নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর সীমান্তবর্তী মালদহ জেলায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি পুলিশের। হোটেলগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে আবাসিকদের তথ্য, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
নিজস্ব প্রতিনিধি, মালদহ: দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডের পর সীমান্তবর্তী মালদহ জেলায় নিরাপত্তার কড়াকড়ি পুলিশের। হোটেলগুলিতে বিশেষ নজরদারি চালিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে আবাসিকদের তথ্য, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ। সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই চলছে জিজ্ঞাসাবাদ।
মালদহের পুলিশ সুপার প্রদীপ কুমার যাদব বলেন, হোটেলের রেজিস্টার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে ফুটেজও।
পুলিশ, প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, ইংলিশবাজার শহর সহ মালদহ জেলাজুড়ে প্রায় দুই শতাধিক হোটেল রয়েছে। এরমধ্যে লজ যেমন আছে, বিলাসবহুল ও ছোট হোটেলের সংখ্যাও কম নয়। এই প্রত্যেক হোটেলের অনলাইন এবং অফলাইন রেজিস্টার যেমন পুলিশ খতিয়ে দেখছে, একইসঙ্গে হোটেলে কারা আসছেন, তাঁদের সঙ্গে কেউ দেখা করতে আসছেন কি না, সেসবেও কড়া নজরদারি রয়েছে।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মালদহের বিভিন্ন হোটেলে এসে থাকা বোর্ডারদের মধ্যে সন্দেহজনক কিছু নজরে পড়লেই তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করছেন পুলিশকর্মীরা। আগে হোটেলের রিসেপশনে একটা রেজিস্টার থাকত। তাতে বোর্ডারের নাম, ঠিকানা এবং তাঁর পরিচয়পত্রের বিস্তারিত তথ্য তুলে রাখা হত। একদিন পর সেই তথ্য হোটেল থেকে পাঠানো হত স্থানীয় থানায়। কিন্তু এখন এই পুরো বিষয়টাই হচ্ছে অনলাইনে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর সমস্ত তথ্য পৌঁছে যাচ্ছে পুলিশের কাছে।
মালদহ মার্চেন্টস চেম্বার অফ কমার্সের সাধারণ সম্পাদক উত্তম বসাক বলেন, পুলিশ, প্রশাসন একটি পোর্টাল চালু করেছে। সেখানে হোটেল, লজগুলির রিয়েল টাইম তথ্য আপলোড হচ্ছে। যেমন একটা ফর্মে হোটেলে আসা সংশ্লিষ্ট বোর্ডারের নাম, ঠিকানা, তিনি কোথা থেকে আসছেন, তাঁর ছবি, সচিত্র পরিচয়পত্র সহ বিস্তারিত তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। যা কন্ট্রোল রুম বা থানায় বসেই পুলিশ সঙ্গে সঙ্গে দেখে নিতে পারছে। যার ফলে হোটেলগুলির দিকে আরও ভালো করে নজর রাখতে পারছে পুলিশ, প্রশাসন। দিল্লিতে লালকেল্লার কাছে ১০ নভেম্বর ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। তাতে দশজনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
এই বিস্ফোরণের পর থেকেই দেশজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু হয়েছে। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার সঙ্গে রাজ্য পুলিশ, এসটিএফ, রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ বাড়তি নজরদারি শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এসটিএফ এই তদন্তের নোডাল সংস্থা। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেই নজরদারি চালাচ্ছে পুলিশ। সেই সঙ্গে বিএসএফের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেছে পুলিশ, প্রশাসন। রাজ্যের সীমান্তবর্তী জেলাগুলির মধ্যে মালদহ অন্যতম।
এখানে দেড়শো কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে প্রায় ৩০ কিমি উন্মুক্ত। ফলে এখানে বাংলাদেশ হয়ে বিদেশি শত্রুদের অনুপ্রবেশের একটা জোরাল সম্ভাবনা থেকে যায়। তাই সীমান্তে যেমন বিএসএফ অতন্দ্র প্রহরা রয়েছে, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে পুলিশও নজরদারি বাড়িয়েছে।