সংবাদদাতা, হবিবপুর: মুছে যেতে বসেছে উইলিয়াম কেরির হাতে তৈরি নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষের নিদর্শন। অবহেলায় পড়ে রয়েছে পিটার কেরির সমাধি। পিকনিকের মরশুমে ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে এসে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পর্যটকরা।
সংবাদদাতা, হবিবপুর: মুছে যেতে বসেছে উইলিয়াম কেরির হাতে তৈরি নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষের নিদর্শন। অবহেলায় পড়ে রয়েছে পিটার কেরির সমাধি। পিকনিকের মরশুমে ঐতিহাসিক নিদর্শন দেখতে এসে বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন পর্যটকরা।
বামনগোলা ব্লকের মদনাবতী এলাকায় কেরির স্মৃতিমাখা ধ্বংসাবশেষ দ্রুত সংস্কারের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রাও। তাঁদের দাবি, একাধিকবার বিষয়টি প্রশাসনকে জানালেও কাজ হয়নি। এবার আন্দোলনে নামা ছাড়া তাঁদের সামনে আর কোনও পথ খোলা নেই। অভিযোগ প্রসঙ্গে বিডিও মনোজিৎ রায়ের মন্তব্য, বিষয়টি নজরে রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
ইতিহাস বলছে, ১৭৯৪ থেকে ’৯৯ সাল পর্যন্ত উইলিয়াম কেরি মদনাবতীতে নীলকুঠির ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন। নীলকুঠি সহ সেই আমলের বহু নিদর্শন আজও ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে গ্রামে। কয়েক বছর আগে পর্যন্ত সংশিষ্ট এলাকায় কেরি মেলার আয়োজন করত স্থানীয় একটি কমিটি। সেখানে সারাদিন কেরিকে নিয়ে আলোচনা, নাচ, গান, প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠান হত। এখন সেই মেলা বন্ধ। নীলকুঠি সংস্কার করে পর্যটন মানচিত্রে যুক্ত করার জন্য একাধিকবার দাবি তুলেছে বিভিন্ন সংগঠন ও স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ, এখনও পর্যন্ত কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি প্রশাসনের তরফে।
ধ্বংসাবশেষ দেখতে আসা পর্যটক মৃণাল সরকার বললেন, বর্ধমান থেকে কেরি সাহেবের কুঠি ও অন্যান্য নিদর্শন দেখতে এসেছি। আট বছর আগে মেলায় আসার সৌভাগ্য হয়েছিল। সেই সময় নীলকুঠীর প্রাচীর ও নিদর্শনগুলি দেখেছি। এখন সেসব দেখতে পেলাম না। ঝোপঝাড়, জঙ্গলে ভর্তি হয়ে গিয়েছে নীলকুঠির ঘরের প্রাচীর। প্রশাসন সংস্কারের উদ্যোগ না নিলে এই ইতিহাস একদিন মুছে যাবে।
স্থানীয় গৌরচন্দ্র বোরার কথায়, দেশ, বিদেশ থেকে বহু পর্যটক নীলকুঠির ধ্বংসাবশেষ দেখতে আসেন গ্রামে। দ্রুত এটি সংস্কার করে পর্যটনের আওতায় নিয়ে এলে এলাকার উন্নয়ন হবে। অবিলম্বে এবিষয়ে উদ্যোগ নিক প্রশাসন। এতে এলাকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও হবে। নিজস্ব চিত্র