Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডেঙ্গু বাড়ছেই, রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে মুর্শিদাবাদ

মুর্শিদাবাদ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৭৫। রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এই জেলা। উৎসবের মরশুমে মশাবাহিত রোগ আতঙ্ক বাড়াচ্ছে।

ডেঙ্গু বাড়ছেই, রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে মুর্শিদাবাদ
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৭৫। রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে এই জেলা। উৎসবের মরশুমে মশাবাহিত রোগ আতঙ্ক বাড়াচ্ছে। ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরও। দৈনিক গড়ে সাতজন ডেঙ্গু আক্রান্তের হদিশ মিলছে। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজে গ্রামগঞ্জ এবং শহরের বহু রোগী ভর্তি রয়েছেন। পাশাপাশি মহাকুমা ও ব্লক হাসপাতালে জ্বরে আক্রান্ত বহু রোগীর চিকিৎসা চলছে। 

Advertisement

স্বাস্থ্যভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে রাজ্যের মধ্যে প্রথম পাঁচ জেলার মধ্যে তিনটি কলকাতা ও লাগোয়া দুই জেলা। উত্তর ২৪ পরগনা এবং হুগলি। আক্রান্তের সংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মুর্শিদাবাদ। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম স্থানে রয়েছে যথাক্রমে উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, কলকাতা এবং মালদহ। তবে একটাই বাঁচোয়া, এবছর ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে হেমারেজিক এবং শক সিনড্রোমের রোগীর সংখ্যা আগের তুলনায় অনেকটাই কম। তাই মুর্শিদাবাদ জেলায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৭০০ ছুঁইছুঁই হলেও কেউ মারা যায়নি।
গত সপ্তাহেই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিষয়ক বিধানসভার স্ট্যান্ডিং কমিটি মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে ডেঙ্গু এবং ম্যালেরিয়া সংক্রান্ত বিষয়েও জেলা প্রশাসন এবং স্বাস্থ্য কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে চিকিৎসক নির্মল মাজি বলেন, ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। এই জেলায় বেশি লোকজন আক্রান্ত হয়েছেন। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে। ধীরে ধীরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা কমবে। 
মুর্শিদাবাদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশাপশি লালগোলার কৃষ্ণপুর রুরাল হাসপাতাল, সূতির মাহেশাইল রুরাল হাসপাতাল এবং রানিনগরের ইসলামপুর রুরাল হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছে। চিকিৎসকরা তাদের উপরে কড়া নজর রাখছেন। 
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, মুর্শিদাবাদ জেলায় গত জানুয়ারি থেকে অক্টোবরের তৃতীয় সপ্তাহ শেষে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ১৬৭৫। যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার সবকিছুই নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় মশার লার্ভার বিনাশে স্প্রে চলছে। আশা করি, আগামী দিনে আক্রান্তের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমবে। আমরা রক্ত পরীক্ষার উপর জোর দিয়েছি। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদেরও চিকিৎসা করা হচ্ছে। 
জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, ইসলামপুর, বহরমপুর, লালগোলা এবং সূতি-২ ব্লকে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত সমস্ত রোগীর প্রটোকল মেনে চিকিৎসা করা হয়েছে। সর্বক্ষণ পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। প্রতিটি ব্লক এবং শহরে পঞ্চায়েত এবং পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মানুষের স্বাস্থ্যের খোঁজ নিচ্ছেন।  আবর্জনার স্তূপে জল জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে।  
তবে শীত পড়লেই ডেঙ্গু মশার প্রাদুর্ভাব কমে। সেজন্য আক্রান্তের সংখ্যাও কমে আসে। চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি সচেতনতায় জোর দিতে হবে বলে স্বাস্থ্যকর্তাদের অভিমত। বাড়ির সামনে বা আশেপাশে যেন ময়লা না জমে, সেদিকে সকলকে খেয়াল রাখতে হবে। পঞ্চায়েত ও পুরসভার তরফে পৃথক ব্যবস্থা নিয়ে মশা নিধনের কাজ চলছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, জ্বর কয়েকদিন স্থায়ী হলেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। প্রয়োজনে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। ডেঙ্গুর চিকিৎসা বেশি দেরিতে শুরু করলেই বিপদ বাড়বে। গ্রামাঞ্চলে মশারি টাঙিয়ে শোয়া বাধ্যতামূলক। শীত না পড়া পর্যন্ত খুব সতর্ক থাকতে হবে সাধারণ মানুষকে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ