নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দুর্গাপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডের নেতাজি নগর কলোনির এসবিএসটিসি ডিপোর উল্টো দিকে রয়েছে জনবহুল এলাকা। লোকালয়ের মাঝেই রয়েছে নেতাজি নগর কলোনি হাইস্কুল। সেখানে রয়েছে প্রাইমারি স্কুলও। স্কুলের প্রাচীর ঘেঁষে রয়েছে একটি সরকারি কুয়ো। সেই কুয়োর আশপাশই দুষ্কৃতীদের মুক্তাঞ্চল হয়ে উঠেছে। আড্ডার পাশাপাশি বসে নেশার আসর। বহিরাগতরা এসে ডেরা বাঁধে লোকালয়ে। অভিযোগ, মেয়েদের উদ্দেশে করা হয় কটূক্তি। কেউ প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদীর বাড়িতে চলে টানা অত্যাচার। বাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হয় মদের বোতল। বোতলের কাচ ভেঙে ফেলে দেওয়া হয় সেই বাড়িতে। আতঙ্কে মুখে কুলুপ এঁটেছে এলাকাবাসী। থানায় অভিযোগ করলে পুলিস কয়েকদিন টহল দেয়, তারপর একই অবস্থা হয়। বাধ্য হয়েই অত্যাচার সহ্য করছেন দুর্গাপুরবাসী।
প্রসঙ্গত, এই স্কুলেই আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছিল শনিবার। সেখানেই এলাকার প্রাক্তন তৃণমূল কর্মী দীপঙ্কর দাস বিষয়টি নিয়ে শিবিরে সরব হন। তিনি লিখিত অভিযোগও জমা করেন। তিনি বলেন, পুরো এলাকা এই দুষ্কৃতীদের আতঙ্কে আছে। মদের বোতল ফেলে ড্রেন বুজিয়ে দেয়। কুয়োটাকে নষ্ট করে দিল। জনবহুল এলাকার মদের আসরে প্রতিবাদ করলে প্রতিবাদীর উপর অত্যাচার শুরু হয়ে যায়।
অভিযোগ, সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলে উৎপাত। দিনের শুরুতে যার প্রথম প্রভাব পড়ে প্রাথমিক স্কুলে। এই স্কুলটি সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত হয়। স্কুলের সামনে অংশে ও ড্রেনে পড়ে থাকে মদের বোতল। প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকাদের তা পরিষ্কার করাতে হয়। পড়ুয়াদের মধ্যে এর কী প্রভাব পড়ছে, তা নিয়ে তাঁরা উদ্বেগে থাকলেও প্রকাশ্যে কিছু বলার সাহস পাননি।
নেতাজি নগর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়ন্ত সিংহ বলেন, এক সময় দুষ্কৃতীরা মদের খালি বোতল স্কুল চত্বরে ছুড়ে দিত। এখন পুরো এলাকা সিসি ক্যামেরায় মুড়ে দিয়েছি। ওদের উৎপাতে বাইরেও সিসি ক্যামেরা বসিয়েছি। বিষয়টি নিয়ে আমরা উদ্বেগে আছি। পুলিসকে জানালে তারা টহল দিয়ে যায়। তাদেরও তো লোকবল সীমিত। আমাদের কাছে এও খবর আছে, বাইরে থেকে নেশারুরা আসে। স্কুলের পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা হয়। ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার সুস্মিতা ভুঁই বলেন, অত্যন্ত খারাপ অবস্থা। মেয়েদের কটূক্তিও করা হয়। পুলিসকে জানানোর পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। পুরো বিষয়টি নিয়ে এলাকায় যথেষ্ট ক্ষোভ রয়েছে। বিশেষ করে নেশার আসরে বহিরাগতদের আনা গোনাই এলাকার নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অভিযোগ, দুষ্কৃতীরা আবর্জনা ফেলে সরকারি কুয়োটিকেও নষ্ট করে দিয়েছে। শুধু এই এলাকাই নয়, এসবিএসটিসি ডিপোর অদূরে ক্ষুদিরাম মাঠও দুষ্কৃতীদের ডেরায় পরিণত হচ্ছে বলে অভিযোগ। সেখানেও নাকি রাত বাড়লেই নেশার আসর বসছে। দুর্গাপুর শহরে মাদক সেবনের রমরমা নিয়ে অভিভাবকদের ঘুম উবেছে। বিষয়টি নিয়ে এসিপি(দুর্গাপুর) সুবীর রায় বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
স্কুল চত্বরে অবাঞ্ছিত গাড়ি, বাইকের পার্কিং। নিজস্ব চিত্র