সংবাদদাতা, লালবাগ: সড়ক পথে ভাগীরথীর দুই পাড়কে জুড়ে দিতে খোশবাগ-আমানিগঞ্জ রোড ব্রিজের দাবি দীর্ঘদিনের। ব্রিজ নির্মিত হলে জেলাবাসীর পাশাপাশি পর্যটকরা উপকৃত হবেন। পশ্চিমপাড়ের দর্শনীয় স্থানগুলিতে পর্যটক সমাগম হলে এলাকার মানুষের অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। এই বিষয়ে কয়েক মাস আগে জেলা পূর্ত দপ্তর মাটি পরীক্ষা সহ প্রাথমিক পর্যায়ের সমীক্ষা করে। কিন্তু সম্প্রতি আরটিআই'এ জানা যায় ভাগীরথী নদীর উপর খোশবাগ-আমানিগঞ্জ রোড ব্রিজ নিয়ে সরকারের আপাতত কোনও পরিকল্পনা নেই। ওই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো হতাশ জেলাবাসী ও পর্যটকরা। এই বিষয়ে জেলা সড়ক পরিবহন দপ্তরের (ডিভিশন-২) এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার অনুপ কুমার মাইতি বলেন, ওই ব্রিজ নিয়ে যা বলার আরটিআইয়ের জবাবে বলা হয়েছে। এখন এর বেশি কিছু বলা যাবে না।
মাস কয়েক আগে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছিল ভাগীরথীর দুই পাড়কে জুড়ে দিতে খোশবাগ-আমানিগঞ্জ রোড ব্রিজ নির্মাণ পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। এর জন্য মাটি পরীক্ষা থেকে জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ। এখন অর্থ বরাদ্দ হলেই ওই ব্রিজের কাজ শুরু করে দেওয়া হবে। সময় পেরলে সেই তোড়জোড় ধীরে ধীরে ভাটা পড়ে। এদিকে কাজের অগ্রগতি জানতে মুর্শিদাবাদ নগর উন্নয়ন কমিটি আরটিআই করে। ওই আরটিআইয়ের সূত্র ধরে কমিটি জানতে পারে ওই রোড ব্রিজ নিয়ে এখন পর্যন্ত সরকার কোনওরকম পরিকল্পনা গ্রহণ করেনি। এই বিষয়ে কমিটির সম্পাদক আমিনূর রহমান সরকার বলেন, আমরা এক সময় জানতে পেরেছিলাম ব্রিজ নিয়ে ডিপিআরের কাজ সম্পূর্ণ। কিন্তু রাজ্যের ডেপুটি সেক্রেটারি পি ডব্লু ডি’র নির্দেশে মুর্শিদাবাদ হাইওয়ে ডিভিশন-২ আরটিআইয়ের জবাবে জানিয়ে দিয়েছে , এখন ওই ব্রিজ নিয়ে কোনও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। শুধু তাইই নয় ব্রিজের প্রথমিক শর্ত হিসেবে মাটি পরীক্ষা, মাপজোক এবং আনুমানিক খরচের কোনও হিসাব পর্যন্ত করা হয়নি। আরটিআইয়ের এই জবাবে হতাশ হয়েছেন আমিনূর সাহেব। পর্যটনের শহর মুর্শিদাবাদকে দু’ভাগ করেছে ভাগীরথী নদী। পূর্বপাড়ে কলেজ, প্রশাসনিক কার্যালয়, আদালত, মহকুমা হাসপাতালের পাশাপাশি হাজারদুয়ারি প্রাসাদ, ইমামবাড়া, কাটরা মসজিদ, জগৎ শেঠের বাড়ি, কাঠগোলাপ বাগান, মোতিঝিলের মতো একাধিক পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। পর্যটকদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিম পাড়ের খোশবাগে সিরাজের সমাধি, সতীপীঠ কিরীটেশ্বরী, ডাহাপাড়া ধাম, সিরাজের প্রাসাদ হীরাঝিল, রানীভবানীর রাজরাজেশ্বরী মন্দির সহ বাংলার বারানসী বড়নগর, আজিমগঞ্জে বৌদ্ধ ও জৈনদের পীঠস্থানের মতো মূল্যবান সব প্রাচীন ঐতিহ্য। কিন্তু বেশীরভাগ পর্যটক নদী পেরিয়ে পশ্চিমপাড়ে যাওয়ার ঝুঁকি নেন না। ভাগীরথীর পূর্বপাড়ের দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে ফিরে যান। ফলে বড় অংশের ঐতিহাসিক স্থান অদেখা থেকে যায় পর্যটকদের কাছে। পাশাপাশি নবগ্রামে গড়ে ওঠা সেনাছাউনি থেকে খোশবাগ-আমানিগঞ্জ রোড ব্রিজ হয়ে আপতকালীন অবস্থায় সহজেই ভারত–বাংলা সীমান্তের লালগোলা, ভগনাবগোলা , জলঙ্গি , রানীনগর পৌঁছাতে পারবে সেনা বাহিনী। এর ফলে দেশের নিরাপত্তা ব্যাবস্থাও সুরক্ষিত হবে এবং জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে ওই রোড ব্রিজ বড় ভুমিকা পালন করবে। খোসবাগ - আমানিগঞ্জ এলাকায় ভাগীরথীর উপর ৪০০ মিটারের ওই রোড ব্রিজ নির্মান করা হলে জেলার ভৌগলিক অবস্থার যেমন উন্নতি হবে, তেমনি দেশের সুরক্ষার প্রশ্নে একটি বড় পদক্ষেপ হবে।