Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহিশুরার চৌমাথা মোড় থেকে কালীনগর স্টেশন পর্যন্ত রাস্তায় পথবাতি বসানোর দাবি

নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা পঞ্চায়েতের চৌমাথা মোড় থেকে কালীনগর স্টেশন পর্যন্ত নেই কোনও পথবাতি।

মহিশুরার চৌমাথা মোড় থেকে কালীনগর স্টেশন পর্যন্ত রাস্তায় পথবাতি বসানোর দাবি
  • ১৬ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা পঞ্চায়েতের চৌমাথা মোড় থেকে কালীনগর স্টেশন পর্যন্ত নেই কোনও পথবাতি। ফলে সন্ধ্যা নামলেই কালীনগর স্টেশন যাওয়ার পঞ্চায়েতের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি অন্ধকারে ডুবে যায়। সন্ধ্যার পর সেই রাস্তা দিয়ে পঞ্চায়েতের বেশ কয়েকটি গ্রামের পড়ুয়া থেকে বাসিন্দাদের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা টর্চ বা মোবাইলের আলো। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সন্ধ্যার পর ওই রাস্তায় নির্জনতার সুযোগ নিয়ে এলাকায় অপরিচিত লোকের আনাগোনা বাড়ছে। রাস্তার দুধারে জলা জমি ও বন জঙ্গল থাকায় বাড়ছে সাপের উপদ্রবও। দীর্ঘদিন ধরে পথবাতির জন্য বিভিন্ন প্রশাসনিক স্তরে আবেদন জানিয়ে আসছেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। উল্লেখ্য, নবদ্বীপ ব্লকের মহিশুরা পঞ্চায়েত এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। অধিকাংশ মানুষই শ্রমজীবী। গৌরাঙ্গ সেতু থেকে গ্রামে ঢোকার রাস্তার শেষ প্রান্তে মহিশুরা চৌমাথার মোড়ে কয়েক মাস আগে একটি উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন বাতিস্তম্ভ লাগানো হয়। গ্রামের রাস্তায় হাতে গোনা দু-একটি সৌরশক্তি চালিত সোলার লাইট লাগানো হয়েছে। কিন্তু  কালীনগর স্টেশন যাওয়ার মূল রাস্তায় কোনও আলো নেই। অথচ পূর্ব রেলের হাওড়া- কাটোয়া ডিভিশনের অধীনে নবদ্বীপ মহিশুরা গ্রাম পঞ্চায়েতের এলাকায় রয়েছে কালীনগর স্টেশন। এই স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। স্টেশনে যাওয়ার এই পঞ্চায়েতের প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তায় নেই কোনও বাতি। ফলে সন্ধ্যার পর যাতায়াত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে মহিশুরা পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের। মহিশুরার প্রবীণ এক নাগরিক নৌসাদ মলিতা বলেন, অনেকেই মোটর সাইকেল, টোটো, অটো সহ বিভিন্ন ছোট যানবাহনে মহিশুরা গ্রাম হয়েই পূর্ব বর্ধমানের নাদন ঘাট থানা এলাকায় অনেকেই যাতায়াত করেন। তাদেরও অসুবিধা হচ্ছে। মহিশুরা ভাটানগরের গৃহবধূ হালিমা বিবি, আমার মেয়ে নবদ্বীপ বকুলতলা গার্লস স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। অধিকাংশ দিনই রাত করে প্রাইভেট টিউশন পড়ে বাড়ি ফেরে। বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত খুবই দুশ্চিন্তার মধ্যে থাকি। চারিদিকে বন জঙ্গল আর লাইট না থাকায় খুবই আতঙ্কে থাকি। স্থানীয় টোটো চালক রশিদ সেখ বলেন, এই পঞ্চায়েতের বিভিন্ন এলাকার মানুষ রাত করে ট্রেন পথে ফেরেন। সে কারণে ট্রেনের প্যাসেঞ্জারের জন্য রাত দশটা পর্যন্ত অপেক্ষা করি। ঘুটঘুটে অন্ধকারে গাড়ি নিয়ে যাওয়াই যায় না। মহিশুরা পঞ্চায়েতের মাঝের চড়ার কয়েকজন পড়ুয়া জানান, নবদ্বীপ থেকে পূর্ব বর্ধমান জেলার নাদনঘাটে স্কুলে পড়তে যেতে হয়। সন্ধ্যের পর পড়তে যেতে হয় নাদনঘাটে। আলো না থাকায় রাত্রিবেলায় অন্ধকারে এই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতে ভয় লাগে।  মহিশুরা পঞ্চায়েতের উপ প্রধান আকমল সর্দার বলেন, কালীনগর স্টেশন যাওয়ার গ্রামের রাস্তায় আলোর সমস্যা রয়েছে। দেড় কিলোমিটার রাস্তার চৌমাথার মোড়ে হাইমাস্ট এবং ভাটাপাড়া মসজিদের কাছে একটি সৌরশক্তিচালিত লাইট লাগানো হয়েছে। আর কোনও লাইট নেই। পঞ্চায়েতের সীমিত অর্থ। সেই টাকা দিয়ে পথবাতি লাগানোর মত অর্থ পঞ্চায়েতের নেই। জেলা পরিষদকে জানানো হয়েছে। অর্থ বরাদ্দ হলে তবেই লাইট লাগানো সম্ভব।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ