Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কাঁকসার মাহালিপাড়ার বাঁশের শিল্পকে বাঁচাতে সাহায্যের দাবি

কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েতের ডাঙাল এলাকার মাহালি পাড়ার বাসিন্দারা বাঁশের নানা সামগ্রী তৈরি করে জীবনযাপন করেন।

কাঁকসার মাহালিপাড়ার বাঁশের শিল্পকে বাঁচাতে সাহায্যের দাবি
  • ২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, মানকর: কাঁকসার বনকাটি পঞ্চায়েতের ডাঙাল এলাকার মাহালি পাড়ার বাসিন্দারা বাঁশের নানা সামগ্রী তৈরি করে জীবনযাপন করেন। সারা বছরই বিভিন্ন মাপের ঝুড়ি, কুলো সহ নানা সামগ্রী তৈরি করেন। কিন্তু, বাঁশের দাম বৃদ্ধি ও তৈরি সামগ্রীর যথাযথ মূল্য না পাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিল্পীদের। সেভাবে আয় না হওয়ায় নব প্রজন্ম আর এই পেশায় আসতে চাইছে না। এই অবস্থায় এই শিল্পকে বাঁচাতে আরও আধুনিক করতে চাইছেন শিল্পীরা। আধুনিকমানের প্রশিক্ষণ ও সরকারি সাহায্য চাইছেন তাঁরা। স্থানীয়দের দাবি, ক্লাস্টার করে প্রশিক্ষণ দিলে শিল্পীদের আয় ও শিল্পের মান আরও বাড়বে।

Advertisement

মাহালিপাড়ায় ৬০টি পরিবারের বসবাস। বর্ষায় চাষের কাজ ছাড়া বছরভর বাঁশের সামগ্রী তৈরি করেই সংসার চলে। এক শিল্পী বলেন, সারা বছর টুকটাক বিক্রি হলেও দুর্গাপুজো থেকে ছট পর্যন্ত বিক্রি বাড়ে। অর্ডার নিয়ে তাঁরা সামগ্রী তৈরি করেন। শিল্পী লক্ষ্মী মাহালি বলেন, মহাজনরা এসে আমাদের বরাত দিয়ে যান। সেই মতো সামগ্রী তৈরি করতে হয়। অনেকে ব্যক্তিগতভাবে এসেও জিনিস অর্ডার করে। নির্দিষ্ট সময়ের পরে সেই সামগ্রী আমরা তৈরি করে দিই। শিল্পী সুমিত্রা মাহালি বলেন, গত বছর এই সময়ে প্রায় ১৫০টি ঝুড়ির বরাত পেয়েছিলাম। 
শিল্পীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ঝুড়ির মাপ অনুযায়ী এখানে দাম। ১০ টাকা থেকে দাম শুরু হয়, ২০০-২৫০ টাকা পর্যন্ত দাম রয়েছে ঝুড়ির। তবে, শিল্পীদের আর্থিক সমস্যা হচ্ছে। এক শিল্পী বলেন, আগের থেকে বাঁশের দাম এখন অনেক বেড়ে গিয়েছে। একটা ভালো জাতের বাঁশ কিনতে ১৫০-১৮০টাকা লাগছে। বরাত অনুযায়ী বাঁশ কেনেন শিল্পীরা। অনেক সময় মহাজনরা মাল নিতে অস্বীকার করে। তখন সমস্যা হয়ে যায়। আলাদা করে কোনও বিক্রির বাজার না থাকায় জিনিস পড়েই থাকে। স্থানীয় বাসিন্দা শিবলাল মুর্মু বলেন, এই সামগ্রী বিক্রির জন্য একটি বাজার তৈরি করার প্রয়োজন। অনলাইনেও যদি বিক্রির ব্যবস্থা করা যায় তো ভালো হয়। তাছাড়া আমরা কোনও সরকারি সাহায্য পাই না। বছরের পর বছর এই কাজ করে চলেছি। সরকার পাশে দাঁড়ালে তবেই এই শিল্প বেঁচে থাকবে। 
কাঁকসা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি ভবানী ভট্টাচার্য বলেন, ক্লাস্টার তৈরির ভাবনা রয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে প্রশিক্ষণ দিয়ে আরও ভালোভাবে সামগ্রী করতে পারে তা দেখা হচ্ছে। ব্লকের বিভিন্ন হাটে তাঁরা সামগ্রী বিক্রি করেন। ব্লকের মেলাতেও যাতে স্টল পান, তা দেখা হয়। সামগ্রী যাতে দুর্গাপুরে বিক্রি করতে পারেন, সেই জন্য কথাও বলা হয়েছিল। কিন্তু, দেখা যাচ্ছে যাতায়াতের খরচে সামগ্রীর দাম অনেক বেড়ে যাচ্ছে। তাতে বিক্রি করে পোষাচ্ছে না। তবে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে বিষয়গুলি নিয়ে কথা বলা হবে। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ