নয়াদিল্লি: আমেরিকা থেকে আগামী বছর ২২ লক্ষ টন রান্নার গ্যাস কিনবে ভারত। রাশিয়ার থেকে তেল কেনার শাস্তি হিসেবে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে ওয়াশিংটন। এই আবহেই আমেরিকার থেকে এলপিজি কেনার চুক্তি সারল ভারতীয় তেল সংস্থাগুলি। এতদিন পর্যন্ত আমেরিকার থেকে প্রয়োজন হলে এলপিজি কিনত ভারত। এই প্রথম আমেরিকার সঙ্গে এই নিয়ে চুক্তি হল। সূত্রের খবর, চড়া শুল্কেরআবহেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালাচ্ছিল। ভারতের সঙ্গে তাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর উপর জোর দেয় আমেরিকা। এই অবস্থায়
মার্কিন মন রাখতেই সে দেশ থেকে রান্নার গ্যাস কেনার বিষয়টি তুলে ধরে ভারত। সোমবার দিল্লির পক্ষ থেকে সরকারি বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘ইউএস গাল্ফ কোস্ট থেকে ২২ লক্ষ টন রান্নার গ্যাস কিনতে চুক্তি করেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি।’ কেন্দ্রীয় পেট্রলিয়ামমন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী এক্স হ্যান্ডলে লিখেছেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে প্রথম! বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এবং সম্প্রসারণশীল এলপিজি বাজার আমেরিকার জন্য খুলে দেওয়া হল।’
জ্বালানি ক্ষেত্রে ভারত স্বয়ংসম্পূর্ণ নয়। তবে অপরিশোধিত পেট্রোপণ্য বাইরে থেকে এনে তা সংশোধন করে ব্যবহারের দিক দিয়ে ভারত জ্বালানি তেলে উদ্বৃত্ত। এলপিজির ক্ষেত্রে প্রায় ৩ কোটি ১০ লক্ষ টন চাহিদার ৬৫ শতাংশই ভারতকে সরাসরি আমদানি করতে হয়। ২০২৪ সালে মোট আমদানির ৯০ শতাংশ সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, কাতার এবং কুয়েত থেকে এনেছিল ভারত।
এদিকে, রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলির প্রতি আর্থিক নিষেধাজ্ঞা আরও জোরদার করা হবে বলে জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করতে মস্কোকে মাথা নোয়াতে বাধ্য করার জন্য আরও কঠোর পরিকল্পনার দিকে হাঁটছে মার্কিন প্রশাসন। পাশাপাশি এই নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব পাস করাতে সক্রিয় হয়েছেন রিপাবলিকান সদস্যরা। সেই সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে রবিবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমার সঙ্গে আলোচনা করেই রিপাবলিকানরা অগ্রসর হয়েছেন। যে সমস্ত দেশ রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাবে তাদের উপর কঠোর আর্থিক নিষেধাজ্ঞা চাপানো হবে।’