নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: গত একমাসে মুর্শিদাবাদে ২৫০জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। জেলায় মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চারশো। জানুয়ারি থেকে জুলাই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আক্রান্তের পরিসংখ্যান জানিয়েছে জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। যদিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এটা কম বলে দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। জুন মাসের শেষ থেকেই ধারাবাহিক বর্ষা শুরু হয়েছে। ওই মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ২০০জন আক্রান্ত হয়েছিলেন। তারপর থেকে লাগাতার বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। এখন দৈনিক প্রায় ২০-২২ জন ডেঙ্গু আক্রান্তের হদিশ মিলছে।
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সন্দীপ সান্যাল বলেন, গত রবিবার পর্যন্ত জেলায় ৪৩৮ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হন। একদিনে সরকারি হাসপাতালে ১৫ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে আটজন আক্রান্তের হদিশ মিলেছে। রোগীদের চিকিৎসা করার পাশাপাশি সচেতনতা বাড়ানোর কাজ করা হচ্ছে।
প্রতিবছর মুর্শিদাবাদ জেলায় কয়েক হাজার মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়। ধারাবাহিকভাবে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। এখন থেকেই ভারী বৃষ্টিতে জল জমা শুরু হয়েছে। রাস্তার পাশের ড্রেন উপচে পড়ছে। ডাস্টবিন ও আবর্জনার স্তূপে জল জমছে। সেখানেই জন্ম নিচ্ছে ডেঙ্গুর মশা। বাড়ির আশেপাশে যেতে জঞ্জাল না জমে সেদিকে সতর্ক থাকতে বলছেন চিকিৎসকরা।
আগামী দুই মাসে জেলার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়বে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যদপ্তরের কর্তারা। তাঁদের দাবি, জেলার বহু পরিযায়ী শ্রমিক রাজ্যের বাইরে কাজ করেন। তাঁরাও ভিনজেলা এবং রাজ্য থেকে জ্বর ও ডেঙ্গুর সংক্রমণ নিয়ে নিজের বাড়ি ফিরে আসেন। তাই এখানে ডেঙ্গুর পরিসংখ্যান অন্যান্য জেলার তুলনায় একটু বেশি হয়। প্রতিবছর বর্ষার মরশুমে এই রোগ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। গোটা রাজ্যের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যার বিচারে মুর্শিদাবাদ জেলা প্রথম দিকেই থাকে। তবে, ডেঙ্গু সংক্রমণ যাতে কোনওভাবেই লাগামছাড়া না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রশাসনের কর্তারা।
মানুষের মধ্যে সচেতনতা না এলে এই মশাবাহিত রোগ কিছুতেই ঠেকানো সম্ভব নয় বলে দাবি স্বাস্থ্যকর্তাদের। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালেই প্রতিবছর হাজারখানেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হন। ইতিমধ্যেই চিকিৎসকেরা আক্রান্ত হওয়ার আগে থেকেই সচেতন থাকার বার্তা দিচ্ছেন।
হাসপাতালের এক মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক বলেন, এডিস ইজিপ্টাই মশার কামড়ে ডেঙ্গুর ভাইরাস ছড়ায়। সাধারণত মশার কামড়ের ৩-১৪দিন পর উপসর্গ দেখা দেয়। ডেঙ্গুর সাধারণ লক্ষণ হল জ্বর। অন্যান্য উপসর্গের মধ্যে রয়েছে বমিবমি ভাব, পেটে ব্যথা, ফুঁসকুড়ি, শরীরে ব্যথা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া। ডেঙ্গু আক্রান্তদের উচিত যতটা সম্ভব বিশ্রাম নেওয়া এবং প্রচুর জল পান করা। জ্বর নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যথা উপশমের জন্য প্যারাসিটামল খাওয়া উচিত। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দু’-সাতদিন স্থায়ী হতে পারে। রোগীরা ক্লান্তি, অস্থিরতা এবং বিরক্তি অনুভব করতে পারেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই শুরুতে কোনও লক্ষণ দেখা যায় না। যার ফলে অনেকের শরীরে মারাত্মক প্রভাব পড়ে। অন্যান্য ক্ষেত্রে, ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণগুলি মশার কামড়ের ৪-১০দিন পরে দেখা দিতে শুরু করে। রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। এতে শরীরে প্লেটলেট কমতে শুরু করে এবং রক্তপাতের আশঙ্কা থাকে। তাই আগেভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।