোনও অর্থ দেয় না। হাসপাতাল শহর লাগোয়া হওয়ায় আমরা আবর্জনা তুলি। তিনি বলেন, পুরসভায় সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্টের জন্য নির্মাণ কাজ চলছে। ফলে জায়গা কমে আসছে। তাই নোংরা তুলে এখন কোথায় রাখব। তবুও দু’-একদিনের মধ্যে মেডিক্যালে জমে থাকা আবর্জনা তুলে নেব। তবে শহরের আবর্জনার যা চাপ, তাতে মেডিক্যাল কর্তৃপক্ষকে ভাবতে হবে, তারা কীভাবে এই সমস্যার সমাধান করবে। -নিজস্ব চিত্র