সংবাদদাতা, পুরাতন মালদহ: ১৯৬৯ সালের কথা। বিশ্ববিখ্যাত পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের ওই সময়ের ‘গুপী গাইন বাঘা বাইন’ সিনেমাটি আজও মানুষের মনে গেঁথে রয়েছে। ওই কালজয়ী সিনেমার একটি দৃশ্যের শুটিং হয়েছিল মালদহের গাজোলের হরিতকি গ্রামে। বাসিন্দাদের দাবি, ওই সিনেমার শুরুতেই গ্রাম ছাড়া হন গুপী এবং বাঘা। তারপর একটি প্রাচীন বটগাছ,বাঁশবাগান সংলগ্ন ফাঁকা এলাকায় তাঁদের প্রথম দেখা হয়। সিনেমার দৃশ্যের সেই প্রাচীন বটগাছ এবং বাগানটি আজও রয়েছে। তবে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব স্পষ্ট। বাঁশ বাগান জঙ্গলে ঢেকে গিয়েছে, বটগাছটির দশাও ভালো নয়।
কালজয়ী ওই সিনেমা তৈরির পর ছ’দশক কেটে গেলেও গ্রামটিকে পর্যটনের আওতায় না আনায় গ্রামবাসীরা ক্ষুব্ধ। তাঁরা এনিয়ে ব্লক প্রশাসনের দ্বারস্থ হবেন বলে জানিয়েছেন। ১২ নম্বর জাতীয় সড়কের ধারে মালদহ জেলার গাজোল ব্লকের পাণ্ডুয়া গ্রাম পঞ্চায়েত। সেখান থেকে জাতীয় সড়কের পাশ দিয়ে দু’কিমি ভিতরে আদিবাসী অধ্যুষিত হরিতকি গ্রাম। সেখানে ৬০ বছর আগে উঁচু ঢিবি, পুকুর সংলগ্ন এলাকায় সিনেমার দৃশ্যের শুটিং হয়। কালের নিয়মে গ্রামের সেই ছবি অনেকটাই বদল হয়েছে। উঁচু ঢিবি আর নেই। তবুও গ্রামবাসীদের মনে সিনেমার স্মৃতি গেঁথে। কথা হচ্ছিল গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা রিটেন এবং উদিশ সরকারের সঙ্গে। তাঁরা বলেন, পূর্ব পুরুষদের মুখে শুনেছি, আমাদের গ্রামে সত্যজিৎ রায়ের সিনেমার শ্যুটিং হয়েছিল। মাঝেমধ্যে অনেকেই পুরনো বটগাছটি দেখতে আসেন। তবে সেটাও এখন বিলুপ্তির পথে। ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এগুলি আমাদের গ্রামের স্মৃতি। রক্ষণাবেক্ষণ না করলে চিরতরে মুছে যাবে।
স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য রামদেব সরকার বলেন, ছোটবেলায় উঁচু ঢিবি দেখেছি। এখন সেগুলি নেই। পুরনো বটগাছটি আরও বড় ছিল। সেটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ঐতিহ্যবাহী গ্রামকে সরকারের পর্যটনকেন্দ্র করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। ব্লক প্রশাসনকে লিখিতভাবে জানাব।
গাজোলের বিডিও সুদীপ্ত বিশ্বাসের কথায়, বিষয়টি নিয়ে খোঁজ নেব। প্রয়োজনে পর্যটনকেন্দ্রের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হবে। এই প্রাচীন বটগাছের নীচে শ্যুটিং হয়েছিল।-নিজস্ব চিত্র