সংবাদদাতা, কান্দি: একদিকে তালগ্রাম পঞ্চায়েত, অন্যদিকে গড্ডা পঞ্চায়েত। ভরতপুর ১ ব্লকের উপর দিয়ে প্রবাহিত কুয়ে নদী এভাবেই ওই দুই পঞ্চায়েতকে ভাগ করেছে। অথচ মাত্র ৪০ ফুটের একটি কজওয়ে দুইপাড়ের কয়েক হাজার বাসিন্দাকে জোড়া দিতে পারে। তাই বহুবছর ধরে স্থানীয়রা কুয়ে নদীর ওই জায়গায় একটি কজওয়ের দাবি করছেন।
ওই ব্লকের তালগ্রাম পঞ্চায়েতের শাহবাজপুর গ্রামের কুয়ে নদী পর্যন্ত সদ্য নির্মিত হয়েছে ঢালাই রাস্তা। আর অপরপাড়ে গড্ডা পঞ্চায়েতের সুখদানপুর নদীঘাট পর্যন্ত রাস্তাটি কয়েকবছর আগেই তৈরি হয়েছিল। মাঝের নদীর ওই অংশ বাসিন্দাদের বর্ষায় নির্ভর করতে হয় নৌকার উপর। বছরের বাকি সময় অবশ্য দুইপাড়ের কয়েক হাজার বাসিন্দা হেঁটে নদী পার করেন। স্থানীয় শাহবাজপুর গ্রামের বাসিন্দা সরকারি কর্মী আতিকুল রহমান, ব্যবসায়ী সামসের আলম প্রমুখ জানিয়েছেন, আমাদের গ্রাম থেকে সাইকেল কিংবা বাইকে চড়ে মাত্র ১০ মিনিটেই গড্ডা পৌঁছন যায়। কিন্তু গাড়ি নিয়ে যেতে গেলে প্রায় ৩২ কিলোমিটার ঘুরপথে যেতে হবে। তাই বহুবছর ধরে কুয়ে নদীর ওই জায়গায় আমরা একটি কজওয়ের দাবি জানিয়ে আসছি। গড্ডা পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান ভুলি বেগম মোল্লা জানান, আমি প্রধান থাকার সময় সুখদানপুর পর্যন্ত রাস্তাটি তৈরি হয়েছিল। কজওয়ের জন্য জেলা পরিষদে প্রস্তাবও পাঠান হয়েছিল। কজওয়ে তৈরি হলে এখানকার বাসিন্দারা গাড়ি নিয়ে ১৫ মিনিটেই ভরতপুর থানা ও বিডিও অফিস পৌঁছতে পারতেন। কিন্তু তা না হওয়ায় বড়ঞা ব্লক হয়ে প্রায় ৩২ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয় ওই দুই জায়গায় পৌঁছতে।
বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, এই এলাকা কৃষি নির্ভর। এখানকার উৎপাদিত ফসল পূর্ব বর্ধমান ও বীরভূমের বিভিন্ন বাজারে পাঠান হয়। তবে বাজার ধরতে চাষিদের সময় লেগে যায়। কাজেই কজওয়ে তৈরি হলে চাষিরা চরম উপকৃত হবেন। বিশেষ করে সব্জি উৎপাদনকারি চাষিরা জমির ফসল গাড়ি করে বাজারে পাঠাতে পারবেন। স্থানীয় জেলা পরিষদ সদস্য মমতাজ বেগম বলেন, কুয়ে নদীর ওই জায়গায় কজওয়ে তৈরির আবেদন জেলা পরিষদে করা হয়েছে। আশাকরি দ্রুত এর ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। ভরতপুর ১ বিডিও দাওয়া শেরপা জানান, সমস্যার কথা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান হবে। কজওয়ে নির্মাণের জন্য পঞ্চায়েত সমিতির সঙ্গে আলোচনাও করা হবে। -নিজস্ব চিত্র