সুজয় সরকার, হিলি: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের রেশ এখনও কাটেনি। ফের দুয়ারে কড়া নাড়ছে কালীপুজো। কয়েকদিন বাদেই বাঙালির প্রিয় আরেক উৎসব দীপান্বিতা কালীপুজো। বালুরঘাট শহরে এখন জোর প্রস্তুতি চলছে। কালীপুজোর প্রস্তুতিকে সামনে রেখে ক্রমশ জমজমাট হয়েছে বাজারও। ইতিমধ্যে ক্রেতাদের নজর টানতে শহরের বিভিন্ন দোকানে কৃত্রিমভাবে তৈরি জবাফুলের মালা সুসজ্জিত ভাবে টাঙিয়ে রাখা হয়েছে। কিন্তু কালীমায়ের পুজোর বিশেষ উপকরণ হিসেবে দরকার প্রকৃতির রক্তজবা ফুল। বাজারে বিকল্প হিসাবে প্লাস্টিকের কৃত্রিম জবা ফুলের মালা থাকলেও দেবী মায়ের পুজোয় প্রকৃত রক্তজবা ফুল অবশ্যই প্রয়োজন হয়।
কালীপুজোর আগে বালুরঘাট শহরের ফুলের বাজারে জবা ফুলের কদর বেড়েছে। সারাবছর অল্প পরিমাণে এই ফুল বিক্রি হলেও কালীপুজোর সময় লাল টুকটুকে রক্তজবা হয়ে ওঠে অপরিহার্য। প্রতিবছরের মতো এবারও দীপান্বিতা কালীপুজোকে কেন্দ্র করে জবা ফুলের চাহিদা কয়েকগুণ বাড়বে বলে মনে করছেন ফুল বিক্রেতা ও পুজো উদ্যোক্তা উভয়ই।
শহরের ফুল বিক্রেতাদের কথায়, দীপান্বিতা কালীপুজোতে বিশেষ করে ১০৮টি জবা ফুলের মালার প্রচুর চাহিদা থাকে। সে ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে জবা ফুলের পর্যাপ্ত উৎপাদন না থাকায় বিক্রেতারা এবছরেও আগাম অর্ডার দিয়ে কলকাতা ও আশপাশের জেলা থেকে জবা ফুল আনছেন। বালুরঘাট শহরের ফুল ব্যবসায়ী রণদীপ রায় চৌধুরী জানান, এবারে ১০৮টি জবা ফুলের মালার দাম ১৫০ টাকার মধ্যে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এবছর চাহিদা অনেক। ২৫ হাজার জবা ফুলের অর্ডার দিয়েছি কলকাতায়। রণদীপের মতো অনেক ব্যবসায়ী জবা ফুলের অর্ডার দিয়েছেন। পুজোয় এবারও জবা ফুলের ব্যাপক বিক্রি হবে। আশা ফুল ব্যবসায়ীদের। বালুরঘাটের পুরোহিত স্বরূপ সান্যাল জানান, জবা ফুল ছাড়া কালীপুজো অসম্পূর্ণ। প্রকৃত রক্তজবা মায়ের রুদ্ররূপ আরাধনায় সবচেয়ে উপযুক্ত।