সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: পথনাটিকায় অভিনয় করে ডেঙ্গু নিয়ে মানুষকে সচেতন করল বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা। রঘুনাথগঞ্জ পূর্ব চক্রের কয়েকটি বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের সামার প্রোজেক্টের অংশ হিসেবে এই পথনাটিকা আয়োজিত হয়। মূলত রাজপুত বাহুড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের উদ্যোগে হলেও ওই চক্রের আরও কিছু স্কুলের পড়ুয়া এতে অংশ নেয়। রঘুনাথগঞ্জের সাইদাপুরে ওই পথনাটিকায় ছাত্রছাত্রীরা মশামাছি ও লার্ভা সেজে অভিনয় করে। এর মাধ্যমে ডেঙ্গু মশার জীবনচক্র, মশা কীভাবে মানুষের মধ্যে রোগ ছড়ায়-তা তুলে ধরা হয়। লার্ভা অবস্থায় কীভাবে সহজেই ডেঙ্গু মশাকে ধ্বংস করা যায়-সেই বার্তাও দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট চক্রের পাশাপাশি রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লক প্রশাসনের তরফে এই পথনাটিকা আয়োজনে সাহায্য করা হয়। সেখানে ওই চক্রের স্কুল পরিদর্শক স্বপ্নেন্দু বিশ্বাস, যুগ্ম বিডিও পঙ্কজ দত্ত, সন্মতিনগর পঞ্চায়েতের প্রধান মর্তুজা শেখ সহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
স্কুল পরিদর্শক বলেন, কয়েকমাস পরেই বর্ষা নামবে। সেসময় ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে। আমরা যদি শুরুতেই ডেঙ্গু মশার লার্ভা নষ্ট করতে পারি, তাহলে এই রোগের প্রকোপ রুখতে পারব। পড়ুয়াদের মাধ্যমে সেই বার্তাই দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার সকালে রঘুনাথগঞ্জের সন্মতিনগর পঞ্চায়েত অফিস লাগোয়া সাইদাপুরে জঙ্গিপুর-লালগোলা রাজ্য সড়কের পাশে এই পথনাটিকা প্রদর্শিত হয়। ‘ডেঙ্গু কিসসা’ নামক এই পথনাটিকায় বাহুরা রাজপুত, তেরঘি, কালীতলা এলকে হাইস্কুলের ছেলেমেয়েরা অভিনয় করে। বাড়ির আশপাশে জমা জলে কীভাবে এই মশা জন্ম নেয়, কীভাবে মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু রোগ ছড়িয়ে দেয়-তা অভিনয় করে দেখানো হয়। ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ ও আক্রান্তদের স্বাস্থ্যকেন্দ্র বা হাসপাতালে ভর্তি করার বিষয়ে মানুষকে সচেতন করা হয়।
রাজপুত বাহড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাইদুল ইসলাম বলেন, সামার প্রোজেক্টে সমাজকে বার্তা দেওয়ার কথা ভাবা হয়। সেজন্য পড়ুয়াদের নিয়মিত মহড়াও দিতে হয়েছে। ওরা অভিনয় করে আনন্দ পেয়েছে। ইছাখালি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনিরুল ইসলাম বলেন, আমরা একটু সচেতন হলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে পারি।