Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

বছরের শেষ দিনেও ধর্মঘটে ডেলিভারি কর্মীরা, ‘১০ মিনিটে পরিষেবা’ বন্ধ করার দাবি, নাজেহাল সাধারণ মানুষ

বুধবার, বছরের শেষ দিনে ফের দেশজুড়ে ধর্মঘটে শামিল হলেন ‘গিগ’ কর্মীরা। এনিয়ে একমাসে দু’বার

বছরের শেষ দিনেও ধর্মঘটে ডেলিভারি কর্মীরা, ‘১০ মিনিটে পরিষেবা’ বন্ধ করার দাবি, নাজেহাল সাধারণ মানুষ
  • ১ জানুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: বুধবার, বছরের শেষ দিনে ফের দেশজুড়ে ধর্মঘটে শামিল হলেন ‘গিগ’ কর্মীরা। এনিয়ে একমাসে দু’বার। গত সপ্তাহে ২৫ ডিসেম্বর, বড়দিনে দেশব্যাপী ধর্মঘটে শামিল হয়েছিলেন ‘গিগ’ কর্মীরা। ফলে কার্যত মুখ থুবড়ে পড়ে অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবা। বুধবার ফের তাঁদের ধর্মঘটে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন সাধারণ মানুষ। এদিন ধর্মঘটে অংশ নেওয়া ‘গিগ’ কর্মীদের হুঁশিয়ারি, ‘টেন মিনিটস ডেলিভারি’র টার্গেট অবিলম্বে বন্ধ করা না হলে এবার লাগাতার আন্দোলনে শামিল হবেন তাঁরা। যদিও বছর শেষ ও নতুন বছরের প্রথম দিনে বাড়তি ইনসেনটিভ দেওয়ার কথা জানিয়েছে কয়েকটি সংস্থা।

Advertisement


শ্রম কোড আইন প্রত্যাহার, ফসলের ন্যূনতম সহায়ক মূল্যকে (এমএসপি) আইনের আওতায় নিয়ে আসার মতো দাবি সহ একাধিক এজেন্ডায় আগামী ১৬ জানুয়ারি সারা দেশে যৌথভাবে মোদি বিরোধী প্রতিরোধ দিবসের ডাক দিয়েছে শ্রমিক, কৃষক এবং খেতমজুরদের সংগঠন। জানা যাচ্ছে, ওই প্রতিরোধ দিবস কর্মসূচিতে এবার শামিল হতে পারেন ‘গিগ’ কর্মীরাও। অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদেরও সরাসরি মোদি বিরোধিতার রাস্তায় নেমে পড়াকে স্বাভাবিকভাবেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। 


‘গিগ’ কর্মীদের অভিযোগ, তাঁরা দিনে ১৪ ঘণ্টারও বেশি কাজ করেন। কিন্তু সব মিলিয়ে দিনে হাজার টাকাও আয় হয় না। প্রতিবাদ করলেই আইডি ব্লকের হুমকি দেওয়া হয়। অনেক সময়ই ‘শাস্তি’স্বরূপ দৈনিক ডেলিভারি কমিয়ে দেওয়া হয়। ফলে আয় আরও কমে যায়। পাশাপাশি, ১০ মিনিটে ডেলিভারি করতে না পারলে সেই আর্থিক দায়ও ‘গিগ’ কর্মীদের উপরেই চাপানো হয়। দ্রুত ডেলিভারি করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে সংস্থা কোনও দায়িত্ব নেয় না। বুধবার ‘গিগ অ্যান্ড প্ল্যাটফর্ম সার্ভিস ওয়ার্কার ইউনিয়ন’-এর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অবিলম্বে এহেন কর্মীদের মাসে স্থায়ী মজুরির ব্যবস্থা করতে হবে। তুলে দিতে হবে ডেলিভারির সময়সীমা সংক্রান্ত লক্ষ্যমাত্রা। প্রত্যেক ‘গিগ’ কর্মীকে সামাজিক সুরক্ষা পরিষেবার আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাঁদের স্বাস্থ্যবিমা এবং দুর্ঘটনা-বিমার বন্দোবস্তও করতে হবে। 
সম্প্রতি সংসদে ‘গিগ’ কর্মীদের দুর্দশা নিয়ে সরব হয়েছিলেন আম আদমি পার্টির রাজ্যসভার সাংসদ রাঘব চাড্ডা। এদিন তিনি জানান, প্রয়োজনে আমি অনলাইন ডেলিভারি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত কর্মচারীদের হয়ে কেন্দ্রের সঙ্গে মধ্যস্থতা করব। কিন্তু সর্বাগ্রে মোদি সরকারকে এব্যাপারে সদর্থক ভূমিকা নিতে হবে। নতুন বছরের আগে দিল্লির ওল্ড রাজিন্দর নগরে ‘গিগ’ কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার পাশাপাশি একসঙ্গে চা পানও করেন চাড্ডা।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ