Bartaman Logo
২ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিমঞ্চ সংস্কারের দাবি

কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের দারিয়াপুর এলাকায় সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শুভাগমনের নানা স্মৃতি বিদ্যমান।

সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতিমঞ্চ সংস্কারের দাবি
  • ২ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাঁথি: কাঁথির দেশপ্রাণ ব্লকের দারিয়াপুর এলাকায় সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের শুভাগমনের নানা স্মৃতি বিদ্যমান। সেখানে বঙ্কিম স্মৃতিমঞ্চ ভগ্নপ্রায় অবস্থায় ও অবহেলায় পড়ে রয়েছে। তা সংস্কার ও নতুন করে তৈরির দাবি তুলেছেন এলাকাবাসী। 

Advertisement

১৮৬০সাল নাগাদ বঙ্কিমচন্দ্র অবিভক্ত কাঁথি মহকুমার(তৎকালীন নেগুয়া মহকুমা) ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ছিলেন। একটি ডাকাতির ঘটনার তদন্তে দারিয়াপুরে এসেছিলেন তিনি। এখানকার একটি ঘরে কয়েকদিন ধরে অবস্থান করেছিলেন বঙ্কিমচন্দ্র। গভীর জঙ্গলে ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর সময় কাপালিকের দর্শন পান সাহিত্যসম্রাট। এরপর জঙ্গলে নবকুমারের আগমন, নবকুমারের সঙ্গে কপালকুণ্ডলার প্রণয়, পথভ্রষ্ট নবকুমারকে কপালকুণ্ডলার সেই চিরন্তন জিজ্ঞাসা ‘পথিক তুমি কি পথ হারাইয়াছ’?-প্রতিটি ঘটনা পরম্পরাই ইতিহাসের পাতায় স্মরণীয় হয়ে রয়ে গিয়েছে। দারিয়াপুরের পটভূমিতেই বঙ্কিমচন্দ্র তাঁর কালজয়ী উপন্যাস ‘কপালকুণ্ডলা’ রচনা করেছিলেন। যদিও কপালকুণ্ডলা মন্দির সংস্কারের অভাবে দীর্ঘদিন ধরেই ভগ্নপ্রায় অবস্থা।
সাহিত্যসম্রাটের শুভাগমনের স্মৃতিকে ধরে রাখতে উদ্যোগী হয়েছিলেন দারিয়াপুরে মানুষ। ১৩২৬সালে স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে এলাকায় বঙ্কিমচন্দ্রের শুভাগমনের স্মৃতিফলক বসে।  বেশ কয়েকদশক পর বাংলা সন ১৩৯৭সালে প্রয়াণ দিবসেই বঙ্কিমচন্দ্রের আবক্ষ মূর্তিও বসে। পরবর্তীকালে তাঁর মূর্তির উপর ছাউনি সহ বেদি তৈরি করা হয়েছে। বঙ্কিমচন্দ্রের স্মৃতি রক্ষার্থে নানা কর্মসূচির আয়োজন করার জন্য তৈরি হয়েছে ‘বঙ্কিমচন্দ্র স্মৃতিরক্ষা কমিটি’। বঙ্কিমচন্দ্রের শুভাগমনের নানা স্মৃতি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে দারিয়াপুরে।২০০০সালে দেশপ্রাণ পঞ্চায়েত সমিতির উদ্যোগে ‘বঙ্কিম স্মৃতিমঞ্চ’ কমিউনিটি হল গড়ে তোলা হয়। সংস্কারের অভাবে হলটি বেহাল দশা। দেওয়ালের বিভিন্ন জায়গায় ফাটল ধরেছে। বৃষ্টি হলেই অ্যাসবেসটসের ছাউনি বেয়ে জল পড়ে। হলের সর্বত্রই মলিনতার ছাপ স্পষ্ট।  বঙ্কিম স্মৃতিরক্ষা কমিটির সদস্য প্রদ্যোৎ পড়িয়ারি বলেন, স্মৃতিমঞ্চটি অবিলম্বে সংস্কার করা হোক। পার্ক সহ নানা পর্যটন পরিকাঠামো গড়ে তোলা হোক, যাতে পর্যটকরা  তথা ইতিহাসপ্রেমী মানুষজন বঙ্কিম স্মৃতিবিজড়িত এই এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি কিছু সময় কাটাতে পারেন। উত্তর কাঁথির বিধায়ক সুমিতা সিনহা বলেন, কপালকুণ্ডলা মন্দিরের সংস্কারের প্রয়োজন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাচীন ও ইতিহাস বিজড়িত মন্দিরগুলি সংস্কারে জোর দিয়েছেন।  আমরা হেরিটেজ কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করব। অন্যান্য দাবিদাওয়াগুলি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে কী করা যায়, দেখব।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ