Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বাড়ছে দই, আইসক্রিমের চাহিদা, পিছিয়ে নেই ডাবও

এপ্রিলের শেষে কাঠফাটা রোদে পুড়ছে চারদিক। গরমের ঠেলায় প্রাণ ওষ্ঠাগত মহকুমাবাসীর।

বাড়ছে দই, আইসক্রিমের চাহিদা, পিছিয়ে নেই ডাবও
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ডোমকল: এপ্রিলের শেষে কাঠফাটা রোদে পুড়ছে চারদিক। গরমের ঠেলায় প্রাণ ওষ্ঠাগত মহকুমাবাসীর। বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বইছে গরম হাওয়া। তপ্ত গরমে রাস্তাঘাট ফাঁকা হয়ে শ্মশানের চেহারা নিয়েছে। দুপুর হলেই বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দোকানপাটের ঝাঁপ। গরমের ঠেলায় যখন অন্যান্য ব্যবসায় বিক্রি কমছে, তখন তড়তড়িয়ে বাড়ছে দই, লস্যি, আইসক্রিমের চাহিদা। শুধু দই-লস্যিই নয়, তপ্ত গরমে গলা ভেজাতে এখন ঊর্ধ্বমুখী ডাবের চাহিদাও।

Advertisement

আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মুহূর্তে জেলার তাপমাত্রা ঘুরছে ৩৮ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে। গরমের দাপটে টেকা দায় হয়ে উঠেছে বাসিন্দাদের। তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহের কারণে বেলা ১২টার আগেই রাস্তায় লোক কমে যাচ্ছে। ক্রেতা না থাকায় ছোট দোকানগুলির ঝাঁপ নামছে দুপুরের মধ্যেই। বেলা ১২টার পর রাস্তা কার্যত খাঁখাঁ করছে। রাস্তার মোড়ে আড্ডা নেই। চায়ের দোকানগুলিতেও ভিড় নেই। যে ক’জনকে রাস্তায় দেখা যাচ্ছে, তাঁদের বেশিরভাগই সুতির কাপড়ে মুখ ঢেকে, চোখে রোদ-চশমা পরে বের হয়েছেন। দেখা মিলছে ছাতা, টুপিরও। গরমের জের পড়ছে ব্যবসাতেও। বাসচালক অনিমেষ ঘোষ বলেন, দুপুরের দিকে বাসে একদম যাত্রী হচ্ছে না। হাতে গোনা পাঁচ-দশজন যাত্রী নিয়ে বাস চালাতে হচ্ছে। আমাদের যথেষ্ট ক্ষতি হচ্ছে।
খুব প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের দিকে বাড়ির বাইরে বের হতে নিষেধ করছেন চিকিৎসকেরা। তাঁরা জানাচ্ছেন, হিটস্ট্রোক থেকে বাঁচতে দুপুরের আগেই সব কাজ সেরে ফেলতে হবে। একান্তই বাড়ির বাইরে বের হলে, অবশ্যই ছাতা, টুপি, রোদ চশমা ব্যবহার করতে হবে। তাঁরা আরও জানান, দুপুরে বাইক চালালে অনেক বেশি গরম হাওয়া লাগে। ফলে শরীরে জলের পরিমাণ কমে যায়। বাইক আরোহীদের মুখ ঢেকে বেরনোর পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। বেশি করে জল পান করতে হবে। শরীরে পটাশিয়াম, সোডিয়ামের ঘাটতি বজায় রাখতে দিনে অন্তত দু’বার মিছরি-নুন-লেবুর সরবত পান করতে হবে। পাতে শশা, টক দই রাখার নিদানও দিচ্ছেন চিকিৎসকেরা।
চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই হোক, কিংবা তপ্ত গরমে নিজে থেকেই ভাবনা আসুক, গরম পড়তেই বিক্রি বেড়েছে টক দই, লস্যি ও আইসক্রিমের। ডোমকলের একটি মিষ্টির দোকানের মালিক জানান, প্রতিদিন ৫০কেজির বেশি দই বিক্রি হচ্ছে। রানিনগরের আইসক্রিম বিক্রেতা শফিউল শেখ বলেন, গত কয়েকদিনে ব্যাপক বিক্রি বেড়েছে। দুপুরের দিকে অন্যান্য দোকানে বিক্রি কম হলেও, আমার দোকানে ভালোই বিক্রি হচ্ছে। শুধু আইসক্রিম নয়, লস্যির বিক্রিও ব্যাপক বেড়েছে।
পাশাপাশি, দাম বেড়েছে ডাবেরও। মহকুমার বাজারগুলিতে এক-একটি মাঝারি সাইজের ডাব বিক্রি হচ্ছে ৮০টাকা দরে। আর একটু বড় হলেই ডাবের দাম থাকছে ১০০টাকার আশেপাশে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ