সংবাদদাতা, রামপুরহাট: রামপুরহাট-জসিডি লাইনে সকালের দিকে ট্রেন চলাচলের দাবি প্রবল হচ্ছে। এতে মূলত পর্যটকদের সুবিধে হবে। একইদিনে তারাপীঠ ও বৈদ্যনাথধাম দেখতে হলে এই লাইনের ট্রেনে চাপাই সুবিধেজনক। উপরি পাওনা হিসেবে থাকবে পাহাড়-জঙ্গল ভেদ করে ট্রেনের ছুটে চলার রোমাঞ্চ।
মহাকুম্ভ মেলা চলাকালীন তারাপীঠে পর্যটকের ভিড় অনেকটাই কমে গিয়েছিল। তারপর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছিল, তাও শেষ হয়েছে। ফলে এখন ফের ভিড় বেড়েছে তারাপীঠে। পর্যটকদের অনেকেই চান তারাপীঠকে কেন্দ্র করে জেলার পাঁচ সতীপীঠ দর্শন করতে। আবার অনেকে একইদিনে দেওঘরের বৈদ্যনাথধাম দর্শন করতে চান। কথিত আছে, দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম বাবা বৈদ্যনাথ। কিন্তু ট্রেন না থাকায় বৈদ্যনাথধাম দর্শনের ইচ্ছে পূরণ হয় না অনেকের। বৈদ্যনাথধামের কাছাকাছি স্টেশন জসিডি। পর্যটকরা চাইছেন, সকালের দিকে রামপুরহাট থেকে জসিডি যাওয়ার ট্রেন চালু করা হোক। তারাপীঠে এসে থমকে যাওয়া পর্যটকরা নতুন গন্তব্য হিসেবে দুমকা-দেওঘর শুধু নয়, নাগালের মধ্যে পেয়ে যাবেন জসিডি, গিরিডি, মধুপুর, শিমুলতলা সহ অসংখ্য পর্যটন ক্ষেত্র।
রামপুরহাট থেকে জসিডি ট্রেন চলাচল করে। কিন্তু সারাদিনে মাত্র একটিই লোকাল চলে। যেটি দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ ছেড়ে বিকেলে চারটে নাগাদ জসিডি পৌঁছয়। পরে ওই ট্রেনটিই আবার পাঁচটা নাগাদ রামপুরহাটের উদ্দেশে রওনা দেয়। কারেও যদি ইচ্ছে হলে একইদিনে দেওঘর সহ সংলগ্ন দর্শনীয় স্থান দর্শন করে ফিরে আসবেন তা হবে না। কারণ, একঘণ্টার মধ্যে সেইসব জায়গা ঘোরা সম্ভব নয়। সকাল ছ’টা নাগাদ রামপুরহাট থেকে জসিডি যাওয়ার ট্রেন চালানোর দাবি তুলেছেন পর্যটকদের বড় একটা অংশ। কলকাতা থেকে সপরিবারে আসা রামেশ্বর চট্টোপাধ্যায় বলেন, সকালের দিকে ট্রেনটি ছাড়লে সাড়ে ন’টা নাগাদ জসিডি পৌঁছে যাওয়া যাবে। সারদিন ঘুরে বিকেলের ট্রেনটি ধরে তারাপীঠে ফেরা যাবে। তাহলে দু’ দিনের প্যাকেজেই বাংলা ও ঝাড়খণ্ডের প্রসিদ্ধ তীর্থক্ষেত্রগুলি ঘোরা যাবে।
রামপুরহাটের বাসিন্দা অনিল বোথরা বলেন, বৈদ্যনাথধামে যেমন মহাদেব রয়েছেন, তেমনি জৈনদের বড় তীর্থক্ষেত্র মধুপুর। সকালের দিকে জসিডি যাওয়ার ট্রেন চালালে একইদিনে সেই তীর্থক্ষেত্রগুলি ঘুরে ফিরে আসা যাবে। এতে রেলের যেমন আয় বাড়বে, তেমন অনেক পর্যটকদেরও সুবিধা হবে।
পর্যটকদের দাবিকে সমর্থন জানিয়ে তারাপীঠ মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, তারাপীঠে আগত পর্যটকদের ৬০ শতাংশই ঝাড়খণ্ড ও বিহারের। রামপুরহাট-দেওঘর রুটে বাস যোগাযোগ ভালো নয়। গাড়ি ভাড়া করে তো সাধারণ পর্যটকদের আসা সম্ভব নয়। কাজেই রেলপথই ভরসা। তাই সকালের দিকে ‘শিব-তারা’ নাম দিয়ে রামপুরহাট থেকে জসিডি পর্যন্ত ট্রেন চালালে মধ্যবিত্ত মানুষদের সুবিধা হবে। তেমনি তারাপীঠকে কেন্দ্র করে পর্যটকরা একইদিনে বৈদ্যনাথধাম দর্শন করে ফিরে আসতে পারবেন। দু’টি তীর্থক্ষেত্রেই পর্যটক সমাগম বাড়বে। অর্থনৈতিক বিকাশও ঘটবে। যদিও রেলের এক আধিকারিক বলেন, ট্রেন চালানোর বিষয়টি রেল বোর্ডের উপর নির্ভর করে।