সংবাদদাতা, জঙ্গিপুর: সাগরদিঘির পাটকেলডাঙায় গত বছর বর্ষার মরশুমে ভাগীরথী নদীর পাড়ে ধস নামে। রাস্তা বরাবর কয়েক মিটার এলাকা বসে গিয়েছে। এই রাস্তার পাশে রয়েছে এলাকার একটি প্রাচীন মসজিদ ও বেশ কয়েকটি কাঁচাপাকা বসতবাড়ি। যেকোনও সময় সম্পূর্ণ রাস্তা সহ বাড়িঘর তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা। এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন বহু মানুষ যাতায়াত করে। বর্ষার মরশুমের আগেই নদীর পাড় বাঁধানোর দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। স্থানীয় প্রশাসনকে জানালেও কোনও লাভ হয়নি বলে এলাকাবাসীর দাবি। যদিও নদী পাড় বাঁধানোর কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে।
সাগরদিঘির বিডিও সঞ্জয় শিকদার বলেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বর্ষার আগেই নদীর পাড় বাঁধানো শুরু হবে। সেইমতো নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাস বলেন, এবিষয়ে আমি জেলাশাসক ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকদের একাধিকবার জানিয়েছি। প্রয়োজনে আবার বলব।
জানা গিয়েছে, প্রায় বছর খানেক আগেই সাগরদিঘির পাটকেলডাঙা পঞ্চায়েতের ইসলামপুরে নদীর পাড়ে ধস নামে। প্রায় ৫০ মিটার এলাকা বসে যায়। নদীর পাশ দিয়ে চলে গিয়েছে এলাকায় যাতায়াতের মূল রাস্তা। ধসের কবলে জঙ্গিপুর থেকে সাগরদিঘি ভায়া ইসলামপুর হয়ে আজিমগঞ্জ যাওয়ার রাস্তারও একাংশও। বছর খানেক হতে চললেও নদীর পাড় বাঁধানো হয়নি। এমনকী রাস্তাও সংস্কার করা হয়নি। একরকম বাধ্য হয়েই ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে বাসিন্দাদের। রাস্তার উল্টোদিকে রয়েছে প্রাচীন মসজিদ ও একাধিক বসতবাড়ি। যে কোনও সময় সেগুলি তলিয়ে যেতে পারে। আবার বর্ষা আসছে। সিঁদুরে মেঘ দেখছেন এলাকাবাসী। বর্ষার আগেই নদীর পাড় বাঁধানো না হলে রাস্তা সহ বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তাঁরা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা রুহুল আমিন বলেন, বছর ঘুরলেও স্থানীয় প্রশাসনের কোনও হেলদোল নেই। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের একাধিক বার বলা হলেও কোনও লাভ হয়নি। আর একবার ধস নামলেই রাস্তা সহ বাড়িঘর মসজিদ সব নদীতে তলিয়ে যাবে। অপর বাসিন্দা আলম শেখ বলেন, রাস্তাটি বেহাল অবস্থায় রয়েছে। ধসের ফলে কিছুটা রাস্তা ভেঙে গিয়েছে। নদী পাড় বা রাস্তা সংস্কার কোনও কাজই হয়নি। বর্ষার আগেই এই কাজ না হলে সম্পূর্ণ রাস্তা তলিয়ে যাবে। বিষয়টি প্রশাসনের গুরুত্ব দিয়ে দেখা দরকার।
পাটকেলডাঙা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মীরা খাতুন বলেন, এবিষয়ে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিষয়টি বিডিওকে জানানো হয়েছে। নদী পাড় বাঁধানোর কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। প্রতীকী ছবি