Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নেতাজির স্মৃতি নিয়ে কাটোয়ায় সংগ্রহশালা গড়ার দাবি উঠল

কাটোয়ায় পা রেখেছিলেন নেতাজি। তিনি এখানে বেশ কয়েকটি সভাও করেছিলেন।

নেতাজির স্মৃতি নিয়ে কাটোয়ায় সংগ্রহশালা গড়ার দাবি উঠল
  • ১৫ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ায় পা রেখেছিলেন নেতাজি। তিনি এখানে বেশ কয়েকটি সভাও করেছিলেন। এখনও নেতাজির হাতে লেখা চিঠি, তাঁর ব্যবহার করা কাঠের চেয়ার রয়েছে। পূর্ব বর্ধমান জেলায় নেতাজির স্মৃতি নিয়ে একটি সংগ্রহশালা করার দাবি উঠেছে। 

Advertisement

‘জীবনে অবসরের সুযোগ পাইলে পুনরায় এখানে আসিয়া অবস্থান করিব।’ কাটোয়া শহরে পা রেখেই স্বাধীনতা সংগ্রামী ও অনুরাগীদের উদ্দেশে একথা বলেছিলেন নেতাজি। তবে আজও অনাদরেই পড়ে রয়েছে তাঁর পাদস্পর্শবিজড়িত কাটোয়ায় নেতাজি সুভাষ আশ্রম। তবে কাটোয়া ও পূর্বস্থলীতে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের বাড়িতে নেতাজির ব্যবহার করা সেগুন কাঠের চেয়ার, হাতে লেখা চিঠি সযত্নে রাখা রয়েছে। 
তখন গোটা দেশ ইংরেজদের শাসন থেকে মুক্তি পেতে স্বাধীনতা আন্দোলন নিয়ে উত্তাল। ইংরেজরাও বিপ্লবীদের আন্দোলনকে স্তব্ধ করার জন্য নানা উপায় নিয়েছিল। বাধ্য হয়েই গোপনে বাংলা তথা দেশের লক্ষ লক্ষ বিপ্লবীরা আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করতেন। অনেক সময় গোপন ডেরায় তাঁরা আত্মগোপন করেই দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের জন্য মিটিং করতেন। আর বিপ্লবীদের এইসব ডেরায় গিয়ে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করতেন নেতাজি। বাংলা তথা কাটোয়া শহরেরও স্বাধীনতা আন্দোলনে বড় ভূমিকা নেন। কাটোয়া শহরের সংগ্রামীরাও দেশের স্বাধীনতা আনার জন্য লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। এখানকার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের উদ্বুদ্ধ করার জন্য ১৯৩১সালের ২৯ডিসেম্বর কাটোয়া শহরে এসেছিলেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু। কাটোয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামী ডাক্তার গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে এসেছিলেন। তখন তিনি কাটোয়া শহরের কাশীগঞ্জ পাড়ার ‘নেতাজি সুভাষ আশ্রমে’র দোতলায় বৈঠক সারেন। সেখানেই তিনি বিপ্লবীদের নানা পরামর্শ দেন। গুরুত্বপূর্ণ মিটিং করেন। নেতাজি থাকাকালীন অন্যান্য বিপ্লবীদের পাশাপাশি তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী ছিলেন গুনেন্দ্রনাথবাবু, জিতেন্দ্রনাথ মিত্র, স্বাধীনতা সংগ্রামী শ্যামরঞ্জন চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। এছাড়াও নেতাজির আদর্শে অনুপ্রাণিত বেশ কয়েকজন মহিলা স্বাধীনতা সংগ্রামীও ছিলেন সেখানে। তখন বর্ধমান কেন্দ্রে দলীয় প্রার্থীকে ভোটে জেতাতে কাটোয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামী গুণেন্দ্রনাথবাবুকে ইংরেজিতে চিঠি লিখেছিলেন নেতাজি। ১৯৩৭ সালের ৫ জানুয়ারি  নেতাজির লেখা হলদে হয়ে যাওয়া সেই  চিঠি গুণেন্দ্রনাথবাবুর বংশধররা সযত্নে রেখেছেন আজও।  ১৯৩১সালে ২৯ ডিসেম্বর নেতাজি ফের কাটোয়া শহরে এসেছিলেন। সেসময় তিনি কাটোয়ার স্বাধীনতা সংগ্রামীদের সঙ্গে কাঠগোলা পাড়ায় আশ্রমে বেশ কয়েকবার বৈঠক করেন। কাটোয়া, পূর্বস্থলীতে একাধিক সভা করেন তিনি। গুণেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের নাতি রঘুনাথ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের বাড়ির আতিথেয়তা গ্রহণ করেছিলেন নেতাজি। এখানে একটা সংগ্রহশালা গড়ে তোলা হোক। 
পূর্বস্থলীতে বৈদিকপাড়ায় স্বাধীনতা সংগ্রামী ছিলেন সুরেশ রায় ও রমেশ রায়। তাঁদের ডাকেই ১৯৩২সালে নেতাজি পূর্বস্থলীতে পা রাখেন। সেখানেও সভা করেন তিনি। তার আগে রায়বাড়িতে তিনি উঠেছিলেন। তাঁকে বসার জন্য সেগুন কাঠের চেয়ার দেওয়া হয়েছিল। এখনও সারা বছর কাচের আলমারিতে সেটি রাখা থাকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ