সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় আমন ধানের চাষ শুরু হয়েছে। ফলে সারের ব্যাপক চাহিদা বাড়ছে জেলাজুড়ে। তারপরেই সারের কালোবাজারি ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে বিক্রির অভিযোগ সামনে আসছে। অনিয়ম রুখতে জেলাজুড়ে অভিযানে নেমেছে কৃষিদপ্তর। স্পেশাল টিম গঠন করে দপ্তর জেলার প্রতিটি ব্লকে নজরদারি চালাচ্ছে। সম্প্রতি একাধিক অভিযোগে ন’জন ডিলারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এছাড়াও বহু ডিলারকে সতর্ক করা হয়। জেলা কৃষিদপ্তর সাফ জানিয়েছে, সারের কালোবাজারি ও অনিয়ম পেলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে। প্রতিদিন জেলাজুড়ে অভিযান চালিয়ে সার ডিলারদের সতর্ক করা হচ্ছে। জেলা মুখ্য কৃষি অধিকর্তা অমিত চট্টোপাধ্যায় বলেন, জেলাজুড়ে আমাদের মনিটরিং কমিটি অভিযান করছে। গতমাসে ন’জনকে সাসপেন্ড করেছিলাম। পরবর্তীতে তাঁরা লিখিতভাবে ক্ষমা চেয়েছেন। জেলাস্তরে মিটিং করে তাঁদের রেহাই দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেকটি ডিলারকে দামের ক্ষেত্রে যা গাইডলাইন রয়েছে, মেনে চলতে হবে। অনিয়মের অভিযোগ পেলে সাসপেন্ড করব।
এবিষয়ে ডিস্ট্রিক্ট ফার্টিলাইজার অ্যান্ড এগ্রি ইমপোর্টস ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের জেলা সাধারণ সম্পাদক অমল বসাক বলেন, সার বিক্রির ক্ষেত্রে কেউ যাতে বেশি দাম না নেন, সেই বিষয়টি নিয়ে সমস্ত ডিলারকে সতর্ক করেছি। এছাড়াও সব বিষয় নিয়ে আমরা বৈঠক ডেকেছি। তবে সার আনার ক্ষেত্রে খরচ অনেকটা বেড়েছে। সেসব প্রশাসনকে জানিয়েছি। জেলা কৃষিদপ্তর সূত্রে খবর, জেলাজুড়ে সার বিক্রির ডিলার এবং দোকানের সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৩২৪টি। সার বিক্রির ক্ষেত্রে নানা নিয়ম বেঁধে দিয়েছে প্রশাসন। ই-পস মেশিন ব্যবহার বাধ্যতামূলক হয়েছে। দোকানে নির্ধারিত দাম বোর্ডে উল্লেখ করতে হবে। এছাড়াও এমআরপি’র থেকে বেশি দাম নেওয়া যাবে না। একথা স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে, অনেক জায়গায় সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। তবে জেলায় এখনও পর্যন্ত সারের কালোবাজারির বড় অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বালুরঘাটের কৃষক তরুণ মণ্ডল বলেন, সারের দাম আপাতত ঠিক রয়েছে। বিক্রির ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মানা হচ্ছে না। কৃষিদপ্তরের আধিকারিকদের অভিযানের পর সেই নিয়ম আমাদের এলাকায় দোকানদার সঠিকভাবেই মানছেন।