নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: হুহু করে বাড়ছে ডেঙ্গু। গত ১১ মাসে মালদহ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ১১ জন। যদিও তাঁদের মধ্যে বেশিরভাগই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গিয়েছেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এবার আক্রান্তের নিরিখে কলকাতার পরেই মালদহ জেলার স্থান। রাজ্যের মধ্যে পঞ্চম স্থানে রয়েছে এই জেলা।
প্রশাসন সূত্রে খবর, কালিয়াচক -২ এবং ইংলিশবাজার ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি। এই দুই ব্লকের বাঙ্গিটোলা এবং মিল্কি গ্রাম পঞ্চায়েতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা গিয়েছে এবার।
মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুদীপ্ত ভাদুড়ি জানান, কালিয়াচক-২ ব্লকের বাঙ্গিটোলা ও ইংলিশবাজার ব্লকের মিল্কিতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা এবার বেশি। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে জেলা প্রশাসনের তরফে বিডিওদের সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে খবর, বাঙ্গিটোলা এবং মিল্কি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা পরিদর্শনের জন্য মহকুমা শাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার ডেঙ্গু সহ মালদহ জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো নিয়ে জেলাশাসক প্রীতি গোয়েল বৈঠকে বসবেন বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। যদিও এবিষয়ে জেলা প্রশাসন বা স্বাস্থ্য দপ্তরের কর্তারা কোনও মন্তব্য করতে চাননি।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, কালিয়াচক-২ ব্লকে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবথেকে বেশি ১৭৫ জন। এরপরেই রয়েছে ইংলিশবাজার ব্লক। এখানে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৩। কালিয়াচক-৩ এবং মানিকচক ব্লকে আক্রান্ত হয়েছে ৯৯ ও ৮৯ জন। কালিয়াচক-১ এবং রতুয়া -১ ব্লকে ৮৮ ও ৭৭, চাঁচল -১ ব্লকে ৫৭, গাজোলে ৪১, চাঁচল-২ ব্লকে ৩৭, রতুয়া-২ ব্লকে ৩৬, ইংলিশবাজার পুর এলাকায় ৩০, পুরাতন মালদহে ২৭, হরিশ্চন্দ্রপুর-১ এবং-২ নম্বর ব্লকে ২৫ জন করে, হবিবপুরে ১৪, বামনগোলায় ১৩ এবং পুরাতন মালদহ পুর এলাকায় ১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত।
এই বছর শুধুমাত্র অক্টোবর মাসেই ২৬৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন বলে খবর। সেপ্টেম্বরে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২২৯ এবং আগস্ট মাসে আক্রান্ত হন ১৯৯ জন। জুলাইতে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩৯ বলে খবর স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে। নভেম্বরে এখনও পর্যন্ত মালদহ জেলায় মোট ১১ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছে।
এদিকে বুধবার হরিশ্চন্দ্রপুর-১ এবং ২ এর আধিকারিকদের নিয়ে প্রশাসনিক রিভিউ মিটিং করেন জেলাশাসক। বিডিও, বিএমওএইচ সহ অন্য আধিকারিকরাও এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এদিন দুই ব্লকে সরকারি প্রকল্পের কাজের গতি আনতে যেমন নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও জেলাশাসক ব্লক প্রশাসনকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রশাসন সূত্রে। এভাবে জমে থাকা জলেই বাড়ছে মশার লার্ভা। - নিজস্ব চিত্র।